NarayanganjToday

শিরোনাম

ডিবি’র দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইকবালের মামলায় এসপি অফিসের বিবৃতি


ডিবি’র দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইকবালের মামলায় এসপি অফিসের বিবৃতি

তেল চোরা কারবারিদের গডফাদার ও স্বার্থান্বেষী মহলকে রক্ষার্থে কতিপয় পুলিশ অফিসারদের নামে ইকবাল চৌধুরী আদালতে মামলা দায়ের করেছে, এমন দাবি করা হয়েছে এসপি অফিস থেকে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে।

বুধবার (১৩ মার্চ) বিকেলে গণমাধ্যমে এসপি অফিসের মেইল থেকে গণমাধ্যমে ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি প্রেরণ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১১ মার্চ নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এসআই আব্দুল জলির মাতব্বুর সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের সহযোগিতায় বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে তারা জানতে পারে ফতুল্লা বালুরঘাট (লঞ্চঘাট) এলাকার তেল চোর সিন্ডিকেটের সরদার ইকবাল হোসেন তার গোডাউনে চোরাই তেল রেখে বিক্রি করে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এসআই আব্দুল জলিল মাতুব্বর তার সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সদের এবং ফতুল্লা থানা পুলিশের সহায়তায় তেল চোর সিন্ডিকেট চক্রের আস্তানায় হানা দিয়ে ৫৭ টি ড্রামের মধ্যে রক্ষিত জ্বালানি তেল পরিমান ৭৬০০ (সাত হাজার ছয়শত) লিটার ডিজেল, ৩০৬০ (তিন হাজার ষাট) লিটার অকটেন, ৩৬০ (তিনশত ষাট) লিটার পেট্রোল উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় ফতুল্লা থানায় আব্দুল জলিল মাতুব্বর বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর-৩৯, তারিখ-১২/০৩/২০১৯ ধারা-১৯৭৪ সনের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ খ(১)। এবং সিন্ডিকেটের সদস্য ইকবাল হোসেনসহ রুবেল, কামাল হোসেন, লোকমান হোসেন রাসেল, ইব্রাহিম সহ ১৫/১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও দাবি করা হয়, আসামীরা দীর্ঘদিন যাবৎ একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে পরস্পর যোগসাজসে বাংলাদেশ সরকারকে শুল্ক/কর ফাঁকি দিয়ে এবং জাহাজ থেকে চুরি করে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল অবৈধ ভাবে মজুদ রেখে তা প্রকাশ্যে ক্রয়-বিক্রয় করে আসছিলো। জানা যায় যে, উক্ত সিন্ডিকেটদের পিছনে অনেক স্বার্থান্বেষী মহল যক্ত আছে ও নিয়মিত মাসোয়ারা পায়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুলিশের এই অভিযানকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য ঘোষিত তেল চোরাকারবারীদের অন্যতম সদস্য পলাতক আসামী ইকবাল হোসেন (৪৭) তার গডফাদারদের ও স্বার্থান্বেষী মহলকে বাঁচানোর জন্য এবং পুলিশের এই অভিযানকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য, পুলিশের মনোবলকে ভাঙ্গার জন্য কতিপয় পুলিশ অফিসারের নামে মিথ্যা বানোয়াট তথ্য, উপাত্ত বিহীন মনগড়া একটি পিটিশন বিজ্ঞ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট বরাবর আবেদন করেন। উক্ত পিটিশনটি প্রাথমিক তদন্তের জন্য বিজ্ঞ আদালত পিবিআইকে নির্দেশ প্রদান করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত) বরাত দিয়ে বলা হয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে তথা ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, জঙ্গীবাদ, জুট সন্ত্রাসীসহ মাদক ও তেল চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে। যা আরো বেগবান করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১০ মার্চ ফতুল্লার লঞ্চঘাট এলাকায় অভিযান চালায় নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি টীম। এই টীমের নেতৃত্বে ছিলেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন। ১১ মার্চ রাতে তিনি জানান, ২৪ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটকসহ ৫৭ ড্রাম তেল উদ্ধার করেছেন। প্রতিটি ড্রামে ১৮০ লিটার করে তেল পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় ফতুল্লা থানা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এসআই জলিল মাতুব্বর বাদী হয়ে তিনজনকে গ্রেফতারসহ ১৬ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন।

তবে, স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছিলো ১০৭ ড্রাম তেল উদ্ধার করে জব্দ তালিকায় ৫৭ ড্রাম দেখানো হয়েছে। এবং ২২০ লিটারের মধ্যে ১৮০ লিটার করে প্রতিটি ড্রামের তেল দেখানো হয়েছে। সূত্র জানিয়েছিলো বাকী তেল আনোয়ারের মাধ্যমে চিহ্নিত তেল চোর ও মাদক ব্যবসায়ী ফরহাদ, তার বোন জামাই, কালুর ছেলে ইব্রাহীম ওরফে ইবু এবং সোর্স বাদলের মাধ্যমে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় ১২ মার্চ দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খাতুনের আদালতে ওই মামলাটি দায়ের করেন ইকবাল হোসেন চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি। তিনি ফতুল্লা চৌধুরী বাড়ির মৃত কুদরতউল্লাহ চৌধুরীর ছেলে তবে, স্থানীয়ভাবে একজন তেল চোর হিসেবে পরিচিত তিনি।

আদালত বাদীর অভিযোগটি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে প্রেরণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের পেসকার সফিকুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, আদালত একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদীর পক্ষে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন নারায়ণগঞ্জ বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. হাবিব আল মুজাহিদ পলু।

১৩ মার্চ, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে