NarayanganjToday

শিরোনাম

মধ্যরাতে অশান্ত নিতাইগঞ্জ : দুই কাউন্সিলর গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ


মধ্যরাতে অশান্ত নিতাইগঞ্জ : দুই কাউন্সিলর গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

শহরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাবেক ও বর্তমান দুই কাউন্সিলর বাহিনীর সাথে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (১৭ ফেব্রুয়রি) শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকায় দিবাগত রাত সোয়া ১২ টা থেকে শুরু করে দেড়টা পর্যন্ত থেমে থেমে কয়েক দফা এই সংঘর্ষ হয় ১৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কামরুল ইসলাম মুন্না ও বর্তমান কাউন্সিলর কবীর হোসাইন গ্রুপের মধ্যে।

সংঘর্ষে কাউন্সিলর কবীর হোসাইনসহ উভয় গ্রুপের অন্তত ১০ থেকে ১২ জনের মতো রক্তাত্ব আহত হয়েছে। আহত অন্যান্যদের মধ্যে তাৎক্ষণিক ভাবে নেওয়াজউল্লাহ, সুজন, সত্যজিৎ ও দূর্জয়ের নাম জানা গেছে। তাদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) কামরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মসজিদ কমিটি নিয়ে বিরোধ থেকে সাবেক ও বর্তমান দুই কাউন্সিলর গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কামরুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় ক’জন আহত হয়েছে তা এখনই নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। পরে বিস্তারিত বলা যাবে। তবে, যে যত বড় ক্ষমতাসীন লোকই হোক, কেউ বিশৃঙ্খলা করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষ চলাকালে উভয় গ্রুপের লোকজনই আগ্নেয়াস্ত্রসহ ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের উপর হামলা চালায়। এসময় উভয় গ্রুপের লোকজনের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকাই রণক্ষেত্রে পরিণিত হয়। চারদিকে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে নিতাইগঞ্জ এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আবারও যে কোনো সময় সংঘর্ষ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, দক্ষিণ নলুয়া জামে মসজিদ কমিটি নিয়ে অনেকদিন থেকেই বর্তমান কাউন্সিলর কবীর হোসেন ও সাবেক কাউন্সিলর কামরুল ইসলাম মুন্নার মধ্যে বিরোধ চলছিলো। এরমধ্যে এদিন কবীরের ভাগিনা টিটুকে মারধর করে মসজিদ থেকে বের করে দেয় মুন্না পন্থী লোকজন। এ ঘটনায় একপক্ষ সদর থানায় রাতেই অভিযোগ জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই উভয় গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। উভয় গ্রুপই সংঘর্ষে ধারালো এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছে।

এ ব্যাপারে জানতে ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কবীর হোসেনের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি ‘পরে কথা বলি’ বলেই সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে