NarayanganjToday

শিরোনাম

৬ যুবকের দলবদ্ধ ধর্ষণে ঢামেকে কাতরাচ্ছে রূপগঞ্জের স্কুলছাত্রী


৬ যুবকের দলবদ্ধ ধর্ষণে ঢামেকে কাতরাচ্ছে রূপগঞ্জের স্কুলছাত্রী
প্রতীকি ছবি

১৩ বছর হবে কিশোরী মেয়েটির বয়স। রূপগঞ্জের ভুলতা ইউনিয়নের হাটাব এলাকার এই মেয়েটি স্থানীয় আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী। তাদের বাড়ির কাছের পারটেক্স সুগার মিলের কর্মচারী সুমন নামের যুবকের সাথে তার পরিচয় এবং ধরে সখ্যতা গড়ে উঠে।

এই সখ্যতার রেশ ধরে ২৮ জানুয়ারি পাশের উপজেলায় অবস্থিত ‘বাংলার তাজমহল’ ঘুরতে যাবার কথা বলে কিশোরীকে কৌশলে নিয়ে আসে যুবকটি। এরপর এদিন সন্ধ্যায় রাস্তার পাশ থেকে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় কিশোরীটিকে উদ্ধার করে সোনারগাঁ থানা পুলিশ। বর্তমানে সে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ওসিসি শাখায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

জানা গেছে, ওইদিন সুমন ওই কিশোরীটিকে কৌশলে নিয়ে আসে সোনারগাঁও উপজেলার পেরাবো এলাকায়। এখানে একটি নির্জন বাড়িতে দিনভর তাকে ধর্ষণ করে সুমনসহ তার আরও ৫ বন্ধু। পরে সন্ধ্যার দিকে একই এলাকার একটি রাস্তার পাশে কিশোরীটিকে মূমর্ষ অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বখাটের দল। স্থানীয়রা কিশোরীটিকে দেখতে পেয়ে থানা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কিশোরীটিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি শাখায় ভর্তি করায়।

সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ জানায়, কিশোরীটির অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ফলে কিশোরী ঘটনার পুরো বর্ণনা এখনও দিতে পারেনি। জানাতে পারেনি সুমনের সাথে আর কারা কারা ছিলো।

পুলিশ সূত্র জানায়, সুমন রূপগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুসুরী গ্রামের ওয়াজউদ্দিনের ছেলে। সে পার্শ¦বর্তী ইউনিয়ণ ভুলতার হাটাবো এলাকায় অবস্থিতি পারটেক্স সুগার মিলের কর্মচারী। এই মিলে যাওয়া আসার পথে তার সাথে পরিচয় প্রতিষ্ঠানের পাশ্ববর্তী বাড়ির ভাড়াটিয়া ও স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীর ছাত্রীর।

সুমন বিবাহিত হলেও ওই ছাত্রীর কাছে নিজের পরিচয় গোপন করে জানায় সে অবিবাহিত এবং ঢাকায় থাকে সে। এভাবেই আসা যাওয়ার পথে ওই স্কুলছাত্রীর সাথে সখ্যতা গড়ে উঠে সুমনের। কিন্তু এই সখ্যতাই যে স্কুলছাত্রীর জন্য কাল হবে সে কে জানতো।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে এই ঘটনার পর পুলিশ হিমেল নামে একজনকে আটক করলেও তাকে ছেড়ে দিয়েছে। একই সাথে মামলা মোকাদ্দমা না করতে ধর্ষিতার পরিবারকেও হুমকি ধামকি দিয়ে বেড়াচ্ছে ধর্ষণ ঘটনার মূলহোতা সুমনসহ তার সহযোগিরা।

 ধর্ষণ শিকার স্কুলছাত্রীর পরিবারের বরাত দিয়ে সোনারগাওঁ থানার ওসি (তদন্ত) সেলিম মিয়া জানান, সোমবার ‘বাংলার তাজমহল’ বেড়ানোর কথা বলে রূগঞ্জ থেকে স্কুলছাত্রীকে কৌশলে নিয়ে যায় সুমন। পরে পেরাবো গ্রামের একটি নির্জন বাড়িতে সে এবং তার ৫ সহযোগী দিনভর কিশোরীকে ধর্ষণ করে সন্ধ্যায় সেখানে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

তিনি বলেন, রাস্তার পাশে কিশোরীটিকে পরে থাকতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়। বর্তমানে সেখানকার ওসিসি শাখায় আক্রান্ত কিশোরী মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

সেলিম মিয়া বলেন, আক্রান্ত কিশোরীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় এবং সে ঘটনাস্থল সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ননা দিতে না পারায় এখনও পর্যন্ত মামলা নিতে পারেনি পুলিশ। সে সুস্থ হলে মামলা রুজু হবে।

এদিকে ধর্ষিতার পিতা ও স্থানীয় কবিরাজ চিকিৎসক জানান, ঘটনার পরপরই সুমনের শ্যালক ও হাটাব গ্রামের কুদ্দুস মিয়ার ছেলে হিমেলকে পুলিশ আটক করলেও পরে ছেড়ে দেয়। এছাড়া সুমন ও তার সহযোগীরা মামলা না করার জন্য বাড়ি এসে প্রতিনিয়ত তাদের হুমকি দিচ্ছে।

৩১ জানুয়ারি, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে