NarayanganjToday

শিরোনাম

এসপির সাহসি পদক্ষেপ : শহরে জুয়ার আসর থেকে গ্রেফতার ৪১ (ছবি ও পূর্ণাঙ্গ নাম)


এসপির সাহসি পদক্ষেপ : শহরে জুয়ার আসর থেকে গ্রেফতার ৪১ (ছবি ও পূর্ণাঙ্গ নাম)

নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে গ্রেফতারকৃত ৪১ জুয়ারিকে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়। পরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খাতুনের আদালতে তাদের পক্ষে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শহরের কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড ও কালিরবাজার এলাকায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একাধিক টীম ব্লকরেইড দিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। তারা জুয়ার স¤্রাট শাজাহানের জুয়ার আসরের নিয়মিত সদস্য।

সূত্র জানায়, শাজাহানের পিছনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের কর্তারা বিশেষ পেশার পরিচয়দানকারী। তারা দীর্ঘদিন ধরেই এই পেশার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে এই জুয়ার আসর চালিয়ে আসছে।

সূত্রমতে, বিগত চার থেকে পাঁচ বছর ধরে প্রথমে কালিরবাজার এলাকায় ওই বিশেষ পেশার সাইবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়ে ভেতরে ২৪ ঘণ্টাই জুয়া চালাতো ওই চক্রটি। পরে স্থান সংকুলানের কারণে ক্ষমতাসীনদের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিআইডব্লিটিএর একটি খোলা জায়গা দখল নেয় এই চক্রটি। সেখানে চারদিকে মুলিবেড়া এবং উপরে টিন দিয়ে ঘেরা একটি বিশাল ঘর তৈরি করে সেখানে জুয়ার আসর বসায়। দুটি আসরই সমানতালে চলতে থাকে।

অপর একটি সূত্র জানায়, এই জুয়ার আসরটি মূলত পাঁচজন বিশেষ পেশার ব্যক্তি নেপথ্যে থেকে চালাতো। এদের প্রত্যেকেই এখান থেকে প্রতি মাসে কয়েক লাখ টাকা করে নিজের পকেটে ভরতো। এমনকি এই টাকা দিয়ে তারা ব্যাপক বিলাসী জীবন যাপনও করতেন। এমনও চাউড় আছে এই জুয়ার টাকায় এই সিন্ডিকেটের এক ব্যক্তি শহরে একটি আলিসান ফ্ল্যাটও কিনেছেন।

এদিকে বিভিন্ন সময় হাতে গোনা দু একটি গণমাধ্যমে এই জুয়ার আসরের খবর দিলেও প্রশান বরাবরই ছিলো নির্লপ্ত। কোনো রকম অ্যাকশনে না যাওয়াতে এদের আস্কারায় সর্বস্বান্ত হয়েছেন বহু পরিবার। তবে, শেষ পর্যন্ত এমন খবর প্রকাশের পর নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ ব্যাপক সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে সেখানে ডিবির একাধিক টীম পাঠিয়ে গ্রেফতার করেন ৪১ জনকে। পুলিশ সুপারের এমন সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন শহরবাসী।

গ্রেফতাররা হলেন, ফতুল্লার চানমারীর এলাকার রশিদ সাহেবের বাড়ির ভাড়াটিয়া মাসুদ (৩০), পাগলা পূর্বপাড়া কুতুবপুরের শরিফুল্লা সরকারের ছেলে কাউসার আহম্মেদ (৩৫), চানমারী মোকসেদের ভাড়াটিয়া মো. জয়নালের ছেলে শান্ত (৩৫), কাশিপুর দেওয়ান বাড়ির হোসেনের ভাড়াটিয়া মৃত নুর হোসেনের ছেলে শাহিন খান (২৫), সস্তাপুর কোতালের বাগ এলাকার তাহের সাহেবের ভাড়াটিয়া মৃত রোস্তম সিকদারের ছেলে আশরাফ সিকদার (৪৮), তল্লা চেয়ারম্যান বাড়ির এলাকার মৃত মুছা মিয়ার ছেলে হোসেন আলী (৪২), নন্দলালপুর এলাকার মৃত হাজী সামসুদ্দিন মাদবরের ছেলে মশিউর রহমান ওরফে পিন্টু (৪৫), তল্লা পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত হাজী সামসুল হকের ছেলে মো. লিটন (৪০), ইসদাইর রসূল বাগ নায়েবের বাড়ির ভাড়াটিয়া আয়নাল হকের ছেলে মো. সোলেমান (৩২), পশ্চিম মাসদাইর প্রাইমারি স্কুল সংলগ্ন মুন্নাফ মেম্বারের ভাড়াটিয়া মৃত সিদ্দিক মিয়ার ছেলে কমল (৫২)।

নিতাইগঞ্জ ডাইলপট্টির সুকুমার বাবুর ভাড়াটিয়া মৃত প্রাণভল্লব সাহার ছেলে সুজিত সাহা (৪৫), এক নং বাবুরাইলের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে মিজানুর রহমান (৩৮), উত্তর চাষাড়ার সাকু ব্যাপাড়ির ভাড়াটিয়া মৃত সাধু বৈদ্যের ছেলে শ্যামল বৈদ্য (৪০), ডনচেম্বার এলাকার দিপু সাহেবের ভাড়াটিয়া মো. খলিল মৃধার ছেলে আবুল হোসেন (৪৫), নিতাইগঞ্জের নলুয়া রোডের সানাউল্লাহর ছেলে আবু সাবেদ ওরফে প্রিন্স (৩২), সিদ্ধিরগঞ্জ মিজমিজি এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে নজরুল ইসলা (৩৬), নলুয়া রোড এলাকার মৃত আব্দুল হকের ছেলে নুরুল ইসলাম (৬০)।

মুন্সিগঞ্জ চরঝাপ্টা এলাকার বুদাই মিজির ছেলে মো. জিন্নাত আলী (৪৪), একই জেলার চর কেউয়ার গুহের কান্দি এলাকার মৃত কাশেম ব্যাপাড়ির ছেলে জাবেদ ব্যাপারি (৩০), দক্ষিণ চর মুসুরা এলাকার মৃত জয়নাল ব্যাপারির ছেলে মো. আসাদ (৫৭), গুহের কান্দি হারুন মোল্লার ছেলে খোকা মোল্লা (৩০), ঝুকুনি ঘাট এলাকার মৃত লাল মিয়ার ছেলে ফারুক (৩৯), মাকুহাটি এলাকার মৃত মহাদেব দাসের ছেলে জাদব দাস (৪৫)।

সোনারগাঁ চর কিশোরগঞ্জ এলাকার মৃত মোসলেম মিয়ার আব্দুর রহমান (৪০), কাঁচপুর এলাকার আবু বক্করের ভাড়াটিয়া মৃত বজলুর রহমানের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৪১)। সিদ্ধিরগঞ্জের চৌধুরী বাড়ির লাকিবাজার এলাকার মিয়া চানের ভাড়াটিয়া আবুল হোসেনের ছেলে এরশাদ (২৮)।

খানপুর পানির ট্যাঙ্কি রুবেলের বাড়ির ভাড়াটিয়া আব্দুল হামিদের ছেলে শাওন (২৮), কিল্লারপুল মিলন মিয়ার ভাড়াটিয়া সুলতান মিয়ার ছেলে রুবেল (২৩), উত্তর চাষাড়া এলাকার মৃত মিলন খানের ছেলে আউয়াল খান (৪২), এক নং বাবুরাইল সুমন মিয়ার ভাড়াটিয়া আব্দুল মালেকেরে ছেলে জনি (৩৫), নিতাইগঞ্জ বাপ্পী চত্তর এলাকার ইকবাল সাহেবের ভাড়াটিয়া সৈয়দ বিশ্বাসের ছেলে সজীব (২০), র‌্যালী বাগান এলাকার হাসেম মোল্লার ছেলে সামসুল হক (৩৬), গলাচিপার মোহনের ভাড়াটিয়া আব্দুর রহমানের ছেলে শাহ আলম (৩৬), পাইকপাড়া নিজামের ভাড়াটিয়া মৃত মনির হোসেনের ছেলে ওমর ফারুক (৪৩)।

বন্দর রূপালী আবাসিক এলাকার মৃত গিয়াসউদ্দিন মিয়ার ছেলে শরীফ (৬২), বন্দর আমিরাবাদ এলাকার মৃত আইয়ূব আলীর ছেলে মো. শাহিন (৩৯), বন্দরের মদনগঞ্জ এলাকার হাজী বাদল মিয়ার ছেলে ফাহাদ আহম্মেদ (২৫), বন্দর শাহী মসজিদ এলাকার মৃত মোক্তার হোসেনের ছেলে নুর মোহাম্মদ (৩২), বন্দরের রাজবাড়ি এলাকার নুর মোহাম্মদের ভাড়াটিয়া হরে কৃষ্ণ সাহার ছেলে পঙ্কজ সাহা (৩২), মদনগঞ্জের আলীগঞ্জ এলাকার মৃত আব্দুল হকের ছেলে আলামীন (৩৩), বন্দর আমিন আবাসিক এলাকার মৃত আকরাম মজুমদারের ছেলে খবির (৫৫)।

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে