NarayanganjToday

শিরোনাম

ভিকটিম তরুণী ও অভিযুক্ত তরুণকে পিটিয়ে ক্লোজড এসআই


ভিকটিম তরুণী ও অভিযুক্ত তরুণকে পিটিয়ে ক্লোজড এসআই

শহরে একটি অভিযোগের ভিকটিম তরুণীকে শ্লীলতাহানী ও একই অভিযোগে অভিযুক্ত তরুণকে পেটানোর ঘটনায় সদর মডেল থানা পুলিশের এক এসআইকে ক্লোজড করা হয়েছে।

সোমবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে সদর মডেল থানার এসআই আমিনুর রহমানকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইন্সে যুক্ত করা হয়েছে।

প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি একটা ভুল বোঝাবুঝির হলেও আমরা এ্যাকশন নিয়েছি। ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে ক্লোজড করা হয়েছে।

এর আগে ১ ডিসেম্বর রাতে শহরের খানপুর ব্যাঙ্ক কলোনী এলাকায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী তরুণী এবং মুসলিম তরুণের সাথে প্রকাশ্যে ওই ঘটনায় লিপ্ত হন ওই এসআই ও দুই কনস্টেবল। এ ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে এসআই আমিনুর রহমানসহ তার দুই কনস্টেবলকে অবরুদ্ধ করে মানুষ। পরে সদর থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ব্যাঙ্ক কলোনী এলাকার জাহাঙ্গীরের ছেলে রফিকের সাথে স্থানীয় এক হিন্দু তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক ছিলো দীর্ঘদিনের। এর জের ধরে তারা স্বেচ্ছায় পালায় এবং মেয়েটি হিন্দু ধর্মত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করে। তবে, এর আগেই এ ঘটনায় মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে সদর থানায় এমন অভিযোগ করেন মেয়ের পরিবার। এর সূত্র ধরে এসআই আমিনুর ও দুই কনস্টেবল ভিকটিমকে উদ্ধার করতে ব্যাঙ্ক কলনো অভিযান চালায়। কিন্তু সেখানকার পঞ্চায়েত ওই দুই তরুণ-তরুণীকে তাদের পরিবার নিয়ে বসেন। তারা উভয় পক্ষকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, যেহেতু তারা বিয়ে করে ফেলেছে এবং মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক আর সে তার ইচ্ছেতে ধর্মান্তরিত হয়েছে এখন এটা নিয়ে কি আর করার? তাছাড়া তারা একে অপরকে ভালোবাসে। এখানে ধর্মটা বাধ সাধতে পারে না।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পঞ্চায়েতের কথায় উভয় পরিবারই সম্মত হয় এবং তাদের বিয়ে মেনে নেন। কিন্তু এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে এসে বাধ সাধেন পুলিশের ওই কর্মকর্তা। তিনি ও তার সাথে থাকা দুই কনস্টেবল মেয়েটেকি টানাহেঁচড়া করতে শুরু করেন। এবং বোরকা খুলে ফেলেন। এছাড়া অভিযুক্ত তরুণকে মারধর করতে করতে হাতকড়া পরিয়ে দুজনকেই থানায় নিয়ে আসার জন্য টানাহেঁচড়া শুরু করেন। কিন্তু এতে এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন এবং পুলিশের ওই তিন সদস্যকে আটকে রাখেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।

২ ডিসেম্বর, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে