NarayanganjToday

শিরোনাম

জামতলায় সকালে লাশ উদ্ধার বিকেলে পরিচয় শনাক্ত, ভয়ে কুঁকড়ে যাচ্ছে দুই সন্তান


জামতলায় সকালে লাশ উদ্ধার বিকেলে পরিচয় শনাক্ত, ভয়ে কুঁকড়ে যাচ্ছে দুই সন্তান

শনিবার সকালেই জামতলা থেকে উদ্ধার হয়েছিলো একজন নারীর মরদেহ। এ নিয়ে ছিলো নানা জনের নানা কৌতুহল। কোথা থেকে এলো এই মরদেহ, কে বা কারা ফেলে গেলো নারীর মরদেহটি! এ নিয়ে সারাদিনই চলছিলো নানা গুঞ্জন। তবে, দিন শেষে সন্ধ্যায় জানা গেলো লাশটির মূল পরিচয়।

পুলিশ জানিয়েছে, জামতলায় উদ্ধার হওয়া মরদেহটি তাসনিম আক্তার আঁখি (২৮) নামের এক নারীর। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী নিয়াজ আহমেদ টিপুর স্ত্রী। তারা থাকেন ফতুল্লা আফাজনগরে। তাদের সংসারে দুটি পুত্র সন্তান রয়েছে।

তবে, আঁখির স্বামী দাবি করেছেন তার স্ত্রী একজন মানসিক রোগি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রৌকশলী টিুপকে থানায় আটক রাখা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে বলেই পুলিশ জানিয়েছে।

টিপু দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর থানার বাংলা হিলি গ্রামের মৃত. নাজির উদ্দিন মন্ডলের ছেলে এবং নিহত আঁখি দিনাজপুর জেলার বিরামপুর থানার মল্লিকপুর গ্রামের আজহার উদ্দিন মোল্লা ও মাসুদা বেগমের মেয়ে। ২০০৪ সালে পারিবারিক ভাবে তাদের বিয়ে হয়।

ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) শাহ মোহাম্মদ মঞ্জুর কাদের মরদেহের পরিচয় শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের স্বামী নিয়াজ আহমেদ টিপু তার দুই পুত্র নিয়ে এসে মরদেহটি শনাক্ত করেছেন। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় রেখেছি। তবে এটি আটক নয়।

শনিবার (২ মার্চ) সকালে জামতলার ইউনূস হাজীর বাড়ির কাছ থেকে একজন নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই বাড়ির দারোয়ান ইদ্রিস আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় সকালেই।

নিহত আঁখির চাচাতো বোন তৌহিদা নাহার জানান, আখি কয়েক বছর ধরে মানসিক রোগে ভুগছিলেন। প্রায় সময় পাগলের মতো এদিক ওদিক ছোটাছুটি করতেন। সংসার করতে তার ভালো লাগেনা বলেও জানাতেন। যখন তখন আত্মহত্যার চেষ্টা করতেন। তাদের কাছাকাছি থাকায় আমি সবসময় খোঁজ খবর রাখতাম। তাদের স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কোনো বিরোধ ছিলোনা। লাশের ছবি দেখে আমরা তাকে শনাক্ত করি।

আঁখির স্বামী টিপু জানান, ২০০৪ সালে পারিবারিক ভাবে আমাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর আমাদের দুইটি পুত্র সন্তান হয়েছে। বড় ছেলের নাম তাহমিদ হাসান তানিম (১১) আর ছোট ছেলে তাহসিন (৪)। ছোট ছেলে হওয়ার পর থেকে আঁখি মানসিক রোগে ভুগছিলেন। কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন। সর্বশেষ দুইদিন আগে বটি দিয়ে নিজের বাম হাতও কেটেছেন তিনি। খবর পেয়ে বাসায় এসে ডাক্তারের কাছে নিয়ে চিকিৎসা করিয়েছি। তার পাগলামীর বিষয়টি আশপাশের প্রতিবেশিরাও জানে। তবে এ সমস্যার জন্য কোথাও চিকিৎসা করিনি।

তিনি আরও জানান, বড় ছেলে তানিম স্থানীয় একটি স্কুলের চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্র। স্কুলে যাওয়ার জন্য সকালে ঘুম থেকে উঠে সে। এরপর তার মাকে ঘরে না পেয়ে আমাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে। পরে আমরা চাষাড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খুঁজি। বিকেলের দিকে ফেসবুকে একটি নিউজের সাথে ছবি দেখে চিনতে পেরে শনাক্ত করি।

শাহ মোহাম্মদ কাদের জানান, মৃত্যু কারণ এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। হতে পারে যেখান থেকে মরদেহ পাওয়া গেছে সেখানকার উঁচু ভবন থেকেই সে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে, ময়না তদন্তের রিপোর্ট না পেলে নিশ্চিত করে কিছুই বলা যাচ্ছে না।

এদিকে জামতলায় মরদেহটি উদ্ধারের পর থেকে এ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা। বলা হচ্ছে, আফাজ নগরের বাসিন্দা হওয়ার পরও আঁখির মরদেহ জামতলায় কেন? ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করতে পারেন বলে পুলিশ যে ধারণা করছেন, তা না হবার সম্ভাবনাটাই বেশি। কেননা, ভবন থেকে লাফিয়ে পড়লে তার মুখম-ল বিকৃত হয়ে যেতো। কিন্তু এখানে ওই নারীর মুখম-ল অনেকটাই অক্ষত রয়েছে। বোঝা গিয়েছে কেউ হত্যার পর এখানে লাশ ফেলে গেছে।

২ মার্চ, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে