NarayanganjToday

শিরোনাম

পুলিশ সুপারের কাছে এক মায়ের করজোড় মিনতি


পুলিশ সুপারের কাছে এক মায়ের করজোড় মিনতি

মা, তিনিই জানেন সন্তান প্রসবের বেদনা। ১০ মাস ১০দিন কতটা কষ্ট সহ্য করে একজন মা সন্তান প্রসব করেন এবং সেই সন্তানকে রাতের পর রাত জেগে একটু একটু করে আদরে যত্নে বড় কওে তোলার কষ্টটা একমাত্র মা-ই জানেন। আর সেই আদরের যাদুধন, যক্ষের ধন যদি চোখের আড়াল হয়ে যায় তাহলে মায়ের কষ্টটা যে পাহাড়সম হয়, সে যন্ত্রণায় একজন মা কতটা ছটফট করেন তা আর ক’জন জানি?

ঠিক তেমনি ভাবে নিখোঁজ সাদমান সাকির মা লিপি বেগম জানেন তিনি কতটা কষ্টে একেকটা দিন অতিবাহিত করছেন। তার হৃদয়ের সে যন্ত্রণা বুকে যে ক্ষত তৈরি করেছে সেই ক্ষত কেউ বুঝতে না পারলেও সন্তান ফেরৎ চেয়ে তার গগণবিদারক কান্না উপস্থিত সকল মানুষকেই কাঁদিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বিকেলের দিকে চাষাড়া শহীদ মিনারা নিখোঁজ সাদমান সাকিকর সন্ধান দাবিতে করা অনশনে হারানো সন্তান ফিরে চেয়ে অঝোরে কেঁদেছেন লিপি বেগম। তিনি পৃথিবীর সমস্ত কিছুর বিনিময়ে হলেও তার হারিয়ে যাওয়া সন্তান সাকিকে ফেরৎ চান। চোখের জলে সেই আকুতিই তিনি জানিয়েছেন এদিন।

এদিন সন্তান ফিরে পাওয়ার আকুতি নিয়ে শুধু লিপি বেগমেই যে কেঁদেছেন তা নয়। তার এই কান্নায় কেঁদেছিলেন অনশনে উপস্থিত হওয়া প্রতিটি মানুষও। মায়ের এমন বুকফাটা কান্নায় কেঁদেছেন একমুহূর্তে থেমে যাওয়া অসংখ্য পথচারীও। এদিন লিপি বেগমের কান্নায় ভিজেছে অসংখ্য মানুষের চোখের পাতা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কান্না জড়িত কণ্ঠে সাকির মা লিপি বেগম বলেন, আপনিও স্বজনহারা। স্বজন হারানোর যন্ত্র কি আপনি বুঝেন। আমার সন্তানকে উদ্ধার করে আমার বুকে ফিরিয়ে দিন। আজ ১৫ মাস যাবৎ আমার সন্তান আমার বুকে নেই। আমার বাচ্চাকে কারা কেড়ে নিয়েছে আমি জানিনা। সবাইকে অনুরোধ আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দিন।

তিনি আরও বলেন, আমার বাচ্চাকে ছাড়া আমি অন্ধকার দেখি। ওকে ছাড়া বাঁচা অনেক কষ্টকর। এই বাচ্চাটিকে ছাড়া আমি বাঁচবো না। আমার সন্তানের কান্না আমার চোখে ভাসে। যেখানে তাকাই ওকে দেখতে পাই। আমি অস্থির হয়ে যাই, রাতে ঘুমাতে পারি না। মনে হয় আমার সন্তান দাঁড়িয়ে আছে। রাতে দরজা খুলে বের হয়ে যাই। আমারা একটি মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। আমাদের প্রাণের কি নিশ্চয়তা আছে। পুলিশ সুপার আপনার কাছে আমার অনুরোধ, আমার সন্তানকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিন, সাহায্য করুন।

অনশনে আরও উপস্থিত ছিলেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি, জেলা ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি হাফিজুর রহমান, সিপিবির সভাপতি হাফিজুর ইসলাম, বাসদের সমন্বয়কারী নিখিল দাস, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন, সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল, সাবেক খেলোয়ার আজমত খন্দকার প্রমুখ।

৯ এপ্রিল, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে