NarayanganjToday

শিরোনাম

আবারও শুরু এসপি হারুনের অ্যাকশন, এবার ধরা কাউন্সিলর বাবু


আবারও শুরু এসপি হারুনের অ্যাকশন, এবার ধরা কাউন্সিলর বাবু

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ আগেই বলেছিলেন তিনি দমে যাবেন না। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি তথা অপরাধী সে যে হোক, যত বড় প্রভাবশালীই হোক তাকে তিনি আইনের আওতায় আনবেনই। সে স্বাক্ষর তিনি রেখেছিলেনও। গত কদিন কিছুটা নিশ্চুপ থাকলেও ফের অ্যাকশন শুরু করেছেন আলোচিত এই পুলিশ সুপার।

এবার তার সেই অ্যাকশনে গ্রেফতার হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর বহু বিতর্কে বিতর্কিত আব্দুল করিম বাবু ওরফে ডিস বাবু। বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর পৌনে তিনটার দিকে পাইকপাড়া নিজ অফিস থেকে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

আব্দুল করিম বাবু ওরফে ডিস বাবু নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং একজন ডিস ব্যবসায়ী সে। তার বিরুদ্ধে বন্দর উপজেলার আরেক ডিস ব্যবসায়ী মো. কাউসার বাদী হয়ে বন্দর থানায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ এনে একটি মামলা করেন। তিনি উপজেলার দক্ষিণ কলাবাগ এলাকার মৃত হেলালউদ্দিনের ছেলে।

ডিস বাবুর গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বন্দর থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, বাবুর বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। এ মামলায় নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে থানায় হস্তান্তর করেছে।

সূত্র জানায়, ডিস ব্যবসায়ী হাসানের নিয়ন্ত্রনাধিন বন্দর সোনাকান্দা থেকে আলীনগর অঞ্চলের কয়েক লক্ষ টাকার ডিস ক্যাবল (তার)সহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি কেটে নিয়ে যায় বাবুর লোক হিসেবে পরিচিত সজিবসহ একটি সন্ত্রাসী বাহিনী। এতে ২ হাজারেরও উপরে গ্রাহক ডিস লাইন থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বেশ কয়েকদিন ধরে। এ ঘটনায় কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু হাসানের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। অন্যথায় ডিস ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি প্রদান করেন।

সূত্র আরও জানায়, ওই ঘটনার পর গেল মাসের ২৩ তারিখে হাসান বাদী হয়ে বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন বাবুকে প্রধান আসামী করে। কিন্তু এরপরও কোনো কাজ হচ্ছিলো না। বরং সোনাকান্দা, আলীনগর এলাকায় বাবু তার বাহিনীর মাধ্যমে নদীর তলদেশ দিয়ে ডিস লাইন সংযোগ স্থাপনের কাজ শুরু করে।

এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্থ ওই ব্যবসায়ী নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে তিনি ডিস বাবুর নানা অপকর্ম তুলে ধরেন। একই সাথে তিনি বাবুর এহেন অপকর্ম উত্থাপন করে সংবাদ সম্মেলনও করেন।

এদিকে কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু ওরফে ডিস বাবুর বিরুদ্ধে অহরহ অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জোরপূর্বক দলীয় প্রভাব বিস্তার করে শহর ও শহরতলীর ডিস ব্যবসা একচ্ছত্র আধিপত্য সে ধরে রেখেছে। তাকে চাঁদা না দিয়ে কেউ কোথাও ডিস ব্যবসা করতে পারে না। মূলত তিনি সাংসদ শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে সর্বত্র পরিচিত। আর এই প্রভাবেই তিনি সর্বত্র প্রভাব বিস্তার করে থাকেন। নিজেরও রয়েছে একটি বাহিনী।

এর আগে বিতর্কিত এই কাউন্সিলিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে সালাউদ্দিন দেওয়ান নামে নীরিহ একজন সাবেক ফুটবলারকে পুলিশের সাথে যোগসাজেশ করে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর। এ ঘটনার সংবাদ প্রকাশের পরপরনই পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ অভিযুক্ত এসআই নাজমুল ইসলামকে সদর থানা থেকে প্রত্যাহার করে নেন।

১৯ জানুয়ারি পাইকপাড়া এলাকার একটি উন্নয়ন কাজ উদ্বোধন করতে যান মেয়র আইভী। উদ্বোধন শেষে তিনি চলে আসলে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই প্রকৌশলীকে গালাগাল করেন আব্দুল করিম বাবু। এ ঘটনার প্রতিবাদ করেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল কাদির। এ নিয়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ও হয়। মূলত এ ঘটনার রেশ ধরেই সালাউদ্দিন দেওয়ানকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে বাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে।

এর আগে নগরীতে ফিল্মি স্টাইলে প্রকাশ্যে স্বদলবলে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ব্যাপক তা-ব চালিয়েছিলেন আব্দুল করিম বাবু। এসময় তিনি অন্তত ৬ রাউন্ড গুলি বর্ষণও করেন। ঘটনাটি গেল বছরের ১৩ আগস্ট দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৮ নং ওয়ার্ডের ১৩৩ নং নলুয়া পাড়া এলাকায়।

তবে, কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু ওই ঘটনার পর তা-ব সৃষ্টি করার কথা অস্বীকার করলেও ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ার কথা স্বীকার করেছিলেন। তার দাবি ছিলো, উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে সে শূন্যে গুলি ছুড়েছেন।

ঘটনার সূত্রে জানা গেছে, কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবুর ছোট ভাই নিতাইগঞ্জের ভূষামাল বিক্রেতা ইকবালকে ১৩৩ নং নলুয়া পাড়ার ভুল মিয়ার ছেলে সিমনসহ কয়েকজন মারধর করে এদিন দুপুরের দিকে। এঘটনার জেরে বাবু তাঁর বাহিনী নিয়ে প্রকাশ্যেই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সিমনকে তুলে আনতে যায়। এসময় তাঁর সাথে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ জনের একটি দল ছিলো। এ দলের অনেকের কাছেই আগ্নেয়াস্ত্র ছিলো বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে।

এছাড়াও এসব ঘটনার আগে গেল বছরের ৯ জানুয়ারি ‘জনতার মুখোমুখি’ হয়ে মেয়র আইভী তার বক্তব্যে আব্দুল করীম বাবুর প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সাথে ১৭ নং ওয়ার্ডে বাবুর পরিবর্তে প্যানেল মেয়র-১ বিভা হাসান সকল কাজ করবেন বলেও ঘোষণা দেন। আর এই বক্তব্যের পর বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে বাবু। তিনি ১৫ জানুয়ারি নগর ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং আইভীকে তার বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে লোক জড়ো করে বিক্ষোভ করেন।

প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মধ্যে সব থেকে আলোচিত ও সমালোচিত কউন্সিলর ছিলো নূর হোসেন। তিনি এখন ৭ খুন মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী হিসেবে মৃত্যুর প্রহর গুণছেন। তবে, এবার তথা ২০১৬ সালের সিটি নির্বাচনে এই ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে সর্বাধিক সমালোচিত কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু।

১৮ এপ্রিল, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে