NarayanganjToday

মিমি হোসেইন

সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ল্যাব এইড কার্ডিয়াক হসপিটাল

ধর্ষণ করতে কেমন লাগে?


আচ্ছা ধর্ষণ করতে কেমন লাগে? এই অনুভূতির তো কোনো তুলনাই করা যায় না অন্যকোনো অনুভূতির সাথে, তাই না! আর সেই অনুভূতিকে জোর করে খুবলে নিতে ঠিক কেমন লাগে আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে।

আর প্যাসিভ সাব্জেক্ট যদি হয় একটি ৪/৫ বছরের শিশু তখন স্বাদটা কী খুব আলাদা কিছু হয়! এই যেমন ছোটবেলায় অনেক মানুষকেই দেখতাম চড়ুই পাখি ফাঁদ পেতে ধরে তেলে ভেজে খেতে, তখন ভাবতাম এটায় আছে কি! আর খায় বা কি, আর খেতেই বা লাগে কেমন! এক কামড়ে দাঁতের নীচে ফেলে খেয়ে ফেলা যায় এই ছোট্ট শরীরখানা।

এই ছোট্ট শরীরগুলো স্পর্শ করলেও কী আপনাদের ভেতর সেই অনুভুতিগুলো একই ভাবে জেগে উঠে, নাকি শুধু মাত্র একটা যোনি আপনাদের সমস্ত কামের কেন্দ্রবিন্দু হয়, হোক তা একটা বিন্দুর সমান! অনেকে তো নিজের প্রয়োজন মতো টেনে হিচঁড়ে কেটেকুটে পছন্দ মতো রাস্তা তৈরি করে নেন, তাই না! তবু সুখ পেতে হবে, যেন সমস্ত শান্তি সেই এক বিন্দুর রহস্যে অন্তর্নিহিত!

দুই মিনিটের এক অসুস্থ অনুভূতির কারনে আপনি কী কী নিয়ে নিচ্ছেন তা হয়তো কখনোই বুঝতে পারবেন না। কারণ আজ পর্যন্ত কেউ আপনাদেরকে এমন কোনো কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে এই প্রশ্নগুলোর সম্মুখে আনেনি যার কারণে আপনার নিজের প্রতি নিজের ঘেন্না ধরে না। আপনি কী জানেন আপনার এই অসুস্থ সুখের বিনিময়ে আপনার কি শাস্তি হওয়া উচিত! আমি হলে শাস্তির বিধান করতাম-

২) লিঙ্গ কর্তন
২) ফাঁসি অথবা ফায়ারিং স্কোয়াড
৩) ভিক্টিমের বাবা- মায়ের হাতে তুলে দিয়ে প্রকাশ্যে পিটিয়ে মেরে ফেলা।

কিন্ত আফসোস এর কোনোটাই হবে না, কারণ আমরা চাইনা। আমরা চাই আমাদের দেশের উন্নতি হোক, বড় বড় রাস্তা, ফ্লাইওভার, নদীর উপর সেতু হোক, আমরা মহাকাশ মহাশূন্যে একদিক দিয়ে অত্যাধুনিক যন্ত্র পাঠিয়ে বিশ্বের দরবারে বাহবা পাই কিন্ত নিজেদের কন্যা সন্তানের নিরাপত্তা দিতে অপারগতার গ্লানি থেকে দূরে থাকি, কেন?

আমি আমার বাচ্চা মেয়েটাকে বড় করছি কী আপনার হাতের চাপে তার হাতের আঙুলগুলো মটমট করে ভাঙতে? তার গলায় যে আপনার দাঁতের গভীর ক্ষত তা দেখার পর আমার ভেতর কেমন লাগতে পারে তা একবার ভেবে দেখেছেন?

আপনি শুধু তার উপর নিজের ভেতরের নোংরা আবর্জনা নিঃসৃত করেই ক্ষান্ত হননি, আপনার হিংস্র পশুর থাবা বসিয়ে দিয়েছেন আমার পুতুলের মতো সোনামনির নরম গলায়, পাঁচ আঙুলের দাগ যেখানে দগদগ করছিলো। আপনারা মানুষ নন, সত্যি বলতে পশুরাও আপনাদের দেখলে হয়ত নিজেদের বিষ্ঠা ত্যাগ করবে আপনাদের মুখে, আর সেটাই করা উচিত।

এই দেশে বিচারের বানী নিরবে কেঁদে গেছে বছরের পর বছর। এই দেশে যুদ্ধাপরাধীদের পাতাল থেকে খুঁজে খুঁজে বের করে ঝুলিয়ে দিয়ে বাহবা পাওয়া মূখ্য, আমার ছোট্ট মেয়েটির নিষ্পাপ নিথর দেহ এখানে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, একদিনের মিডল পেইজের নিউজ, আর মাঝেসাঝে মানববন্ধনের নামে গেট টুগেদার।

আসলে কতদূর কী করতে পারছে আপনাদের প্রশাসন একবার বলবেন কি! আমাদের মনে অনেক প্রশ্ন, আপাতত সব উঠিয়ে এই বিষয়ের গুরুত্ব আপনারা কতোটুকু দিচ্ছেন জানতে চাই।

প্রতিটি অফিস আদালত আর সরকারি ভবন থেকে আপনাদের হাসিমুখের ছবিগুলোর পাশাপাশি এই ধর্ষিতাদের রক্তাক্ত যোনিপথ, কালশিটে পরা ঠোঁট, গলা আর উরুর ছবি ঝুলিয়ে দিন সাহস থাকে তো! এতোশত মন্ত্রনালয় তো বানাচ্ছেন আমাদের আর আমাদের কন্যা সন্তানদের নিরাপত্তার জন্য কি করছেন তার জবাব দিতে হবে, দিতেই হবে আপনাদের। আমাদের দায়িত্ব নিতে না পারলে নিজেদের অযোগ্য ঘোষণা দিন আর স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় না বানিয়ে পাড়ায় পাড়ায় খুলে দিন যোনি বিক্রির বাজার৷ অন্তত নিজের সন্তানকে এভাবে মরতে তো দেখবো না!

আমি দুই পুত্র সন্তানের মা, তবু বারবার আমি বলবো... "একজন ধর্ষকের মা হওয়া অপেক্ষা ধর্ষিতার মা হওয়া অধিক সন্মানের।"

প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। নারায়ণগঞ্জ টুডে-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য নারায়ণগঞ্জ টুডে কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

উপরে