NarayanganjToday

শিরোনাম

কাউন্সিলর বাবুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের পরদিনই ইয়াবা কারবারি! (ভিডিওসহ)


কাউন্সিলর বাবুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের পরদিনই ইয়াবা কারবারি! (ভিডিওসহ)

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবুর বিরুদ্ধে সালাউদ্দিন দেওয়ান নামে সাবেক এক ফুটবলারকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় এহেন কর্ম ঘটিয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগি।

ভুক্তভোগির দাবি, সম্প্রতি নাসিকের ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে খারাপ আচরণ করায় এর প্রতিবাদ করেছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল কাদির। এসময় কাদিরের সাথে সাথে সাথে সালাউদ্দিনও বাবুর ওই কা-ে প্রতিবাদ করে। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে সদর মডেল থানা পুলিশ দিয়ে তাকে মাদক দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে।

পুলিশের দাবি, ১৭ নং ওয়ার্ড পাইকপাড়া এলাকার বাসিন্দা সালাউদ্দিন দেওয়ানকে ১০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়। সোমবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

তবে, সদর মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “প্রতিটি অপরাধীই আটক হওয়ার পর নিজেকে নির্দোষ প্রমাণে মরিয়া হয়ে উঠেন আর তাখনই পুলিশের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেন। এটাও ঠিক তেমনটি হয়েছে। তাছাড়া এতো সংখ্যক ইয়াবা দিয়ে তাকে আমরা কেন ফাঁসাতে যাবো? আমাদের লাভ কি?”

কাউন্সিলর বাবু পুলিশের মাধ্যমে সালাউদ্দিনকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে, এমন প্রশ্নে কামরুল ইসলাম বলেন, “তাকে যে দারোগা আটক করেছেন সে এই থানাতে একেবারেই নতুন। সে কাউন্সিলর বাবুকেও চিনে না। যে কথা ছড়াচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”

এদিকে সদর থানায় আটক থাকা অবস্থায় সালাউদ্দিন দেওয়ানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, “১৯ জানুয়ারি মেয়র আইভী পাইকপাড়াতে গিয়েছিলেন একটি উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন করতে। উদ্বোধন শেষে মেয়র চলে গেলে কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু প্রকৌশলীদের গালাগালি শুরু করে। তখন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল কাদির ভাই এর প্রতিবাদ করে তথন বাবু কাদির ভাইকেও গালাগাল শুরু করে। এসময় কাদির ভাইয়ের পক্ষ হইয়া বাবুরে কইছি, ‘ওই মিয়া গালাগালি করো ক্যা? এটা এলাকার মান সম্মান তুমি দুজন শিক্ষিত মানুষরে গালাগাল করবা। এই আছিলো আমার অপরাধ।”

তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনার পর রোববার (২০ জানুয়ারি) রাত একটার দিকে আমারে ঘুমের থেকে তুইলা আইনা, গরুর মতো হেচড়াইয়া আইনা এই মাদকের মামলা দিছে। আমি সিগারেট খাইনা, কোনো কিছু খাইনা। এলাকার সব মানুষ জানে। আমি মাদকের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদে সরব আছিলাম। লিফলেটও বিতরণ করছি। স্থানীয় মানুষদের জিজ্ঞাসা করলে আমার সম্পর্কে জানতে পারবেন।”

১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগটি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ করে নাই। তারে আমি নিজেও দেখি নাই। সালাউদ্দিনের পরিবারও আসছিলো আমার কাছে। আমি আরও ওসিকে রিকুয়েস্ট করেছি।”

তিনি আরও দাবি করেন, আমার বিরুদ্ধে তার (সালাউদ্দিন) পরিবারের কোনো ক্ষোভ নেই। আমার প্রতি মেয়র আইভীর ক্ষোভ, কাদিরের ক্ষোভ, খালিদের ক্ষোভ। তাই তারাই আমার বিরুদ্ধে এসব ছড়াচ্ছে। আমি শুনেছি সালাউদ্দিন মাদকের ডিলার। তবে, সে বেচে কিনা আমি দেখি নাই।”

পাইকপাড়ার আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতা খালিদ হাসান জানিয়েছেন, সালাউদ্দিন দেওয়ান একেবারেই একজন ভদ্রলোক হিসাবে এলাকায় পরিচিত। তিনি ইয়াবা ব্যবসা করাতো দূরের কথা তিনি জীবনে একটি সিগারেটও পান করেননি। পাইকপাড়ার সকল মানুষই এটা জানেন। সালাউদ্দিন দেওয়ান পাইকপাড়ার দেওয়ান বাড়ির পরিচিত একজন মানুষ। তিনি ওই এলাকার স্থায়ী একজন বাসিন্দা এবং পরিচিত মুখ।

এদিকে পাইকপাড়া নিবাসী নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কাদির বলেন, “কাউন্সিলর বাবুর অত্যাচারে এলাকাবাসী এখন অতিষ্ঠ।” তিনি বলেন, “এলাকার কাউন্সিলর হিসাবে তার নিয়ন্ত্রনেই রয়েছে ওই এলাকা। সব ধরনের অপরাধীরাও রয়েছে তার নিয়ন্ত্রনে। বাবু সব ধরনের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত।”

২১ জানুয়ারি, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে