NarayanganjToday

শিরোনাম

সিদ্ধিরগঞ্জে ৯নম্বর বিয়ে করে ফাঁসলেন এএসপি!


সিদ্ধিরগঞ্জে ৯নম্বর বিয়ে করে ফাঁসলেন এএসপি!

শাহীন আলম তারেক ওরফে সজীবের বয়সমাত্র ২৯ বছর, এরই মধ্যে তিনি সম্পন্ন করেছেন ৯ম বিয়ে! সে-ও আবার নিজেকে র‌্যাবের এএসপি পরিচয় দিয়ে তিনি একে একে ৯টি বিয়ে সম্পন্ন করেন। তবে এসব বিয়ের নেপথ্যে রয়েছে তার বিশাল পরিকল্পনা। মূলত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিজেকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন অফিসার পরিচয় দিয়ে তিনি বিয়ে করেন এবং এরপর শুরু হয় তারা প্রতারণা।

মাত্র এক সপ্তাহ আগে এই প্রতারক সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় নবম বিয়ে সম্পন্ন করেন। তাকে এলাকার সকলেই জানেন র‌্যাবের এএসপি সজীব হিসেবে। চিটাগাং রোড এলাকাতেও র‌্যাবের এএসপি হিসেবে রয়েছে তার পরিচিতি।

অবশেষে তার এসব কুকৃর্তি ফাঁস হয়ে যায় র‌্যাব-১১’র অভিযানে। আটক হয় এই প্রতারক। উদ্ধার করা হয় তার কাছ থেকে প্রতারণার হাতিয়ার হিসেবে এডিট করা বিভিন্ন ছবি।

মঙ্গলবার (২ অক্টোবর) রাতে রাতে সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার শিমরাইল এলাকা র‌্যাব-১১ সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই প্রতারকে আটক করে। সে নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার এখলাসপুর গ্রামের হাজী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর ছেলে।

র‌্যাব-১১ জানায়, সে বিভিন্ন সময়ে নিজেকে তারেক, লিটন ও এএসপি সজীব নামে পরিচয় দিয়ে প্রতারনার মাধ্যমে নানা জনের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।

আটকের পর এই প্রতারকের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে একটি ভুয়া পুলিশ আইডি কার্ড, বিপুল পরিমান পুলিশের ভিজিটিং কার্ড, পুলিশ ও র‌্যাবের ইউনিফর্ম পরিহিত ছবি, এএসপি সজিব নাম সম্বলিত পরিচয়দানকারী দাওয়াত কার্ড এবং তিনটি মোবাইল ফোন।

আটকের পর র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে সজীব স্বীকারোক্তিতে জানায়, সে মাত্র সাত দিন আগে প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় তার নবম বিয়ে সম্পন্ন করেছে। নববধুকে এই কার্ডগুলো দেখিয়ে বিশ^স্ততা অর্জন করাই তার লক্ষ্য ছিল।

র‌্যাব-১১ এর সিনিয়র সহকারি পরিচালক আলেপ উদ্দিন জানান, সজিব মূলত একজন পেশাদার প্রতারক চক্রের সদস্য। তার নিজ এলাকাতেও সে প্রতারক লিটন হিসেবে পরিচিত। সে র‌্যাব-১১ এর এএসপি পরিচয়ে এ পর্যন্ত নয়টি বিয়ে করেছে। প্রতারক সজিব দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ এলাকায় র‌্যাবের এএসপি হিসাবে পরিচয় দিয়ে সাধারণ লোকের কাছ থেকে মামলার তদ্বির, আসামী ছাড়ানোর জন্য বিপুল অংকের অর্থ আদায় করাসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংগঠিত করে আসছিল।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে আস্থা অর্জন করার জন্য সে বিশেষ কৌশলের আশ্র্রয় নিতো। সে তার মোবাইলে ফটোশপের মাধ্যমে পুলিশ ও র‌্যাবের বিভিন্ন ঊর্ধ্বত কর্মকর্তার র‌্যাংকব্যাজ পরিহিত ছবির সাথে তার নিজের ছবি এডিটিং করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণাসহ বিভিন্ন ধরণের অপরাধ সংগঠিত করত। এমন কি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাকে রাষ্ট্রীয় পদক পরিয়ে দিচ্ছেন সম্বলিত একটি ভুয়া ছবিও তার মোবাইলে পাওয়া যায়। সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারনা করার জন্য রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে তাকে মিটিংরত অবস্থায়, পুলিশের ট্রেনিংরত অবস্থা সম্বলিত ভুয়া ছবিও সে ব্যবহার করে।

আলেপ উদ্দিন আরও জানান, প্রতারক সজীব শুধু এএসপি পরিচয়ই দিতনা, প্রতারনা করার জন্য মানুষের শ্রেনী বুঝে সে কখনো পুলিশের এসআই, কখনো র‌্যাবের ওয়ারেন্ট অফিসার পরিচয় প্রদান করে আসছিল। র‌্যাব-১১ এর আভিযানিক দল তার কাছে বিপুল পরিমান বিয়ের দাওয়াত কার্ড জব্দ করে, যা পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় কার্ড গুলো তার নিজের বিয়ের, সেখানেও বর হিসেবে এএসপি সজীব নাম লিখা। দাওয়াত কার্ডগুলোর উপরে র‌্যাব ও পুলিশের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম ঠিকানা লেখা ছিল।

৩ অক্টোবর, ২০১৮/এসপি/এনটি

উপরে