NarayanganjToday

শিরোনাম

আইভীর নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া


আইভীর নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া

নগরীর রাসেল পার্কের পার্শ্বে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে শেখ রাসেল পার্ক এলাকায় অবৈধ দোকান বসাতে গেলে এ ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসীর ধাওয়ায় পালিয়ে গছে মেয়র আইভীর কথিত মামা আনোয়ার হোসেন। ঘটনার পর এলাবাবাসী বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং মেয়র আইভীর লোকদের বিরুদ্ধে দোকান বসিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেন।

এলাকাবাসী বলেন, ‘শহরের পাক্কারোড শেখ রাসেল পার্কের পাশে অবৈধ দোকান বসিয়ে চাঁদবাজি করছে মেয়র আইভীর লোক। আইভীর লোকেরাই ২০/৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে দোকান বসিয়ে প্রতিদিন তা থেকে ২’শ টাকা করে চাঁদা আদায় করছে।’

এদিকে এলাকাবাসীর বিক্ষোভের কারণে শেষতক লেকপাড়ে দোকানপাট বসতে পারেনি। এক সময় বিক্ষোভকারীরা দোকানে হামলা চালায় এবং তারা মিছিল নিয়ে মর্গ্যাণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় তাঁতবস্ত্র ও কুটির শিল্পমেলায় প্রবেশ করে। এ সময় তারা মেলার কর্তৃপক্ষকে আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে মেলা বন্ধ করার নির্দেশ দেন।

তারা বলেন, ‘যদি আটচল্লিশ ঘন্টার মধ্যে মেলা বন্ধ করা না হয়, তাহলে এলাকাবাসী মিলে এ মেলা বন্ধ করে দিবে।’

এদিকে এলাকাবাসী সাংবাদিকদের জানান, কিছুদিন পূর্বে এখানে (লেকপাড়ে) সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে হকার উচ্ছেদ করা হয়, যাতে শুধুমাত্র মেয়রের লোকরাই দোকান বসিয়ে চাঁদাবাজি করতে পারে। তার প্রমাণ আজকে আমরা পেলাম। আজ মেয়রের কথিত সৎ মামা আনোয়ার, জব্বার ভূইয়া, নাসির, লাভলু বাহিনী লেকপাড়ে এলাকাবাসীর মতের বিরুদ্ধে দোকান বসাতে আসছিলো। তারা এখানে ২০/৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে দোকান বসিয়ে প্রতিদিন তা থেকে ২’শ টাকা করে চাঁদা আদায় করছে। এভাবে তারা লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অথচ এসবের দূর্ভোগ পোহায় এলাকার মানুষ।

তারা বলেন, আমরা তাদের বলেছি, এখানে কোন দোকনপাট থাকবে না। দোকানপাটের কারণে লেকের সৌন্দার্য নষ্ট হয়। কিন্তু তারা কোনো কথাই শুনেন নাই। তারা পুনরায় এখানে দোকান বসাতে চেয়েছিলো। এলাকাবাসীর প্রতিরোধে তা আর সম্ভব হয় নি।

তারা অভিযোগ করে আরও বলেন, আমরা এ বিষয়টি নিয়ে মেয়রের ভাই উজ্জলের সাথে ফোনে কথা বলেছি, তিনি বলেছেন এখানে শুধুমাত্র মেয়রের পিএস আবুলের নেতৃত্বে দোকান বসবে। এলাকা আমাদের অথচ কার দোকান বসবে তা ঠিক করবে মেয়রের পিএস! এ বিষয়ে মেয়রের উচিৎ ছিলো আমাদের সাথে কথা বলা, কিন্তু তিনি সেটা করেন নি।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে আরও বলেন, গত বছর চাষাঢ়ায় হকারদের সাথে মেয়রের গন্ডগলের সময় আমরাই মেয়রের পাশে ছিলাম। কিন্তু তিনি সেটা ভুলে গিয়ে আজ আমাদের উপর অন্যায় করে চলেছেন। আমরা সেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি মাত্র। আমাদের এক কথা এখানে কোনো দোকানপাট বসবে না। তারপরও যদি দোকান বসাতে হয়, তাহলে এই এলাকারই গরিব দুঃখী মানুষদের বসাতে হবে। এখানে কোনো পক্ষপাতিত্ব করলে চলবে না। আমরা এ বিষয়ে মেয়র আইভীর সুদৃষ্টি কামনা করছি।

এদিকে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। পুলিশের সামনেই দু’পক্ষ হাতহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে