NarayanganjToday

শিরোনাম

খুনীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী চান না তাই বিচার হচ্ছে না : রাব্বি


খুনীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী চান না তাই বিচার হচ্ছে না : রাব্বি

দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে নানা আন্দোলন করে আসছেন সংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি। ন্যায় সঙ্গত এই বিচার কার্য গত ৮০ মাসেও শুরু হয়নি। অদৃশ্য কোনো এক অঙুলি হেলনির মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া থমকে গেছে। জমা পড়েনি ত্বকী হত্যার চার্জশিটও।

এ নিয়ে মেধাবী স্কুল ছাত্র নিহত ত্বকীর পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের সচেতন নাগরিকদের মাঝেও বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ। বিচার না পাওয়ার এই ক্ষোভ, আক্ষেপ প্রতি মাসের আট তারিখে উগড়ে দিয়ে বিচার দাবি করেই চলেছেন রফিউর রাব্বিসহ সমাজ সচেতন নাগরিকেরা।

প্রতিমাসের ন্যায় শুক্রবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর আলী আহম্মদ চুনকা নগর মিলনায়তনে ত্বকী হত্যার বিচার দাবি নিয়ে মোমশিখা প্রজ্জ্বলন করেছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট কর্মীরা। এতে সভাপতিত্ব করেন জোটের সভাপতি সাবেক সভাপতি জিয়াউল ইসলাম কাজল।

এই কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আক্ষেপের স্বরেই রফিউর রাব্বি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চান না বলেই ত্বকী হত্যার বিচার ৮০ মাসেও সম্পন্ন হয়নি। এমনকি এই বিচারকার্য শুরুও হয়নি। অথচ এই তিনিই  রাসেলের জন্মদিনে বলেন শিশু হত্যাকারীদের কখনই ক্ষমা করা হবে না। কিন্তু তিনি ত্বকী হত্যার বিচার করলেন না। এতেই বোঝা যায় তার কথা ও কাজে কোনো সঙ্গতি নাই। রাষ্ট্র প্রধানের কথার সাথে যখন তার কাজের অসঙ্গতি থাকে, তখন জনগণ এর কুফল ভোগ করে।

রাব্বি বলেন, আপনি যে কথা বলেন অনেক সময় তা রাজনীতি করার জন্য বলেন। দয়া করে সমস্ত কথাকে রাজনীতিতে পরিণত করবেন না। শিশু হত্যার বিচারের ব্যপারে আপনি যা বলেছেন তা বাস্তবায়ন করেন। ত্বকীর হত্যাকারী কারা তা তদন্তের আর বাকি নাই। সবই আপনি জানেন। আপনি বলেছেনও ত্বকী হত্যাকারী কারা তা আপনি জানেন। তারপরেও আপনি সুবিচারটা করেন নাই।

তিনি বলেন, ত্বকী হত্যার ঘাতক যারা তারা চিহ্নিত হবার পরেও তাদের আইনের আওতায় আনা হয়নি। প্রকাশ্য খুনিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। আপনি বলেছেন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সব কিছুতে আপনার আদেশ দেয়া- এই ব্যাপারটা মোটেই খারাপ না। হ্যাঁ আপনি আদেশ দিতে পারেন। কিন্তু বিচার বন্ধ রাখার নির্দেশ আপনি দিতে পারেন না। তারপরও মনে করছি আপনি ত্বকী হত্যার বিচার করবেন।

নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক শাহীম মাহমুদের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শঙ্কর রায়, খেলাঘর আসরের সভাপতি রথীন চক্রবর্তী, সমমনা সভাপতি দুলাল সাহা, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন, জেলা ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন প্রমূখ।

৮ নভেম্বর, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে