NarayanganjToday

শিরোনাম

স্বপ্নের শীতলক্ষ্যা সেতুর বাজেট পাশ : মেয়রের সফলতায় উচ্ছ্বসিত মানুষ


স্বপ্নের শীতলক্ষ্যা সেতুর বাজেট পাশ : মেয়রের সফলতায় উচ্ছ্বসিত মানুষ

স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে সকল সংসদ সদস্যই কথা দিয়েছিলেন সদর বন্দরের সাথে সহজতর যোগাযোগের ব্যবস্থার্থে সেতু নির্মাণের। বলা চলে, ভোটের আগে সবাই এই সেতুকে মুলো হিসেবে ঝুলিয়েছিলেন শীতলক্ষ্যার পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ের মানুষদের। কিন্তু নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার পর, সবাই সেসব ভুলে গিয়েছিলেন বেমালুম। তবে, ব্যতিক্রম ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

প্রথম নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী শীতলক্ষ্যার উভয় পাড়ের মানুষদের কথা দিয়েছিলেন ৫ নং ঘাট দিয়ে একটি সেতু নির্মাণের। তিনি দীর্ঘ ৭ বছর সে চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। বাধা এসেছিলো অনেক। অনেকেই চেয়েছিলেন এই সেতুটি যেন মেয়র নির্মাণ করতে না পারেন। তবে, এ বাধাগুলো ছিলো অনেকটাই রাজনৈতিক। কিন্তু শেষতক সেসব বাধার জাল ছিন্ন করে শীতলক্ষ্যার উপর দিয়ে সেতু নির্মাণের বাজেট পাশ করে নিয়ে এসেছেন মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী।

মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক) এর বৈঠকে এই সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ অনুমোদন দেয়া হয়। এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫‘শ ৭৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ধারণা করা যাচ্ছে আগামী চার থেকে পাঁচ মাসের মধ্যেই এ কাজ শুরু হবে। এটি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও এলজিআরডি’র যৌথ তত্বাবধায়নে নির্মিত হবে।

এদিকে দীর্ঘদিন পর হলেও সেতু নির্মাণ হচ্ছে, এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে দুই পাড়ের মানুষের মধ্যেই লক্ষ্য করা গেছে উচ্ছ্বাস। দুই পাড়ের মানুষের কাছে এই সেতুটির পুরো কৃতিত্ব মেয়র আইভী’র। তারা এটিকে মেয়র আইভী’র বড় একটি সফলতা হিসেবে দেখছেন।

অপরদিকে শীতলক্ষ্যার ৫ নং ঘাট দিয়ে সেতু নির্মাণের বাজেট পাশ হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপেরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীও বেশ উচ্ছ্বসিত। তিনি জানান, “আমি প্রথম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কথা দিয়েছিলেন এখান দিয়ে সেতু নির্মাণে চেষ্টা করবো। দীর্ঘ সাত বছরের প্রচেষ্টায় সেটি করতে পেরে আমি আনন্দিত।”

এই সেতুটির জন্য একনেকে অর্থ বরাদ্ধ দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মেয়র আইভী বলেন, “এই সেতুটি আমাদের নারায়ণগঞ্জবাসী স্বপ্ন ছিলো। আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।”

প্রসঙ্গত, জালকুড়িতে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করার ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং জ¦ালানি মন্ত্রণালয়ের সাথে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের চুক্তি সম্পাদন ও একনেকে এই প্রকল্প অনুমোদন। এছাড়াও জিমখানা বস্তি উচ্ছেদ করে বাবুরাইল খাল দখল অবমুক্ত করে হাতিরঝিল আদলে লেক নির্মাণ এবং নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি বঙ্গবন্ধু সড়ক থেকে হকার উচ্ছেদ।

৯ অক্টোবর, ২০১৮/এসপি/এনটি

উপরে