NarayanganjToday

শিরোনাম

লাশের পকেটে বেজে উঠা মোবাইল ফোনে পরিচয় মিললো ভূইঘরের রাব্বীর


লাশের পকেটে বেজে উঠা মোবাইল ফোনে পরিচয় মিললো ভূইঘরের রাব্বীর
সংগৃহীত

বনানীর এফআর টাওয়ার নামে ২২ তলা ভবনে দুপুরের দিকেই আগুনের সূত্রপাত। এ খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে ওই ভবনে কর্মরত সকলের পরিবারের কাছে। কিছু কিছু স্থানে একটু দেরীতেই এই আগুনের খবর ছড়ায়। ফজলে রাব্বীর পরিবারও তেমনি দুপুরে আগুন লাগার বিষয়টি ঘণ্টা দুই এক পরে টিভির সংবাদে জানতে পারেন।

ফজলে রাব্বির মুঠোফোনে সেই থেকেই ফোন দিচ্ছিলেন তার পরিবারের একেকজন। আশ্বস্ত হতে চাইছিলেন ‘তিনি নিরাপদ’ আছেন কিনা। কিন্তু ফোনের পর ফোন বেজেই যাচ্ছে, বেজেই যাচ্ছে কেউ আর সেই ফোনটি তুলেনি। এমন পরিস্থিতি অস্থিরতা বাড়তে থাকে তার পরিবারে।

স্ত্রী, স্বজনদের এমন কেউ আর বাদ যায়নি যে রাব্বীর মুঠোফোনে কল দেয়নি। কিন্তু কোনো উত্তর না আসাতে হতাশা নিম্মজিত তার স্বজনেরা। শেষে রাত ১০ টার দিকে কয়েকবার ফোন দেন তার বড় বোন শাম্মী আক্তার। কয়েকবার সেটি বেজে উঠার পর রিসিভ হয়। কিন্তু অচেনা কণ্ঠ! তিনি তার আদুরে ছোট ভাই রাব্বী নন! কণ্ঠ শুনেই বিমর্ষ আর ভয়ে কুকড়ে যাচ্ছিলেন শাম্মি আক্তার, কাঁপাকাঁপা গলা জানতে চাইলেন ‘রাব্বী কই’।

রাব্বী নেই। তিনি বনানীর এফআর টাওয়ারের আগুনের ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তার মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পড়ে আছে। এমনটা জানতেই হাউমাউ করে চিৎকার শুরু করেন মায়ের মতো বড় বোন শাম্মি আক্তার।

অগ্নিকা-ে নিহত ফজলে রাব্বীর মরদেহটি যখন মর্গে পড়েছিলো তখন তার প্যান্টের পকেটে থাকা মোবাইল ফোনিটি বেজে উঠে। সেটি রিসিভ করেন মরদেহের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের একজন কর্মী। তিনি কথা বলেন ফোনের অপরপ্রান্তে থাকা শাম্মি আক্তারের সাথে।

শাম্মি আক্তারই জানালেন, ফজলে রাব্বি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার উত্তর ভূইঘর এলাকার জহুরুল হকের ছেলে। তিনি এক সন্তানের জনক এবং বনানীর এফআর টাওয়ারের ১১ তলায় অবস্থিত টাওয়ারের ১১ তলায় অবস্থিত ইউরো সার্ভিসে কর্মরত ছিলেন।

ফজলে রাব্বীর মরদেহ শনাক্তের পর শুক্রবার (২৯ মার্চ) একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

প্রতিদিনের ন্যায় বৃহস্পতিবারও নিজের কর্মস্থল বনানীতে গিয়েছিলেন ফজলে রাব্বী। ফিরেন রাত ৮ থেকে ৯ টার মধ্যেই। পরিবারের লোকজনও অপেক্ষায় ছিলেন রাব্বী ফিরবে। কিন্তু রাব্বী ফিরেছে তবে, প্রতিদিনের মতো জীবিত নয়, নিথর দেহে।

রাব্বীর পরিবার জানিয়েছে, রাব্বীর মুঠোফোনটি বাজতে থাকায় তারা নিশ্চিত ছিলেন তিনি বেঁচে আছেন। হয়তো হুড়োহুড়ির মধ্যে সেটি রিসিভ করতে পারেননি। একটি বারের জন্যও তারা ভাবতে পারেননি তাদের হাসিখুশি মাখা ফজলে রাব্বী নিথর দেহে ঢামেকের হাসপাতাল মর্গে পড়ে আছে!

২৯ মার্চ, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে