NarayanganjToday

শিরোনাম

সিদ্ধিরগঞ্জে আসল র‌্যাবের হাতে ‘ভুয়া র‌্যাব’ আটক


সিদ্ধিরগঞ্জে আসল র‌্যাবের হাতে ‘ভুয়া র‌্যাব’ আটক

শাহীন আলম তারেক ওরফে সজীব, তিনি র‌্যাব-১১’র এএসপি! তার কাছে কি নেই? সবই আছে। পুলিশের আইডি কার্ড থেকে শুরু করে তার নামে ইস্যু হওয়া দাওয়াতি কার্ডও রয়েছে। শুধু কি তাই? তার কাছে আরও রয়েছে বিভিন্ন সময়ে র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে তোলা ছবি, প্রধানমন্ত্রী’র স্বহস্তে পরিয়ে দিচ্ছেন ‘পুলিশ পদক’ এমন ছবিও! অথচ এসব কিছুই তার ভুয়া যা প্রকাশ পেয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে র‌্যাব-১১’র হাতে আটক হওয়ার পর।

মঙ্গলবার (২ অক্টোবর) রাতে রাতে সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার শিমরাইল এলাকা র‌্যাব-১১ সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রতারক শাহীন আলমকে আটক করে। সে নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার এখলাসপুর গ্রামের হাজী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর ছেলে। সে বিভিন্ন সময়ে নিজেকে তারেক, লিটন ও এএসপি সজীব নামে পরিচয় দিয়ে প্রতারনার মাধ্যমে নানাজনের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।

তার কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে একটি ভুয়া পুলিশ আইডি কার্ড, বিপুল পরিমান পুলিশের ভিজিটিং কার্ড, পুলিশ ও র‌্যাবের ইউনিফর্ম পরিহিত ছবি, এএসপি সজিব নাম সম্বলিত পরিচয়দানকারী দাওয়াত কার্ড এবং তিনটি মোবাইল ফোন।

বুধবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় র‌্যাব-১১ এর সহকারি পরিচালক নাজমুল হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব সাংবাদিকদের এ তথ্য জানায়।

র‌্যাব-১১ এর সিনিয়র সহকারি পরিচালক আলেপ উদ্দিন জানান, সজিব মূলত একজন পেশাদার প্রতারক চক্রের সদস্য। তার নিজ এলাকাতেও সে প্রতারক লিটন হিসেবে পরিচিত। সে র‌্যাব-১১ এর এএসপি পরিচয়ে এ পর্যন্ত নয়টি বিয়ে করেছে। প্রতারক সজিব দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ এলাকায় র‌্যাবের এএসপি হিসাবে পরিচয় দিয়ে সাধারণ লোকের কাছ থেকে মামলার তদ্বির, আসামী ছাড়ানোর জন্য বিপুল অংকের অর্থ আদায় করাসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংগঠিত করে আসছিল।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে আস্থা অর্জন করার জন্য সে বিশেষ কৌশলের আশ্র্রয় নিতো। সে তার মোবাইলে ফটোশপের মাধ্যমে পুলিশ ও র‌্যাবের বিভিন্ন ঊর্ধ্বত কর্মকর্তার র‌্যাংকব্যাজ পরিহিত ছবির সাথে তার নিজের ছবি এডিটিং করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণাসহ বিভিন্ন ধরণের অপরাধ সংগঠিত করত। এমন কি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাকে রাষ্ট্রীয় পদক পরিয়ে দিচ্ছেন সম্বলিত একটি ভুয়া ছবিও তার মোবাইলে পাওয়া যায়। সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারনা করার জন্য রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে তাকে মিটিংরত অবস্থায়, পুলিশের ট্রেনিংরত অবস্থা সম্বলিত ভুয়া ছবিও সে ব্যবহার করে।

আলেপ উদ্দিন আরও জানান, প্রতারক সজীব শুধু এএসপি পরিচয়ই দিতনা, প্রতারনা করার জন্য মানুষের শ্রেনী বুঝে সে কখনো পুলিশের এসআই, কখনো র‌্যাবের ওয়ারেন্ট অফিসার পরিচয় প্রদান করে আসছিল। র‌্যাব-১১ এর আভিযানিক দল তার কাছে বিপুল পরিমান বিয়ের দাওয়াত কার্ড জব্দ করে, যা পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় কার্ড গুলো তার নিজের বিয়ের, সেখানেও বর হিসেবে এএসপি সজীব নাম লিখা। দাওয়াত কার্ডগুলোর উপরে র‌্যাব ও পুলিশের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম ঠিকানা লেখা ছিল।

আটকের পর র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে সজীব স্বীকারোক্তিতে জানায়, সে মাত্র সাত দিন আগে প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় তার নবম বিয়ে সম্পন্ন করেছে। নববধুকে এই কার্ডগুলো দেখিয়ে বিশ^স্ততা অর্জন করাই তার লক্ষ্য ছিল।

আলেপ উদ্দিন জানান, এছাড়াও ভুয়া এএসপি পরিচয় দিয়ে নারারায়ণগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্নজনের কাছ থেকে বিদেশে লোক পাঠানোর কথা বলে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত পহেলা অক্টোবর সিদ্ধিরগঞ্জ হাউজিং এলাকায় প্রতারনার উদ্দেশ্যে তিন কোটি টাকা মূল্যের একটি বাড়ী ক্রয়ের জন্য এএসপি পরিচয় প্রদান করে ভয়ভীতির প্রদর্শনেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

তিনি আরও জানান, আটককৃত প্রতারক সজীবকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার সাথে জড়িত প্রতারক চক্রের অন্যান্যদের গেস্খফতারের চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে সজীবের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরে প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

৩ অক্টোবর, ২০১৮/এসপি/এনটি

উপরে