NarayanganjToday

শিরোনাম

প্রথমবারের মতো ‘বন্দুকযুদ্ধকে’ স্বাগত জানিয়ে শহরে আনন্দ র‌্যালি


প্রথমবারের মতো ‘বন্দুকযুদ্ধকে’ স্বাগত জানিয়ে শহরে আনন্দ র‌্যালি

দেওভোগের হৃদয় হাসান বাবু হত্যার চার্জশিটভূক্ত আসামী শীর্ষ সন্ত্রাসী হাসান ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ায় ঘটনায় আনন্দ র‌্যালি করেছে এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে নগরীতে এই র‌্যালিটি বের করে স্থানীয় বাসিন্দারা। ক্রসফায়ারের কোনো ঘটনাকে সমর্থন জানিয়ে এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে আনন্দ র‌্যালি করার নজির এটিই প্রথম।

এর আগে ২ ডিসেম্বর ভোরে সদর উপজেলার সৈয়দপুর আলামিন নগর এলাকায় র‌্যাব-১১ এর সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয় হাসান (৩৮)। সে দেওভোগ এলাকার হৃদয় হাসান বাবুসহ একাধিক হত্যা ও অস্ত্র, ডাকাতিসহ ২০ মামলার আসামী। দেওভোগের পানি ট্যাঙ্কি এলাকার মৃত ইয়াছিন ভূইয়ার ছেলে হাসান।

২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর পশ্চিম দেওভোগ চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় হৃদয় হাসান বাবুকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে হাসানসহ তার সহযোগিরা। এ ঘটনায় হাসানকে প্রধান আসামী করে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৮ থেকে ১০জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের হয়। মামলায় গ্রেফতার সেলিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং সে হত্যায় কারা কারা অংশ নিয়েছিলো তার বিশদ বর্ণনা করেন।

র‌্যাব-১১ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আলেপ উদ্দিন বলেন, রোববার ভোররাত ৪টার দিকে সদর উপজেলার সৈয়দপুর আলামিন নগর এলাকায় একটি বাসায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এ এসময় কয়েজন মাদক ব্যবসায়ী র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছোড়ে। র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। পরে ভেতরে প্রবেশ করে একজনের গুলিবিদ্ধ দেহ পরে থাকতে দেখে দ্রুত নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে চার রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল এবং আড়াই হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে ক্রসফায়ারে নিহত হাসানের মরদেহ দাফনের জন্য এলাকায় নিয়ে গেলে এলাকাবাসী এতে বাধা প্রদান করেন। পরে পুলিশের চেষ্টায় এলাকাবাসীকে শান্ত করে গভীর রাতে হাসানের মরদেহ দাফন করা হয়।

এর আগে নারায়ণগঞ্জের আরেক সন্ত্রাসী রকমতও ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার পর এলাকাবাসী মিষ্টি বিতরণ করেছিলেন। এছাড়াও রকমতের মরদেহে এলাকাবাসী ঘৃণা প্রকাশ করে থু থু নিক্ষেপও করেছিলেন। মৃত ব্যক্তিটি কতটা ঘৃণিত হলে মরদেহের সাথে মানুষ এমনটি করতে পারেন তা অনুমেয়। হাসানের ক্ষেত্রেও সেটিই প্রমাণিত। কতটা ক্ষোভ আর কতটা ঘৃণা তাকে ঘিরে জমা ছিলো এলাকাবাসীর মাঝে তা ২ ডিসেম্বর দাফনকালেই সেই চিত্র ফুটে ওঠেছে।

৪ ডিসেম্বর, ২০১৮/এসপি/এনটি

উপরে