NarayanganjToday

শিরোনাম

প্রধানমন্ত্রী শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিন : রাব্বি


প্রধানমন্ত্রী শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিন : রাব্বি

রফিউর রাব্বি বলেছেন, পৃথিবীর সব দেশেই অপরাধ সংঘটিত হয়। আবার সে অপরাধের বিচারও হয়। কিন্তু এই দেশেই ব্যতিক্রম। সব অপরাধের বিচার হয় না। আর যদি অপরাধী সরকারি দলের হয় তাহলে তো আরও সম্ভব না। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে আজকে যেই শিশুটি উদ্ধারের দাবিতে অনশনে বসেছে এতোগুলো মানুষ। দেড় বছর হয়ে গেলেও তাকে উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না।

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বিকেলের দিকে চাষাড়া শহীদ মিনারে নিখোঁজ সাদমান সাকির উদ্ধারের দাবিতে অনশন কর্মসূচিতে বক্তব্যকালে তিনি ওই কথা বলেন।

রফিউর রাব্বি বলেন, কিছুদিন আগে সাকির তিনবছর পূর্তি হয়েছে। এদিন কেক কাটা, ফুল কিছুই ছিলো না। সেদিন তার পরিবারের লোকজন সাকিকে ফিরে পেতে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধ করেছে। দেড় বছরের একটি শিশুকে অপহরণ করা হলো। শিশুটি জন্মের পর দেড় বছর সে পরিবারের সাথে রইলো আর দেড় বছর পরিবারের বাইরে। এখনও আমরা জানতে পারছি না সে বেঁচে আছে কিনা?

তিনি বলেন, তদন্তকারী সংস্থা বলছে, শিশুটি জীবিত। অথচ উদ্ধার করছে না। এটি একটি দুর্বিষহ পরিস্থিতি। এই পরিস্থিতি কীভাবে তৈরি হলো। একটি দেশে যদি সরকার থাকে তাহলে কী এ পরিস্থিতি চলতে পরে? আমাদের দেশে পুলিশ, র‌্যাবে অনেক দক্ষ ব্যক্তি রয়েছে। আমরা দেখেছি তারা অনেক বড় বড় ঘটনা উদঘাটন করেছে। সে প্রমাণ রয়েছে। তারা যদি চেষ্টা করে তাহলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব। আর যদি তা উদঘাটন করার পর সেটি প্রকাশ্যে না আনে তাহলে ধরে নিতে হবে তারা ইচ্ছে করেই চাচ্ছে না। এতে সরকার বিব্রত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, একজন জল্লাদও দেড় বছরের শিশুটিকে হত্যা করতে পারে না। আমরা বিশ্বাস করি শিশুটি এখনও বেঁচে আছে। আমরা জানিনা শিশুটিকে কে বা কারা অপহরণ করেছে। এটি এখন উদঘাটন করার দায়িত্ব তদন্তকারী সংস্থার। সাকির বাবা ৫ থেকে ৬ জনের নাম সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত দিয়েছে। আমরা আশা করি প্রশাসন শিশুটিকে উদ্ধার করবে।

রাব্বি বলেন, সাদমান সাকিকে কারা অপহরণ করলো। কেন তারা তাকে উদ্ধার করতে দেড় বছর সময় নিয়েও সেটি পারলো না। আমরা শুধু পুলিশ সুপার নয় প্রধানমন্ত্রীর কাছেও আবেদন করছি। দেশের আইন আপনার পরিবারের জন্য একরকম আর আমাদের সাধারণ মানুষের জন্য আরেক রকম? আমরা ৭৫ এর পর থেকে যে হত্যার বিচার চেয়ে আসছিলাম সে হত্যার বিচার আপনি ক্ষমতায় এসে করেছেন। তাহলে কি এখন আপনি বলতে চান, আমাদের স্বজনদের বিচার পেতে হলে আমাদেরকেও প্রধানমন্ত্রী হতে হবে? আপনি আমাদের অভিভাবকের দায়িত্বে রয়েছেন। তাই আমরা চাই আপনি নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিন শিশুটিকে উদ্ধারের। নিদের্শ দিন সকল হত্যায় হত্যাকারীদের গ্রেফতারে।

অনশনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি হাফিজুর রহমান, সিপিবির সভাপতি হাফিজুর ইসলাম, বাসদের সমন্বয়কারী নিখিল দাস, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন, সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল, সাবেক খেলোয়ার আজমত খন্দকার প্রমুখ।

৯ এপ্রিল, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে