NarayanganjToday

শিরোনাম

মাসদাইরে ব্যবসায়ীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা


মাসদাইরে ব্যবসায়ীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা

ফতুল্লায় সুমন মিয়া (৩১) নামে এক ঝুট ব্যবসায়ীকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। পাওনা টাকা ফেরৎ চাওয়ায় দেনাদার পক্ষ তাঁর গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন জে¦লে দেয়।

শুক্রবার (৩১ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটেছে থানার পশ্চিম মাসদাইর পাকাপুল এলাকার হাবিব মিয়ার বাড়িতে। সে একই এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে। সুমনের ৯ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে এবং তাঁর স্ত্রী ৫ মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ঝুট ব্যবসায়ী সুমন মিয়া সোহেল ও বিপ্লবের কাছে ৭০ হাজার টাকা পাওয়া। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি ফোন ফেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায় সে। এসময় তাঁর মাকে বলে যায় বিপ্লবের কাছ থেকে পাওনা টাকা আনতে যাচ্ছে। এর কিছুক্ষণ পরেই তাঁর পরিবার জানতে পারে তাঁর শরীরে কে বা কারা যেন আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

সুমনের পরিবার জানায়, খবর পেয়ে সুমনকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে নগরীর খানপুর ৩‘শ শয্যা হাসপাতালে পরে এখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়। এখানে সে শনিবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে মারা যায়। তবে, মৃত্যুর পূর্বে সুমন ঘটনার বর্ণনা দিয়ে গেছেন। সেখানে তিনি চারজনের নাম বলে গেছেন।

সুমনের বোন রীতা জানান, সুমন জানিয়েছে বিপ্লবের কাছে পাওনা টাকা আনতে গেলে বিপ্লবের স্ত্রী শায়লা, মাসুদ ও সুমন মণ্ডল তাঁকে আটকে ফেলে আর বিপ্লব তাঁর গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনার পর থেকে এ চারজন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

এদিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নিহত সুমনের লাশ রাখা হয়েছে। ময়না তদন্তের পর লাশ মাসদাইরে নিয়ে আসা হবে বলে জানা গেছে।

অপরদিকে স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, বিপ্লব ও সুমন উভয়েই মাদক। এরমধ্যে সুমন এলাকাব্যাপী ‘তোতলা সুমন’ নামে পরিচত। তাঁর বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে মাদকের টাকার লেনদেন নিয়েই দ্বন্দ্ব ছিলো। আর এই দ্বন্দ্বের জেরে এই হত্যাকণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) শাহ মোহাম্মদ মঞ্জুর কাদের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “ঘটনাস্থলে স্বশরীরে আমি নিজেই গিয়েছি। স্থানীয়দের সাথে কথা বলেছি। এখনও মামলা হয়নি। তবে মামলা হবে। অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে।”

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮/এসপি/এনটি

উপরে