NarayanganjToday

শিরোনাম

লবণের মূল্য বৃদ্ধির গুজবে পুলিশের মাইকিং, বাজারে বাজারে অভিযান


লবণের মূল্য বৃদ্ধির গুজবে পুলিশের মাইকিং, বাজারে বাজারে অভিযান

শহর কিংবা শহরতলী, সর্বত্রই এখন লবণ নিয়ে চলছে লঙ্কাকা-। সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে লবণের দাম বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে। আর অমনিই পাইকারী দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন খুচরা বিক্রেতা আর খুচরা দোকানে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ।

এ নিয়ে শহরে যেমন চলছে হুলুস্থল কা- তেমনি শহরতলীর ফতুল্লা, বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জসহ সর্বত্রই চলছে এমন কা-। এসব স্থানের খুচরা দোকানে প্রতি কেজী লবণ ৩৫ টাকার স্থলে বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা করে। সেও আবার মুহূর্তের মধ্যে দোকানগুলোর লবণ শেষ হয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, দুপুরের পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে লবন কেজী প্রতি ১শ থেকে দেড়শ টাকা করে হবে। এমন খবর মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ার সাথে নারী পুরুষেরা এলাকার বিভিন্ন দোকানে ভিড় করেন। কেউ কেউ তিন থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত লবণ কিনে নেন। তবে, কোথাও কোথাও এমন গুজবকে কাজে লাগিয়ে ৩৫ টাকার লবণ ৫০ টাকা কেজিতেও বিক্রি হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে।

এদিকে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে লবণ নিয়ে যে কোনো গুজব মোকাবেলা এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসনকে মাঠে নামার নির্দেশ দিয়েছে।

ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) আসলাম হোসেন জানিয়েছেন, লবণের মূল্য বৃদ্ধি পায়নি। তারপরও দাম বেড়ে যাচ্ছে কেউ কেউ এমন গুজব ছড়াচ্ছে। আমরা সতর্ক রয়েছে। বিভিন্ন বাজারে পুলিশ পাঠিয়ে সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে। তবে, এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

অন্যদিকে শহরের নিতাইগঞ্জ থেকে আব্দুল করিম নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। ফেসবুকে লবণের দাম বৃদ্ধিও গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে।

সদর মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, নিতাইগঞ্জে দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দাম বেড়ে যাবে প্রচারণার পাশাপাশি ফেসবুকেও স্ট্যাটাস দিয়েছিলো আব্দুর করিম নামে ওই যুবক। সে কারণে তাকে আটক করা হয়েছে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) কামরুল ফারুক বলেন, আমরা দোকানীদের সাথে কথা বলছি। বিভিন্ন স্থান থেকে মেসেজ পাচ্ছি দাম বৃদ্ধির। ঘটনাস্থলগুলোতে পুলিশও পাঠাচ্ছি। তবে, এখনও পর্যন্ত তেমন কোনো বিশৃঙ্খলা ঘটেনি। আমরা সতর্ক রয়েছি।

বন্দর থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, মানুষ অতি উৎসাহিত হয়ে এমন খবর রটাচ্ছে। আমরাও দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে, দাম বেশি রাখা হচ্ছে এমন খবরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। কিন্তু এমন কোনো আলামত এখনও পাইনি। সাধারণ মানুষকে বলে দিচ্ছি নির্ধারিত মূল্যের বেশি যাতে তারা লবণ না কিনে। দোকানদারদেরকেও দাম বৃদ্ধি না রাখার নির্দেশ দিয়েছি। আমার তিনটি মোবাইল টিম বিভিন্ন বাজারে কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, ইউএনও স্যারের সাথে কথা হয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য বৃধবার সকাল থেকে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চলবে। আমরা সতর্ক রয়েছি।

এদিকে লবণের মূল্য বৃদ্ধির খবরে বাজার মনিটরিং করার জন্য সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম। তিনি শহরের দিগুবাবুর বাজার, কালির বাজার, বউ বাজার, নিতাইগঞ্জসহ বিভিন্ন বাজার পরিদর্শন করেন।

এছাড়াও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে শহরের মধ্যে তাৎক্ষণিক মাইকিং করা হয়েছে। বিভিন্ন বাজারে ম্যাজিস্ট্রেটসহ পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালিয়ে লবণের মূল্য তালিকা টানানোর জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।

১৯ নভেম্বর, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে