NarayanganjToday

শিরোনাম

অসহায় মুক্তিযোদ্ধার পাশে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা


অসহায় মুক্তিযোদ্ধার পাশে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা

৭৫ বছর বয়সী একজন বৃদ্ধকে প্রায়ই দেখা যায় সোনারগাঁয়ের অলিগলিতে ফেরি করে ঔষধ ও চকলেট বিক্রি করতে। দেখতে সাধারন ফেরিওয়ালা মনে হলেও তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তার বাড়ি সোনারগাঁ পৌরসভার অর্জুন্দি গ্রামে। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরেও তার পরিবার স্বচ্ছলতার মুখ দেখেনি।  

বিজয়ের মাসে এ অসহায় মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফার পাশে দাঁড়িয়েছে সোনারগাঁয়ের সাদিপুর ইউনিয়নে অবস্থিত নয়াপুর রিয়াজুল জান্নাত মহিলা মাদরাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। ১০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকালে মাদরাসায় আমন্ত্রণ জানিয়ে তাকে ব্যাপক সংবর্ধনা দিয়েছে তারা। এছাড়া এক সপ্তাহের টিফিনের টাকা জমিয়ে তা উপহার হিসেবে তুলে দিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফার হাতে। 

নয়াপুর রিয়াজুল জান্নাত মহিলা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সাংবাদিক হাবিবুর রহমান জানান, এক সপ্তাহ পূর্বে তিনি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের নিকট বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফার বিষয়ে আলোচনা করেন। এরপর থেকে শিক্ষার্থীরা তার জন্য টিফিন না খেয়ে টাকা জমাতে শুরু করে। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানের পাশে দাঁড়াতে পেরে শিক্ষার্থীরা আজ অনেক আনন্দ পেয়েছে। এছাড়া মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষকবৃন্দ সহ সংশ্লিষ্ট সকলেই আজ আমরা অনেক আনন্দিত।   

বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা বলেন, নয়াপুর রিয়াজুল জান্নাত মহিলা মাদরাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আমাকে সংবর্ধনা দিয়েছে এবং তাদের সাধ্য অনুযায়ী আমাকে সহযোগিতা করেছে। আমি তাদের জন্য আজীবন দোয়া করে যাবো। 

তিনি আরও জানান,  প্রতি মাসে তিনি যে ১২ হাজার টাকা মুক্তিযোদ্ধা ভাতা হিসেবে পান এর মধ্যে ৭ হাজার টাকা তাকে বাড়ি ভাড়া বাবদ দেয়া লাগে। বাকি ৫ হাজার টাকায় তার চিকিৎসা ও সংসারের চাহিদা মেটানো সম্ভব হয় না। তাই জীবনের শেষ ইচ্ছা হিসেবে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট কয়েক শতাংশ জমি ও একটি ঘরের দাবি জানান।   
 

উপরে