NarayanganjToday

শিরোনাম

মৃতের সম্পদ নিয়ে সন্তানদের কাড়াকাড়ি, হামলায় নগরীতে মানববন্ধন


মৃতের সম্পদ নিয়ে সন্তানদের কাড়াকাড়ি, হামলায় নগরীতে মানববন্ধন

শহরের চাষাঢ়া এলাকায় লুৎফা টাওয়ারের মালিক মৃত মো: আব্দুর রউফের মেয়ে ও জামাতাদের বিরুদ্ধে মার্কেটের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকালে লুৎফা টাওয়ারের সামনে এই অভিযোগ করে মার্কেটের কর্মচারিরা মানববন্ধনও করেছে।

মানববন্ধনে মার্কেটের ম্যানেজার মো. রমজান জানান, গত (৬ ফেব্রুয়ারী) বুধবার সকাল ১০ টায় মার্কেটের প্রতিষ্ঠাতা মৃত মো. আব্দুর রউফ এর চার মেয়ের জামাতা মিজানুর রহমান মিজু, আল মামুন মোকছুদ, আজিজুর রহমান শুভ, মো. মানিক মিয়া মার্কেটের দেয়াল নির্মাণ করতে আসে। এসময় আমি, কবীর, ইমরান, নাসিমা সহ অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীগণ বাধা দিলে আমাদেরকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। এসময় মার্কেটের ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা এগিয়ে আসলে তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। তখন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা একত্রিত হয়ে তাদেরকে প্রতিরোধ করে এবং দেয়ালটি ভেঙ্গে ফেলে। তিনি আরো জানান, মৃত হাজী আব্দুর রউফ সাহেবের এ সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশ্যেই তারা আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে।

পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৬ টার দিকে বেশ কিছু বহিরাগত লোকজন নিয়ে লুৎফা টাওয়ারের অফিসে ঢুকে আমার উপর হামলা চালায়। তারা আমাকে মেরে হাত ভেঙ্গে দেয়।

এদিকে মানববন্ধনে অন্যান্য কর্মচারীরা বলেন, এ ঘটনায় রমজান নিজে বাদি হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অভিযোগ করে এবং পরে  সেটা তদন্ত করার পর মামলাও হয়। যার নং- ০৮।

তারা অভিযোগ করে আরও বলেন, দু:খের বিষয় সেই মামলায় আসামীদের গ্রেফতার করলেও রহস্যজনক কারনে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তারা বলেন, এদিকে বিবাদী পক্ষ বহিরাগত সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমাদেরকে বিভিন্ন সময় হুমকী-ধামকী দিচ্ছে। এতে করে আমরা খুবই আতঙ্কিত অবস্থায় দিন পার করছি। তাই অতিদ্রুত আসামীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে, একটি মাদ্রাসা ও এতিমখানা নির্মাণ নিয়ে লুৎফা টাওয়ারের মালিক মৃত মো. আব্দুর রউফের স্ত্রী ও ছেলের সাথে তার মেয়ে এবং জামাতাদের সাথে পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। মূলত আব্দুর রউফ মারা যাওয়ার পরই এ দ্বন্দ্ব আরও বেড়ে যায়।

সুত্রটি বলছে, আব্দুর রউফ মৃত্যুর পূর্বে বলে দিয়ে গিয়ে ছিলেন যে, তার মৃত্যুর পর দেলপাড়া এলাকায় তার নামে একটি মাদ্রাসা ও এতিমখানা নির্মাণের পর তার সকল সম্পত্তি ভাগ বন্টন করতে হবে। তার আগে নয়। তিনি এ সংক্রান্ত বিষয়ে একটি ইউলও করে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি মারা যাওয়ার পরপরই তার স্ত্রী লুৎফা বেগমকে সম্পত্তি বন্টন করার জন্য মেয়ে ও জামাতারা চাপ প্রয়োগ করতে লাগে। কিন্তু লুৎফা বেগম মৃত স্বামীর কথা মত সবার আগে মাদ্রাসা ও এতিমখানা নির্মাণের জন্য কাজ শুরু করে। ফলে পরিবারে শুরু দ্বন্দ্ব। যারফলে লুৎফা টাওয়ারের কর্মচারীদের উপর হামলা ও মামলার ঘটনাও ঘটে। মৃত আব্দুর রউফের মেয়ে ও জামাতারা হলেন, সিন্থিয়া আক্তার (স্বামী মিজানুর রহমান মিজু), মাহমুদা আক্তার (মামুন মোকছুদ)  ও আসমা আক্তার (স্বামী আজিজুল হক)।

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে