NarayanganjToday

শিরোনাম

যত সোর্স ধরবো তত মাদক ব্যবসা কমবে : পুলিশ সুপার


যত সোর্স ধরবো তত মাদক ব্যবসা কমবে : পুলিশ সুপার

‘দাড়ি রেখে টুপি মাথায় দিয়ে গার্মেন্টস ব্যবসা করে চাঁদা তুলবেন, হয় আপনি থাকবেন নয় আমি থাকবো’ নারায়ণগঞ্জে যোগদানের দ্বিতীয় দিন এমন কথা বলেছিলেন বলে দাবি করেছেন পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ।

রোববার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গনে জেলার শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সদর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনাকালে ওই কথা বলেন তিনি।

পুলিশ সুপার বলেন, গার্মেন্টস থেকে চাঁদা নিবেন, আবার শ্রমিকদের নিয়ে শ্লোগান দিবেন। এখন কিন্তু গার্মেন্টস ঠিকভাবে চলছে। যারা অরাজকতা করেছিল তাদের ছাঁটাই করা হচ্ছে। যেখান থেকে আপনার রুজি আসছে সেই গার্মেন্টস আপনি বন্ধ করে দিবেন। তথা কথিত শ্রমিক নেতার কথায় বন্ধ করে দিবেন? আপনার মধ্যে কোনো বিবেক নাই? মালিক পরে তল দিয়ে শ্রমিক নেতাকে কোটি টাকা, প্যারাডো গাড়ি দিয়ে দিবে। আবার গার্মেন্টস শুরু। মাঝখান দিয়ে শ্রমিক শ্রমিকই থাকে, মুক্তিযোদ্ধাদের মতো।

হারুন অর রশিদ বলেন, যারা দেশের জাতির পিতাসহ তার পরিবারকে হত্যা করেছেন তারা এখনও বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাননি। এখনো তারা জেগে উঠেন, তারা এখনও আছেন। তারা ঘাপটি মেরে বসে আছেন, এখনো তারা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করেন, মুষ্টিমেয় কয়েকজনের শাস্তি হয়েছে। আপনারা মুক্তিযোদ্ধারা এক হন। আপনারা নিজেরা যখন দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকেন, মুক্তিযোদ্ধারা যখন রাজাকার জামাত শিবিরের নিকট মাথা নত করেন তখন দুঃখ লাগে, খারাপ লাগে। সকলকে একমঞ্চে থাকতে হবে।

তিনি বলেন, জেলায় শুধু মাদকের বিরুদ্ধে নয়, যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা আছি। সকল মানুষের জন্য আমার দরজা খোলা, কেউ যদি দেখেন মাদক ব্যবসা করে, মাদকের সাথে জড়িত আমাকে জানাবেন। কিংবা আমার কোনো পুলিশ অফিসার মাদক ব্যবসায়ীকে প্রশ্রয় দিচ্ছে, তাহলে নারায়ণগঞ্জে সেই পুলিশ অফিসার থাকবে, নয়ত আমি থাকবো। আমার প্রথম কাজ হবে সকল সোর্স ধরা। যত সোর্স আমি জেলে পাঠাবো তত মাদক ব্যবসা কমবে।

‘পুলিশ অফিসার থেকে শুরু করে যেই মাদকের সাথে যুক্ত থাকুক না কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’ জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, যে যত বড় ভাইয়ের লোক-ই হোক না কেন কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। গাজীপুরের জুট ব্যবসা, মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট, যুবলীগের সেক্রেটারি। সবাই ছয় মাস করে জেল খেটেছে। আমি এর আগেও কাউকে ছাড় দেই নাই। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমার কোনো আপোস নাই।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জসীম উদ্দিন হায়দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আলী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক ডেপুটি কমান্ডার এডভোকেট নুরুল হুদা, নারায়ণগঞ্জ সদরের কমান্ডার শাহজাহান ভূইয়া জুলহাস, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসনে আরা বেগম।

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮/এসপি/এনটি

উপরে