NarayanganjToday

শিরোনাম

চার লাশের পরিচয় শনাক্ত : কারা হত্যা করলো তাদের?


চার লাশের পরিচয় শনাক্ত : কারা হত্যা করলো তাদের?

আড়াইহাজারের পাঁচরুখী থেকে উদ্ধার হওয়া চার লাশের প্রত্যেকটিরই পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে রোববার বিকেলের দিকে একটি এবং সোমবার সকালে অপর তিনটি লাশের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। এসব লাশ শনাক্ত করে নিহতদের পরিবার।

সূত্র জানায়, উদ্ধারকৃত লাশগুলো লূৎফর মোল্লা, সবুজ সরদার, ফারুক প্রমানিক ও জহিরুলের। এদের মধ্যে রোববার লূৎফার মোল্লার লাশ শনাক্ত করেন তার স্ত্রী রেশমা আক্তার। সে গাড়ি চালক। থাকেন ঢাকার রামপুরা বাগিচারটেক এলাকায়।

অপর তিনজনের মধ্যে পাবনার আতাইকুলা থানাধীন পুষ্পপাড়া গ্রামের খাইরুল সরদারের ছেলে সবুজ সরদার, জামাল প্রমাণিকের ছেলে ফারুক প্রমানিক এবং একই গ্রামের জহিরুল। এদের মধ্যে সবুজ ও ফারুকের মরদেহ শনাক্ত করেন তাদের পিতা এবয় জহিরুলের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন তার শ^শুর নজরুল ইসলাম।

ফারুক প্রমাণিকের লাশের পরিচয় নিশ্চিত করে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার পিতা জামাল প্রমানিক। তিনি জানান, ফারুক রূপগঞ্জ গাউছিয়া রোডের বাস চালক। এক যুগেরও বেশি সময় সে এখানেই বাস চালায়। তিনি দাবি করেন, সোমবার (১৫ অক্টোবর) ডিবি পরিচয়ে গাউছিয়া থেকে একই গ্রামের ৪ জনকে ধরে নিয়ে যায়।

জামাল প্রমাণিক বলেন, ডিবি পরিচয়ে ধরে আনা চারজনের মধ্যে তিনজন সবুজ সরদার, ফারুক প্রমানিক ও জহিরুল।

অপরদিকে সবুজর সরদারের লাশ শনাক্ত করে তার পিতা খাইরুল সরদার জানান, তার ছেলে আগে অটো চালাতো। কিন্তু গত দুই সপ্তাহ আগে ঢাকায় কোনো একটি বেকারীতে কাজ নিয়েছে বলে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে, সবুজের সাথে আরও দুইজন নিখোঁজ হয়েছিলো।

এছাড়া জহিরুলের শ্বশুর নজরুল ইসলাম দাবি করেন, জহিরুল গ্রামের বেকারীতে কাজ করতো। তাকে ঢাকায় বেকারীতে কাজ করার কথা বলে ফারুক নিয়ে আসে। সে আরও তিনজনকে নিয়ে আসে একই কথা বলে।

অন্যদিকে রোববার শনাক্ত হওয়া লূৎফর মোল্লার স্ত্রী রেশমা আক্তার জানিয়েছিলো, তার স্বামী পেশায় একজন গাড়ি চালাক। তার সাথে কারো কোনো শত্রুতা ছিলো না। সে শুক্রবার বিকেলে বাসা থেকে বের হয়। এরপর তার সাথে এদিন রাত ১টায় শেষ কথা হয়েছিলো। পরে আর তার ফোন খোলা পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় শনিবার রামপুরা থানায় একটি জিডিও করা হয়েছিলো। 

এর আগে রোববার ভোরের দিকে আড়াইহাজার উপজেলার পাঁচরুখী মহাসড়ক থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে পুলিশ। তাদের মাথায় গুলি ও মুখম-ল থেঁতলানো ছিলো। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি গুলি ও দুটি পিস্তলসহ একটি সিলভার কালারের মাইক্রো উদ্ধার করে।

এদিকে উদ্ধার হওয়া চার লাশের পরিচয় শনাক্ত হলেও এখন সবার মাঝেই একটা প্রশ্ন, করা তাদের হত্যা করলো? এর পিছনে কী এমন কারণ থাকতে পারে?

২২ অক্টোবর, ২০১৮/এসপি/এনটি

উপরে