NarayanganjToday

শিরোনাম

আলিফ হত্যায় মামলা : কি কারণে খুন, রহস্য উদঘাটনে ছুটছে পুলিশ


আলিফ হত্যায় মামলা : কি কারণে খুন, রহস্য উদঘাটনে ছুটছে পুলিশ

আমার পোলায় তো নিষ্পাপ। ওর লগে তো কারো কোনো শত্রুতা নাই। তারপরও ওরে ক্যান মারলো, কোন কারণে মারলো?- চিৎকার করে বারবারই কাঁদছিলেন নির্মম হত্যার শিকার শিশু শিহাব উদ্দিন আলিফের বাবা আলমগীর। পাশেই আলিফের খেলনা-পাতি হাতরে বিলাপ করছিলেন মা সালমা বেগম।

তাঁরা কেউই জানেন না কোন কারণে ওই অবুঝ শিশুটিকে হত্যা করা হলো। কার উপর প্রতিশোধ নিতে ঘাতকের দল ওই শিশুটিকে হত্যা করেছে? আশপাশের লোকদের মুখে মুখেও একই প্রশ্ন। পুলিশও হত্যার কারণের পিছনে ছুটছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এই হত্যায় সন্দেহভাজন হিসেবে আটক রিপনকে।

এদিকে ময়নাতদন্তের পর আলিফের পরিবারের কাছে শুক্রবার (১৭ আগস্ট) মরদেহ বুঝিয়ে দেয়া হয়। এরপরই আলিফের মরদেহ দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় চাঁদপুরে। সেখানেই সমাধিস্থ করা হবে বৃহস্পতিবার (১৬ আগস্ট) হত্যার শিকার আলিফকে।

এদিকে এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আলিফের বাবা আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে শুক্রবার সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। অপহরণ এবং হত্যার অভিযোগ এনে তিনি এই মামলাটি দায়ের করেন। এতে আসামী করা হয়েছে, অহিদ ও রিপনসহ আজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে। এরমধ্যে রিপন আটক রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে অহিদ।

বৃহস্পতিবার (১৬ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে নগরীর জল্লার পাড়া আমহাট্টা এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় চুন্নু মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া সৌদি প্রবাসী শিহাব উদ্দিন ওরফে আলিফ (৫)। এদিন বিকেলে প্রতিবেশী অহিদ ও রিপনের তালাবদ্ধ ঘরে বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাঁর মরদেহ।

এ ঘটনায় সদর মডেল থানা পুলিশ রিপন নামে এক যুবককে হত্যায় জড়িত সন্দেহে আটক করে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে জানার চেষ্টা চলছে হত্যা রহস্য এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট আর কে কে রয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত মুখ খুলেনি সে।

মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেন সদর মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “নিহতের বাবা আলমগীর বাদী হয়ে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় আটক রিপনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এছাড়া অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।”

এর আগে বৃহস্পতিবার কামরুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, “ধারণা করা হচ্ছে শ্বাসরোধ করে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। তবে এই হত্যার পিছনে কি এমন কারণ তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।”

এদিকে সদর মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) অজয় কুমার পাল জানিয়েছেন, “শুক্রবার অহিদ ও রিপনের ঘর তল্লাশী করা হয়েছে। সেখান থেকে কিছু আলমতও সংগ্রহ করা হয়। একই সময় পাশের বাসার মোকলেস মিয়ার স্ত্রী বিথী আক্তার নামে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে।”

অপরদিকে আলিফদের প্রতিবেশী ও আত্মীয় পিংকিং বেগম নামে একজন গৃহিণী জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার তাঁর ছেলে ফাহাদ ও আলিফ বাড়ির কাছেই খেলছিলো। বেলা ১১ টা থেকে আলিফকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। পরে তিনিসহ আলিফের মা আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজিও করেন। কিন্তু কোথাও সন্ধান মিলেনি আলিফের।

তিনি বলেন, পরে ফাহাদ জানায় তাঁরা যখন খেলছিলো তখন প্রতিবেশী অহিদ তাঁদের দুজনকেই ডেকে নিয়ে যায় ঘরে। এরমধ্যে ফাহাদকে দুই দফা চকলেট কিনতে পাঠায়। দ্বিতীয় দফা ফাহাদ চকলেট নিয়ে আসলে ‘আলিফ চলে গেছে’ জানিয়ে ফাহাদকে বিদায় করে দেয় অহিদ । পরে ফাহাদের দেয়া তথ্য মতেই আলিফকে অহিদের বাসায় খুঁজতে যাওয়া হয়। বিন্তু বাসা তালাবদ্ধ দেখে পাশের বাসার মোকলেসের স্ত্রী বিথী আক্তারের কাছে আলিফ সম্পর্কে জানতে চাইলে সে জানায় ‘কিছু জানে না, দেখেওনি’।

পিংকিং বেগম বলেন, ওই বাসায় অহিদ ও রিপন নামে দুজন যুবক ভাড়া থাকেন। তাঁদের একজন রিপনকে তাঁর কর্মস্থল থেকে ডেকে এনে বাসার তালা খুলতে বললে সে নানা ধরণের টালবাহানা করে। পরে এতে কিছুটা সন্দেহ হলে ঘরের তালা ভেঙে ফেলা হয়। ঘরে প্রবেশ করতেই একটি বস্তা দেখা যায়। বস্তাটি খুলতেই ইটের টুকরোর নিচে আরও একটি বস্তায় পলিথিন দিয়ে মোড়ানো আলিফের মরদেহ পাওয়া যায়।

১৮ আগস্ট, ২০১৮/এসপি/এনটি

উপরে