NarayanganjToday

শিরোনাম

সাখাওয়াতের ছেলেকে তুলে নেওয়ার পরে ছাড়, শহরে তোলপাড়


সাখাওয়াতের ছেলেকে তুলে নেওয়ার পরে ছাড়, শহরে তোলপাড়

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দাবি, ‘মাদক সেবন (ড্রিংকস) করার সময় আটক করা হয়।’ কিন্তু পুলিশ পরিদর্শকের দাবি, ‘চার বোতল মদসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে।’ কিন্তু অ্যাড. সাখাওয়াতে অভিযোগ, তাকে নেতৃত্ব থেকে দূরে রাখার জন্যই তার ছেলেকে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তুলে নিয়েছিলো।

এ নিয়ে এখন শহরজুড়েই শুরু হয়েছে ব্যাপক তোলপাড়। প্রশ্ন উঠেছে, কেন সাখাওয়াতের ছেলেকে তুলে নেওয়া হয়েছিলো কেনই বা ছেড়ে দেওয়া হলো? পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দাবি, মদ্যপ অবস্থায় আটক করলেও পরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলের দিকে আলোচিত ৭ খুন মামলার প্রধান আইনজীবি অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খানের ছেলে শাহরিয়ার খানকে চাষাড়া থেকে তুলে নিয়ে যায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। শাহরিয়ারের সাথে তার আরও তিন বন্ধুকেও তুলে নিয়ে যায়। তারা হলেন, স্বপ্রব, তুহিন ও অনিক। শাহরিয়ার খান নগরীর হ্যারিটেজ স্কুলের ‘এ’ লেভেল পরীক্ষা সদ্য শেষ করে।

এদিকে এ ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। খবর শুনে আদালত থেকে ছুটে আসেন অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি ওই সময় ব্যস্ত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবি সমিতির নির্বাচন নিয়ে। সাখাওয়াত জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ঐক্যফ্রন্ট প্যানেলের নির্বাচনী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ছেলেকে তুলে নেওয়ার পর ডিবি পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলেও প্রথমে তারা বিষয়টি অস্বীকার করে। এসময় সাখাওয়াত বিভিন্ন জায়গায় ফোনে কথা বলতে থাকেন। এসময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ ঘটনার কিছু পরই সাদা রঙের একটি হাইয়েস গাড়ি এসে থামে সাখাওয়াতের বাড়ির কাছে। ওই গাড়িতে চড়ে বসে এই আইনজীবি। গাড়িটি চলে যায় খানপুর হাসপাতালের দিকে। এর একটু পরই সাখাওয়াত হোসেন খান ফিরেন তার ছেলে শাহরিয়ার খানকে সাথে নিয়ে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) নূরে আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ‘মদ্যপ অবস্থায় চারজনকে আটক করা হয়েছিলো। পরে মুচলেকা নিয়ে সাখাওয়াতের ছেলেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

তবে, ডিবি পুলিশের পরিদর্শক হুমায়ন আরও এক ধাপ এগিয়ে জানান, ‘চার বোতল মদ (কেরো)সহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা হচ্ছে।’

ঘটনার পর মুঠোফোনে বক্তব্য দেয়ার সময় কান্না জড়িত কন্ঠে আলোচত সাত খুন মামলার প্রধান অইনজীবি ও মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি জানিয়েছিলেন, ‘বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবি সমিতির নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ঐক্যফ্রন্ট প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি। নির্বাচনে দায়িত্ব না পালন করতে সকাল থেকেই তার মুঠোফোনে নানান যায়গা থেকে হুমকি আসছিলো। বিকেলে তিনি জানতে পারেন তার ছেলেকে ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে। তবে ডিবি বিষয়টি অস্বীকার করছে। তখন তিনি দাবি করেছিলেন,সরকার বিরোধী রাজনীতির ফলেই তার ছেলেকে প্রশাসন হয়রানি করেছে।’

তবে শাহরিয়ারের মুক্তির পর পুনরায় সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি। কথা না বলতে কোনো পক্ষ তাকে নিষেধ করেছে কি না প্রশ্ন করা হলে সাখাওয়াত বলেন, ‘সেটা না বলাই ভালো।’

অপরদিকে মুক্তির পর শাহরিয়ার জানায়, ‘উত্তর চাষাড়ায় বন্ধুর বাসায় যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি সাদা মাইক্রোবাসে তাদের তুলে নেয়া হয়।’

২৪ জানুয়ারি, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে