NarayanganjToday

শিরোনাম

অপরাধীর বিরুদ্ধে কাজ করে সমালোচিত হয়েছি : এসপি হারুন


অপরাধীর বিরুদ্ধে কাজ করে সমালোচিত হয়েছি : এসপি হারুন

‘নিজের সাথে যা হয়েছে তা ষড়যন্ত্র’ দাবি করে সদ্য বিদায়ী পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ বলেছেন, অপরাধী যথন ফেঁসে যায়, মামলা হয়, গ্রেফতার হয় অথবা তদবির করে ব্যর্থ হয় তখন তারা একটা কথাই বলে ‘পুলিশ আমার কাছ থেকে টাকা চেয়েছে’। সম্ভবত পুলিশের উপর দোষ চাপানোর জন্য এটাই সহজ কাজ।

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরের দিকে মাসদাইর এলাকায় পুলিশ লাইন্সে জেলা পুলিশের আয়োজনে বিদায় সংবর্ধনাকালে ওই কথা বলেন তিনি।

এসপি হারুন বলেন, আমি অপরাধীর বিরুদ্ধে কাজ করেছি। আইনের স্বার্থে কাজ করেছি। এ নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। এটা একটা ষড়যন্ত্র। তদন্ত হলেই আসল সত্য বের হয়ে আসবে।

তিনি বলেন, আমার সামনে আমার সহকর্মীর মাথায় কেউ পিস্তল তাক করবে আর সেটা আমি সহ্য করবো! তা হতে পারে না। তাই সেদিন আমার সহকর্মীর মাথায় পিস্তল ধরেছিলো পারটেক্স গ্রুপের রাসেল। আমি তখন ভেবে দেখিনি সে সম্পদশালী নাকি শক্তিশালী। আমি আইন মোতাবেক কাজ করেছি। বিধি মোতাবেক তাকে চ্যালেঞ্জ করে তার গাড়ি আটকিয়ে মাদক ও গুলি পেয়েছি। সে অস্ত্রসহ পালিয়েছে।

হারুন বলেন, আমরা তার বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে। গুলশান ডিসিকেও এ ব্যাপারে অবগত করা হয়েছিলো। রাসেলের ছেলে বলেছিলো অস্ত্র সম্পর্কে তথ্য দিয়ে সাহায্য করবে। তাই তাকে আনা হচ্ছিলো। কিন্তু তার মা তখন বললো, তার ছেলে বিদেশ থেকে লেখাপড়া করে এসেছে তাকে একা ছাড়াবে না। তিনি নিজেও আসতে চান। আমরা তাকেও সাথে করে নিয়ে আসছি। সম্মানের সাথে নিয়ে আসছি।

তিনি আরও বলেন, পরের দিন পারটেক্স গ্রুপের কর্ণধার আসলেন। তিনি নিজেও স্বীকার করলেন এই অস্ত্র রাসেলের কাছে থাকা নিরাপদ নয়। তিনিও এ ব্যাপারে সাহায্য করবেন বলে জানালেন। এ সংক্রান্ত একটি মুচলেকা দিলেন। আমি তার হেফাজতে রাসেলের স্ত্রী পুত্রকে ছেড়ে দিলাম। এমনকি তাদেরকে আমার বাসায় নিয়ে সম্মানের সাথে বিশ্রাম নিতে দিলাম এবং আপ্যায়ন করলাম। অথচ একটা গ্রুপ বিষয়টিকে ভিন্ন ভাবে নিয়ে অভিযোগ দিয়েছে।

বিদায়ী এসপি আরও বলেন, এর আগে আনিছুর রহমান সিনহাকে আটক করেছিলাম। তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট রয়েছে। পরদিন তাকে আদালতে প্রেরণ করবো। কিন্তু তিনি একজন ব্যবসায়ী। ভিআইপি মানুষ। তিনি এক সপ্তাহের সময় নিলেন। বললেন, এরমধ্যে ওয়ারেন্ট সব কাটাবেন। তার সম্মানটা যাতে নষ্ট না করি। ভিআইপি। সম্মানিত ব্যক্তি বলে সেদিন তাকে ছাড়া হয়। তিনিও মুচলেকা দিয়েছিলেন এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি সব মামলায় আদালতে হাজির হবেন।

তিনি বলেন, আনিছুর রহমান সিনহা কিংবা পারটেক্স গ্রুপের হাশেম সাহেব আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ তুলেছেন ওই পক্ষটি। যে পক্ষটি আমার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ। যারা সন্ত্রাস করতে পারেনি। চাঁদাবাজি করতে পারেনি। মাদক ব্যবসা, ভূমিদস্যুতা করতে পারেনি আমার জন্য। সেই তারাই অভিযোগ দিয়েছে। এসব কিছুই তদন্ত হলে বের হয়ে আসবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।

হারুন বলেন, আমি আসার পূর্বে নারায়ণগঞ্জ কেমন ছিলো আর এখন কেমন আছে তা আপনারা অবগত আছেন। আমি কাউকে ছাড় দিই নাই। জেলার প্রতিটি সংসদ সদস্য, মেয়র আমাকে সাহায্য করেছেন। তারা কখনো কেউ কোনো রকম বাধা দেয়নি। তদবির করেনি। তাই আমি অপরাধীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে পেরেছি। নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিকদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তারা আমাকে যথেষ্ট সাপোর্ট করেছে। আমার পুলিশের প্রতিটি সদস্য আমাকে সহযোগিতা করেছি। তাই অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পেরেছি।

তিনি আরও বলেন, জেলায় ২ হাজার পুলিশ সদস্য আছে। একটি পরিবার। পরিবারে যেমন পাঁচজন সন্তান থাকলে, রাস্তায় চললে কারো না কারো ভুলত্রুটি হবেই। পুলিশেরও তেমন আছে। তাই আমার পরিবারের কোনো সদস্য যদি ভুলত্রুটি করে থাকে তাহলে তাদের পক্ষে আমি ক্ষমা চাচ্ছি। আপনারা তাদেরকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। তবে, অপরাধ করার ক্ষেত্রে যদি কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত ছিলো আমরা কিন্তু তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে। তা ইতোমধ্যে আপনারা দেখেছেন।

এসপি বলেন, পুলিশের মধ্যে একটা চেইঞ্জ আনতে চেয়েছিলাম। আমি মনে করি সেটা পেরেছি। পুলিশ এখন আগের থেকেও অনেক বেশি সাহসি। তারা এখন বুঝতে শিখেছি কীভাবে মোকাবেলা করতে হয়। অপরাধ ও অপরাধী দমনে কীভাবে কাজ করতে হয়। কতটা সাহস বুকে রাখতে হয় তা পুলিশ জানে। আমি সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসায়ীদের ছাড় দেব না আগেই বলেছিলাম। আমি যেখানেই যাই, যেখানেই থাকি এদের বিরুদ্ধে লড়াই চলবেই।

তিনি বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। জামাত শিবির আমার চাকরি খেয়ে দিয়েছিলো। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে আবার আমার চাকরি ফিরিয়ে দিয়েছেন। আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ। সারা জীবন আমি স্বাধীনতার স্বপক্ষে ছিলাম। বভিষ্যতেও থাকবো। আজীবন স্বাধীনতা বিরোধী ওই রাজাকার, আলবদরদের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করেই যাবো।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিদায় সংবর্ধনায় উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দীন, র‌্যাব-১১ এর সিইও লে. কর্ণেল কাজী শমসের উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাড. মাহবুবুর রহমান মাসুম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন, নূরে আলম, সুবাস সাহা, চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল প্রমূখ।

৭ নভেম্বর, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে