NarayanganjToday

শিরোনাম

ফতুল্লায় পুলিশ পেটানো সেই মনিরের ছাড়পত্রহীন ইটভাটা চলছেই


ফতুল্লায় পুলিশ পেটানো সেই মনিরের ছাড়পত্রহীন ইটভাটা চলছেই

চারিদিকে যখন ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ,সন্ত্রাসীসহ সর্বস্তরের অপরাধ দমনে নারায়নগঞ্জের নয়া পুলিশ সুপার আলোচিত হারুন অর রশীদ এখন চালকের আসনে। সম্প্রতি তেলচোর সিন্ডিকেটের সরদার ইকবাল চৌধুরীকে গ্রেফতার ও সিন্ডিকেটের পেছনের নায়কদের সন্ধানে পুলিশের তৎপরতাও সাধুবাদ পাবার যোগ্য।

তবে, প্রশ্ন উঠেছে অপরাধ দমনে এসপির এমন কঠোরতার মধ্যে পুলিশ সদস্যকে পেটানো মামলার আসামী মনিরউদ্দিন গং এখনো বহাল তবিয়তে কেন?

শুধু তাই নয়, প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙুলি প্রদর্শন করে কোনো রকম কাগজপত্র ছাড়াই চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধ ইটের খোলা। এতে করে একদিকে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে অপরদিকে পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া ইটখোলা চালিয়ে এলাকার পরিবেশ নষ্ট করে তুলছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের মুখে তালা।

এলাকা সূত্রে জানা গেছে, গত দুই বছর আগে জনৈক ব্যক্তির লাইসেন্স দিয়ে পার্টনারশিপের ইটখোলা চালু করলেও পরবর্তীতে আলাদা হয়ে পৃথক ‘এমএসবি’ ব্রান্ড নাম দিয়ে নিজেই ইটখোলার ব্যবসা শুরু করেন মনিরউদ্দিন। এখনো পর্যন্ত এমএসবি ব্রান্ডের নিজ নামে কোনো সরকারি বৈধতা না পেলেও প্রভাব খাটিয়ে ইটখোলা চালু রেখে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

ইদানীং সমগ্র নারায়নগঞ্জে অবৈধ ইটখোলার বিরুদ্ধে অভিযান চালালেও আড়ালে রয়ে গেছে আলীগঞ্জস্থ শৈলকুড়া, দাপা এলাকায় মনিরউদ্দিনের অবৈধ ইটখোলা।

সম্প্রতি তার ভাতিজার বিয়েতে উচ্চস্বরে উছৃঙ্খল আচরনে বাধা দেয়ায় ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মঈনুল ইসলামকে মারধরসহ অস্ত্র ও গুলি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে আবারো আলোচনায় আসে মনিরউদ্দিন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হলেও অদৃশ্য ক্ষমতাবলে মনিরউদ্দিন ও তার সহযোগি সাবেক ইউপি মেম্বার আবুবক্কও গং বহাল তবিয়তে রয়েছে।

এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। অবিলম্বে মনিরউদ্দিনের অবৈধ ইটখোলাসহ সকল অবৈধ ব্যবসা বন্ধে প্রশাসনের অভিযান ও তাকে গ্রেফতারের দাবী জানান এলাকাবাসী।

এর আগে ৩মার্চ রাতে মনিরউদ্দিনগংয়ের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় দায়েরকৃত মামলা সূত্রে জানা গেছে, ১ মার্চ শুক্রবার রাতে আলীগঞ্জস্থ তিন রাস্তার মোড়ে গার্মেন্টস সংলগ্ন নাছিরউদ্দিনের ছেলে সোয়েবের বিয়ে উপলক্ষে আবাসিক এলাকায় প্যান্ডেল করে উচ্চস্বরে সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে গানবাজনা করতে থাকে। এতে আশপাশের বাড়ির লোকজনের সমস্যা হলেও এ ব্যাপারে কোনো প্রতিকার না পেয়ে এলাকাবাসী পুলিশে সংবাদ দেয়।

সংবাদ পেয়ে রাত ৩টায় ফোর্সসহ ফতুল্লা মডেল থানার কর্তব্যরত এসআই মঈনুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভলিউম কমিয়ে গানবাজনার জন্যে অনুরোধ জানায়। কিন্তু পুলিশের অনুরোধে কর্নপাত না করে উল্টো আলীগঞ্জের সাহাবুদ্দিন মিয়ার ছেলে নব্য আওয়ামী লীগার হাজী মনিরউদ্দিনের নেতৃত্বে জালাল, মোক্তার, নঈমসহ আরো ২০/২৫ সন্ত্রাসী একত্রিত হয়ে এসআই মঈনুলকে টানাহেচড়া করে প্যান্ডেল থেকে বাইরে নিয়ে যায়। এ সময় কনস্টেবলরা এগিয়ে গেলে কনস্টেবল জাহিদুল ইসলামকে পোষাক ধরে টানাহেচড়া করে প্যান্ডেলের পেছনে নিয়ে তার সাথে থাকা সরকারি গুলি ও অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে।

পরে অবস্থা বেগতিক দেখে এসআই মঈনুল থানায় সংবাদ দিলে অন্য এলাকায় কর্তব্যরত এসআই রক্তিম ও এএসআই মোর্শেদ আলমের নেতৃত্বে আরো দুইটি পুলিশের টহল টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে হাজী মনির উদ্দিনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এসময় ধারালো অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে পুলিশের উপরে হামলা করে আবারও সরকারি অস্ত্র ও গুলি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালায়। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য নীলাফোলা জখম হলে পুলিশ সংগঠিত হয়ে প্রতিরোধ করলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় এসআই মঈনুল ইসলাম বাদি হয়ে ৩ মার্চ লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে মামলাটি নথিভুক্ত হয়। এ মামলায় জালাল, মোক্তার, হাজী মনিরউদ্দিন ও তার ইটখোলার ম্যানেজার ভাগিনা নঈমের নাম উল্লেখ করে ২০/২৫ জনকে আসামী করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) শাহ মোহাম্মদ মঞ্জুর কাদের জানান, ‘আসামীরা জামিনে আছে তাই তাদেরকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।’

১৮ মার্চ, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে