NarayanganjToday

শিরোনাম

ফতুল্লায় হত্যা শেষে মাটিতে পুঁতে রাখা লাশের সাথে দশদিন বসবাস!


ফতুল্লায় হত্যা শেষে মাটিতে পুঁতে রাখা লাশের সাথে দশদিন বসবাস!

এলাকায় পার্টনারশিপে ঝুটে ব্যবসা করতেন কামরুজ্জামান চৌধুরী ওরফে সেলিম চৌধুরী।ভোলাইলে ছিলো তাদের ঝুটের গোডাউন। এই গোডাউনেই পর্টনারের সাথে পাওনা টাকা নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন ব্যবসায়ী  সেলিম চৌধুরী। এর জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুমের লক্ষ্যে মাটিখুড়ে তাতে চাপা দেওয়া হয়। একই সাথে কেউ যেন কিছু বুঝতে না পারে সে জন্য মাটির উপর দেওয়া হয় সিমেন্টের আস্তরণ। এমনকি সেই লাশের উপর গত ৯ দিন ধরে হন্তারকেরা চালিয়ে যাচ্ছিলেন নিজ ব্যবসা!

এমনই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার ভোলাইল এলাকাতে। ১০দিন আগে নিখোঁজ হওয়া ওই ব্যবসার স্ত্রী রেখা আক্তারের জিডির তদন্ত করতে গিয়ে সেলিম চৌধুরীরর কর্মচারী ফয়সালকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে লাশ পুঁতে রাখার রহস্য।

ফয়সালের স্বীকারোক্তিতে বুধবার (১০ এপ্রিল) ভোলাইল মিস্টির দোকানের পাশে একটি ঝুটের গোডাউনের ভেতরে মাটিতে পুঁতে রাখা মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

ফতুল্লা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুন আল আবেদ জানান, গত ৩১ মার্চ থেকে নিখোঁজ ছিলেন কামরুজ্জামান চৌধুরী ওরফে সেলিম চৌধুরী (৫২)। ওই ব্যবসায়ি নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্ত্রী দায়ের করা জিডি তদন্ত চলছিল। বুধবার ভোলাইল মিষ্টির দোকান এলাকায় একটি গোডাউনে অভিযান চালিয়ে তার লাশটি মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয়। 

তিনি জানান, রেখা আক্তারের জিডির সূত্র ধরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফয়সাল নামে একজনকে আটক করা হয়েছিলো। মূলত তার দেয়া স্বীকারোক্তিতে সেলিম চৌধুরীর লাশটি উদ্ধার করা হয়। ৩১ মার্চ রাতেই সেলিমকে হত্যা করে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত হয়েছি।

ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) আসলাম হোসেন জানিয়েছেন, আটককৃত ফয়সালকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গোডাউনটি সেলিম চৌধুরীসহ তার পার্টনারদের তত্ত্বাবধানে ছিল। ৩১ মার্চ পার্টনারদের কাছে পাওনা টাকা ফেরত চাইতে ভোলাইলের গোডাউনে আসেন সেলিম চৌধুরী। পরে টাকা নিয়ে বাগ-বিতন্ডায় সেলিম চৌধুরীকে  হত্যা করে। পরবর্তীতে লাশ গুম করার লক্ষ্যে গোডাউনের ভেতরেই মাটিখুঁড়ে পুতে রাখা হয়।

ফতুল্লার বক্তাবলী কানাইনগর এলাকার বাসিন্দা সেলিম চৌধুরী। তিনি গার্মেন্টের ঝুট ব্যবসা করতেন। পরিবার পরিজন নিয়ে ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকায় ভাড়ায় বসবাস করতেন। এরমধ্যে ৩১ মার্চ সকালে বাসা থেকে বের হন। পরে এদিন বেলা ১১ টার দিকে সেলিম চৌধুরীর সাথে তার স্ত্রী রেখার সর্বশেষ কথা হয়। তখন সেলিম জানিয়েছিলেন তিনি পঞ্চবটির মোড়ে ইষ্টার্ন ব্যাঙ্কে রয়েছেন। এরপর একই দিন দুপুর ২টার দিকে খাবারের জন্য ফোন করা হলে সেলিম চৌধুরীর মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে এ ঘটনার ৬ দিন পর ৬ এপ্রিল সেলিম চৌধুরী নিখোঁজ রয়েছেন দাবি করে তার স্ত্রী রেখা আক্তার বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছিলেন। যার নং ১৩৯।

১০ এপ্রিল, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে