NarayanganjToday

শিরোনাম

মধ্যরাতে শিল্পপতির ভাতিজিসহ আটক যুবক, রক্তাত্ব উদ্ধার পিপিপুত্র


মধ্যরাতে শিল্পপতির ভাতিজিসহ আটক যুবক, রক্তাত্ব উদ্ধার পিপিপুত্র

শহরের আলোচিত শিল্পপতি বাদশার ছোট ভাই আব্দুর রবের মেয়েসহ এক যুবককে মদ্যপ অবস্থায় আটক করেছে পুলিশ। সোমবার গভীর দিবাগত রাত ১২ টার দিকে চাষাড়া বালুর মাঠ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

নারায়ণগঞ্জে জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওয়াজেদ আলী খোকনের একটি ফ্ল্যাটে বসে তারা মদ পান করছিলো। এসময় পিপির ছেলে আকিব সাদাতকে রক্তাত্ব অবস্থায় উদ্ধার করে ৩‘শ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেও তাদের সাথে মদ্যপান করছিলো।

আটক শিল্পপতি বাদশার ভাতিজি সায়ামা ও নগরীর খানপুর এলাকার মনির হোসেন পোকনের (খোকন) ছেলে ইয়ামিনের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় মদ পানের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে, নিশ্চিত করেছেন সদর মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশন) জয়নাল আবেদীন ম-ল।

আটককৃত ইয়ামিনের ভাষ্যমতে জানা যায়, পিপি ওয়াজেদ আলী খোকনের বালুর মাঠ এলাকর চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটে আকিব, তার এক বান্ধবী সায়মা প্রায় মদের আসর বসাতেন। এদিনও তারা তিনজন বসে মদ-পান করছিলেন। এক পর্যায়ে কোনো একটি কারণে আকিব উত্তেজিত হয়ে উঠেন এবং তার ডান হাত কাঁচে লেগে কেটে যায়। এছাড়াও ওই সময় হট্টগোল শুরু হয় তাদের তিনজনের মধ্যে।

অপরদিকে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, পিপি’র বাড়ির চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটে তুমূল হট্টগোলের শব্দ পেয়ে স্থানীয়রা বিষয়টি পিপিকে অবহিত করেন এবং ঘটনাটি কী ঘটেছে তা জানতে পিপির বাড়ির চতুর্থ তলায় ছুটে যান। তখন ওই ফ্ল্যাটের ভেতর দিক থেকে দরজা আটকানো ছিলো। অনেক চেষ্টা করার পরও সেটি তারা খুলছিলেন না। পরে থানায় খবর দিলে রাত ১২ টার দিকে পুলিশ দীর্ঘ চেষ্টার পর ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে আকিব সাদত, ইয়ামিন ও তাদের বান্ধবী সায়মাকে মদ্যপান অবস্থায় উদ্ধার আটক করে। তবে, পিপি ওয়াজেদ আলী খোকনের ছেলে রক্তাত্ব জখম থাকায় তাকে খানপুর ৩শ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এদিকে পিপি ওয়াজেদ আলী খোকনের ছেলেকে রক্তাত্ব অবস্থায় উদ্ধারের খবর পেয়ে সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, জেলা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি চন্দন শীলসহ অনেকেই হাসপাতালে ছুটে আসেন। এমনকি মধ্যরাতে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপার ডা. জাহাঙ্গির আলমও ছুটে আসেন জুরুরী বিভাগে এবং পিপির ছেলেকে নিজেই অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান।

হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক সারোয়ার হোসেন বলেন, আকিব সাদত গুরুতর আহত নন। তার হাত সামান্য কেটে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে মদ্যপানরত অবস্থায় কোনো কাঁচ জাতিয় কিছুতে আঘাত পেয়েছেন। কোনো সেলাই করতে হয়নি। সামন্য ড্রেসিং করে দেয়া হয়েছে।

এদিকে সদর থানায় আটক করে নিয়ে আসা ইয়ামিন পুলিশকে হুমকি দিয়ে বলে ‘নারায়ণগঞ্জের পুলিশ আমাদের কিছুই করতে পারবে না।’ এ ছাড়াও অকথ্য ভাষায় পুলিশকে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজের অভিযোগও পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। তবে, সায়মার পক্ষে শিল্পপতি বাদশার পরিবার থেকে কাউকে আসতে দেখা যায়নি।

সদর থানার দায়িত্বরত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের নির্দেশে মদ্যপান করা ইয়ামিনকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে নিয়ে যাওয়া হয়।

সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক গোলাম মোস্তফা ইমনের কাছে ইয়ামিন স্বীকার করে, ‘সে ও আকিব এবং বান্ধবী সায়মা বিদেশী মদের সাথে কোক মিশিয়ে পান করেছে।’ এসময় ইয়ামিন অপকপটেই জানায়, তারা প্রায় প্রতিদিন ওয়াজেদ আলী খোকনের বাড়িতে মদ্যপানের আসরে মিলিত হত।

ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের কয়েকজন সদস্য জানান, মদ ও নারী কেলেংকারীর ঘটানয় পিপির বাড়িতে এমন লংকাকান্ড দেখে আমরা হতবাক। যে দৃশ্য আমরা দেখেছি তা ভাষায় প্রকাশ করাও যায় না।

ঘটনার বিষয়ে উপ পরিদর্শক সাব্বির খান বলেন, মধ্যরাতে পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন আটককৃতদের ছাড়াতে এসেছিলেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়ে দেয়ায় তিনি ফিরে গেছেন।

এব্যাপারে পিপি ওয়াজে আলী খোকন বলেন, আমি বিস্তরিত কিছু জানি না। আমার ছেলে সুস্থ হলে সব জানতে পারবো।

নারায়ণগঞ্জ সদর থানার দায়িত্বরত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। তাই যাচাই বাছাই করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে আমাদের কিছু সময় লাগবে। আমরা দুই জনকে আটক করেছি।

এদিকে ঘটনাস্থলে তিনজন মদ্যপান করলেও পুলিশ দুজনকে আটক দেখিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। এই মামলা থেকে রেহায় দেয়া হচ্ছে পিপি’র ছেলে আকিব সাদাতকে। যদিও পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) জয়নাল আবেদীন ম-ল জানিয়েছেন, আমরা দুজনকে পেয়েছি। পিপি’র ছেলেকে আটক করতে পারিনি।

২ এপ্রিল, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে