NarayanganjToday

শিরোনাম

টানবাজারের আরজু হত্যার বিচার দাবিতে আদালতপাড়ায় মানববন্ধন


টানবাজারের আরজু হত্যার বিচার দাবিতে আদালতপাড়ায় মানববন্ধন

শহরের টানবাজার র‌্যালিবাগানে আরজু বেগম খুনের ঘটনায় অ্যাডভোকেট হামিদা আক্তার লিজা ও আসমাসহ সকল আসামীদের বিচার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) সকালে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় খুনিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধনে এ শঙ্কা প্রকাশ করে তারা । ‘র‌্যালিবাগানের সর্বস্তরের জনগণ’ এর ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে নিহত আরজু বেগমের মেঝ মেয়ে আখি অভিযোগ করে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় অ্যাড. হামিদা ওরফে লিজা, তার বোন অ্যাড. আসমা ও তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য হোসনা, শহর বানু, জাকির, রমজান, শাহাবুদ্দিন, আলমগীর ও জাহাঙ্গীর গংরা মিলে প্রকাশ্যে বেধড়ক পিটিয়ে ও বৈদ্যুতিক শক দেয়ার পর শরীরে পানি ঢেলে নির্মমভাবে হত্যা করে আমার মা আরজু বেগমকে। এ ঘটনার দিন নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশ আসামীদের হাতেনাতে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণও করে। কিন্তু দূর্ভাগ্য হলেও সত্য যে, শুধুমাত্র অ্যাডভোকেট হওয়ার কারণে আসামীদের অপরাধী হিসেবে দেখা হচ্ছে না। তাদেরকে ছাড়াতে উঠেপড়ে লেগেছে বেশ কয়েকজন অ্যাডভোকেট সহ একটি বিশেষ মহল।

আখি বলেন, প্রকাশ্যে খুন করার পরও ওই সমস্ত খুনিরা শুধুমাত্র অ্যাডভোকেট হওয়ার কারণে কি পার পেয়ে যাবে? অ্যাডভোকেট দেইখ্যা কি তাদের কোনো বিচার হবেনা? আর যে সমস্ত অ্যাডভোকেটরা এ সমস্ত খুনিদের পক্ষে কাজ করছেন তাদের কাছে আমাদের প্রশ্ন, একটু ভাবেন তো যে অসহায় মহিলাটাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো, সেই মহিলাটা যদি আপনার বোন, মা কিংবা নিকটতম কোনো আত্মীয় হতো, তাহলে আপনার মনের অবস্থা কি হতো? আপনি কি পারতেন সেই খুনিদের পক্ষ নিতে। না, পারতেন না। কারণ, সেই মহিলা আপনার আত্মীয়। ঠিক একইভাবে যে মহিলাটা খুন হয়েছে তাদের পরিবারের কথাটাও একটু ভাবুন। আমরা সন্তানেরা মায়ের বিচারের জন্য আজ ১৭ দিন যাবৎ পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছি। কিভাবে মায়ের হত্যাকারিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া যায়, এ জন্য কত চেষ্টাই না করে যাচ্ছি।

আইনজীবীদের দৃষ্টি আর্কোষণ করে নিহত আরজু বেগমের মেয়ে আখি আরও বলেন, আপনারা আইনজীবী। নিরিহ মানুষ আপনাদের কাছে ন্যায্য বিচার পাওয়ার আশায়। তাই ন্যায্য বিচারের জন্য অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখা উচিৎ , তা সে যেই হোক। তাহলে অন্যায় অপরাধ করে কেউ পার পেয়ে যাবেনা।

মানববন্ধনে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কোষণ করে নিহত আরজু বেগমের ছেলে শাকিল বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। প্রকাশ্যে খুন করার পরও অ্যাডভোকেট হওয়ার কারণে আসামীদের বিচার নিয়ে আমরা শঙ্কার মধ্যে জীবন যাপন করছি। ওই ধরনের আসামীরা যদি পার পেয়ে যায়, তাহলে মাদকের বিরুদ্ধে আপনার যে, জিরো ট্রলারেন্স ঘোষণাটা বিফলে যাবে। কেননা, খুন করার পরও বিচার না হলে মাদক কারবারি ও এর সাথে সম্পৃক্তকারিরা আরও উৎস নিয়ে গোটা দেশটাকে মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিনত করবে। অপরদিকে মাদকের প্রতিবাদ থেকে সরে আসবে দেশবাসী। তাই, আপনার নিকট আমাদের আকুল আবেদন, আমরা আমাদের মা আরজু বেগমের হত্যাকারিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। অ্যাডভোকেট দেইখ্যা যেন কেউ পার পেয়ে না যায়। আইন সবার জন্যই যেন সমান থাকে। আমরা এ জন্য আপনার সৃদৃষ্টি কামনা করছি।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, নিহত আরজু বেগমের মেঝ মেয়ে আখি, ছোট মেয়ে লাকি, ছেলে শাকিল, স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষে মো. আনোয়ার, জরি, শুক্কুরিসহ আরও অনেকে।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ মার্চ (শুক্রবার) নারায়ণগঞ্জ শহরের টানবাজারে মাদকের প্রতিবাদ করায় ৫ সন্তানের জননী আরজু বেগমকে (৪০) নামে এক নারীকে মারধর ও বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠে।

শুক্রবার বিকেলে ওই ঘটনার পর সাত জনকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত আরজু বেগম টানবাজার র‌্যালী বাগান এলাকার আক্তার হোসেনের স্ত্রী।

এ ঘটনায় এ্যাড. হামিদা ওরফে লিজা, তার বোন এ্যাড. আসমা, হোসনা ও সরবানু, রমজানসহ ৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত আরজুদা বেগমের জামাতা মো. সেলিম মিয়া বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

নিহত আরজু বেগমের মেয়ে লাকী জানান, দীর্ঘদিন যাবত মাদক নিয়ে প্রতিবাদ করায় এ্যাড. হামিদা আক্তার লিজা ও রমজানের লোকজনদের সাথে আমাদের শক্রতা তৈরি হয়। যতদিন মাদকের ব্যাপারে আমার কোনো প্রতিবাদ করিনি ততদিন আমরা তাদের বন্ধু ছিলাম। কিন্তু মাদক নিয়ে প্রতিবাদ করায় আমার পুরো পরিবার তাদের কাছে শক্রতে পরিণত হয়েছে।

র‌্যালী বাগান এলাকায় মাদক নির্মূলে মিছিল করে আরজু বেগম ও তার লোকজন। ওই ঘটনার জের ধরে শুক্রবার দুপুর ২টায় মাদক ব্যবসায়ী রমজান ও হামিদা গংরা প্রতিবাদকারীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় আরজু বেগমকে প্রথমে এলোপাথারিভাবে কিল ঘুষি মেরে আহত। পরে বৈদ্যুতিক তার জড়িয়ে হত্যা করে।

১৫ এপ্রিল,২০১৯/এমএ/এনটি

উপরে