NarayanganjToday

শিরোনাম

পরিবহন সঙ্কটে বিপর্যস্ত না.গঞ্জের জনজীবন, ভোগান্তিতে ক্ষোভ


পরিবহন সঙ্কটে বিপর্যস্ত না.গঞ্জের জনজীবন, ভোগান্তিতে ক্ষোভ

৮ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দেশব্যাপী পরিবহন শ্রমিকদের ৪৮ ঘণ্টার (রোববার-সোমবার) কর্মবিরতীর কারণে নারায়ণগঞ্জের জনজীবন স্থবীর হয়ে পড়েছে। স্কুল কলেজ ও কর্মস্থলে যাওয়া মানুষের ভোগান্তি ছিলো চরম পর্যায়ে।

যানবহন বন্ধ থাকায় রিক্সা, টেম্পোতে অতিরিক্ত ভাড়ায় অভ্যন্তরীণ রুটে জনসাধারণ স্বল্প দূরত্বে যাতায়াত করতে পারলেও নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় যাতায়াত ছিলো রীতি মতো মরার উপর খড়ার ঘাঁ।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পণ পরিবহন থেকে শুরু করে যাত্রী পরিবহনের সকল ধরণের যানবাহন ছিলো বন্ধ। রিকশা আর কিছু টেম্পু ছাড়া মানুষের যাতায়াতে আর কোনো অবলম্বনই ছিলো না। তবে এসবে যাতায়াত করা গেছে স্বল্প দূরত্বে। কিন্তু গুণতে হয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া। সে-ও আবার রয়েছে এসবের সঙ্কটও। সব মিলিয়ে জনসাধারণের ভোগান্তি ছিলো অবর্ণনীয়।

শনিবার সাংসদ শামীম ওসমানের জনসমাবেশের কারণে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ যোগাযোগসহ অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রা ছিলো দুরূহ। এখন আবার আরও ৪৮ ঘণ্টার জন্য এই দুর্ভোগ পোহাতে হবে জনসাধারণকে। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ছিলো সাধারণ মানুষদের মাঝে। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের খেটে খাওয়া মানুষদের ক্ষোভ ছিলো আকাশসম।

গার্মেন্টে যাবে আয়েশা। সকাল সকাল রাস্তায় বেরিয়ে আসছে সে। তার কর্মস্থল আদমজী ইপিজেড। চাষাড়ায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো যানবাহন না পেয়ে কিছুদূর হেঁটে গিয়ে আরেকজনের সাথে অতিরিক্ত টাকায় রিকশায় চড়তে হয় তাকে। এ নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কয় ট্যাকা বেতন পাই আমরা? ৭০ ট্যাকা দিয়া যদি কামে যাই আমু কয় ট্যাকায়? গরীবের লাইগা এই দেশ না। আমরা এখন রোহিঙ্গা হইয়া গ্যাছি।

ডেমরার সামছুল হক খান কলেজে পড়েন জিন্নাত। চাষাড়ার জেলা পরিষদের কাছ থেকে তাকে সেই কলেজে যেতে হবে। অন্য যেকোনো দিন লোকাল বাসে চড়েই সে কলেজে গিয়েছে। আজ রাস্তায় এসে এর কিছুই পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে তাকে রিকশায় চড়তে হয়। গুণতে হয় অতিরিক্ত টাকা।

একই ভাবে দুর্ভোগের কথা জানালেন সাইফুল ইসলাম। চাষাড়া থেকে তিনি যাবেন পল্টনে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা তিনি। কোনো মতে সাইনবোর্ড পর্যন্ত আসেন। এখানে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে কয়েকগুল বেশি টাকায় একটি মোটর বাইকে চড়ে বসেন আরও একজন যাত্রীর সাথে। তবে, এই বাইক মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার পর্যন্তই যাবে। তারপর অন্য কোনো ভাবে পৌঁছাতে হবে তার গন্তব্যে।

আয়েশা, জিন্নাত আর সাইফুলই নয়, তাদের মতো লাখো লাখো মানুষ প্রতিদিন নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা ও অন্যান্য স্থানে যাতায়াত করে থাকেন প্রয়োজনে। কিন্তু যানবাহন বন্ধ থাকায় এদের পড়তে হয়েছে চরম দুর্ভোগে। এরপরও তাদেরকে প্রয়োজনের তাগিদে যেতেই হচ্ছে নানা ঝক্কি ঝামেলা কাঁধে নিয়ে।

প্রসঙ্গত, সড়ত দুর্ঘটনার সকল মামলা জামিনযোগ্য এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানা প্রত্যাহারসহ ৮ দফা দাবিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ফেডারেশনের ডাকে রোববার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৬ টা থেকে কর্মবিরতী পালন করছে সকল ধরণের পরিবহন শ্রমিকেরা।

২৮ অক্টোবর, ২০১৮/এসপি/এনটি

উপরে