NarayanganjToday

শিরোনাম

লাঙ্গলবন্দে সেবা সংঘের উদ্যোগে শুকনো খাবার ও প্রাথমিক চিকৎসা


লাঙ্গলবন্দে সেবা সংঘের উদ্যোগে শুকনো খাবার ও প্রাথমিক চিকৎসা

নারায়নগঞ্জের শ্রী শ্রী সত্যধাম নূতন পালপাড়ার শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের সেবা সংঘের পরিচালনায় শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া দুই দিন ব্যাপী লাঙ্গলবন্দ তীর্থস্নান উপলক্ষে আগত হিন্দু পুন্যার্থীদের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা, বাচ্চাদের জন্য দুধ বিতরন, চিড়া কলা ও গুড় এবং বিশুদ্ধ জল বিতরণ করা হয়। এই সেবা সংঘের উদ্যোগে গত ২৭ বছর যাবৎ পুন্যার্থীদের এই সকল সেবা প্রদান করে হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জের ব্রহ্মপুত্র নদে প্রতিবছরের মতো চৈত্র মাসের শুক্লাষ্টমী তিথিতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পুণ্যস্নান আগামী ১২ এপ্রিল শুক্রবার থেকে শুরু  হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এই পুণ্যস্নানে দেশ বিদেশের লাখ লাখ ভক্তপ্রাণের আগমন ঘটেছে  ব্রহ্মপুত্রের তীর লাঙ্গলবন্দে।

ভক্তদের বিশ্বাস মতে তিথির নির্দিষ্ট সময়ে ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান খুবই পুণ্যের, এ স্নানে ব্রহ্মার সন্তুষ্টি লাভ করে পাপমোচন হয়।এছাড়াও লাঙ্গলবন্দে বৃহস্পতিবার মহাষষ্ঠী পূজার মঙ্গলঘট স্থাপন ও মন্ত্র উচ্চারণের মধ্য দিয়ে  বাসন্তী পূজা শুরু হয়েছে। যা ১৫ এপ্রিল দশমীর মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হবে। বসন্তকালে হয় বলে এর নাম বাসন্তী পূজা।

লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসব উদযাপন কমিটির নেতারা জানান, তিথি অনুযায়ী ১২এপ্রিল শুক্রবার সকাল ১১টা ৫ মিনিটে মহাষ্টমী স্নানোৎসবের লগ্ন শুরু হয়েছে। পরদিন শনিবার সকাল ৮টা ৫৫ মিনিট ২২ সেকেন্ড পর্যন্ত লগ্ন রয়েছে। আর এ তিথির মধ্যে ব্রহ্মপুত্র নদের ১৮টি ঘাটের যেকোনটি দিয়ে স্নান খুবই পুণ্যের, এ স্নানে ব্রহ্মার সন্তুষ্টি লাভ করে পাপমোচন হয়।

শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দের ব্রহ্মপুত্র নদে গিয়ে দেখা গেছে, পুণ্যার্থীদের জন্য প্রতিটি ঘাটের সামনে নদে বাঁশ দিয়ে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে নদের ওই বলয়ের মধ্যে ফেলা হয়েছে বালুর বস্তা। স্নানের পর নারী পুণ্যার্থীদের কাপড় বদলের জন্য ঘাটগুলোর পাশে যে ছোট রুম আছে সেগুলো পরিষ্কার করে অস্থায়ী বাথরুম, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা সহ রাস্তা ঘাট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।

স্নান উপলক্ষে ৩৩টি ধর্মীয় স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন পুণ্যার্থীদের সেবা দিতে ক্যাম্প স্থাপন করে তাদের সেবামূলক কর্মসূচি পালন করছে। এদিকে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিটি টিভি ক্যামেরা, মাইক, ওয়াচ টাওয়ার বসানো হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র গুলোতে আগত পুন্যার্থীদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ হিন্দু কল্যাণ সংস্থার কেন্দ্রীয় সদস্য সূত্রে জানা গেছে, এবার ললিত সাধুর ঘাট, অন্যপূর্ণ ঘাট, রাজ ঘাট, কালীগঞ্জ ঘাট, মা কুঁড়ি সাধুর ঘাট, মহাত্মা গান্ধী ঘাট, বড় দেশ্বরী ঘাট, জয়কালি ঘাট, রক্ষাকালী ঘাট, প্রেম তলা ঘাট, চর শ্রীরাম ঘাট, সাবদি ঘাট, বাসনকালী ও জগৎবন্ধু ঘাটে স্নান হচ্ছে।

আরো জানা গেছে, স্নান আয়োজন করতে ১০০ স্বেচ্ছাসেবক ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছে। ঝড় বৃষ্টি হলেও যাতে পুণ্যার্থীদের কষ্ট না হয় সেজন্য মজবুত প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে। জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহে উচ্চ ক্ষমতার দুইটি জেনারেটর রাখা হয়েছে। ১৮টি ঘাটের ৩৭টি পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। এছাড়াও পুণ্যার্থীদের জন্য ১০০টি অস্থায়ী শৌচালয়, ৮০টি গভীর নলকূপ, ট্যাংকের সাহায্যে অস্থায়ীভাবে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা সহ এক লাখ বিশুদ্ধ পানির বোতল বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে।

১২ এপ্রিল, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে