NarayanganjToday

শিরোনাম

না.গঞ্জ শহরের এই ঘটনাটি নাটক সিনেমার গল্পকেও হার মানিয়েছে


না.গঞ্জ শহরের এই ঘটনাটি নাটক সিনেমার গল্পকেও হার মানিয়েছে

‘৬০ লাখ টাকা দিবি নয়তো তোর ছেলেকে আর ফিরে পাবি না। আর হ্যাঁ পুলিশের কাছে গেলে তোর ছেলের লাশ পাবি।’ অপহরণকারীদের এমন হুমকির পর ঘাবড়ে যান শহরের ভুঁইয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মনির হোসেন ও তার স্ত্রী।

তারা জানান, তাদের ছোট ছেলে ফাহাদ জামিল। সে নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বুধবার (১৭ এপ্রিল) সকালে রোজকার মতো স্কুলের উদ্দেশ্যে বের হয় বাড়ি থেকে। কিন্তু সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেও সে আর বাড়ি ফিরেনি। উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা শুরু। এরমধ্যেই অপরিচিত একটি নম্বর থেকে ফোন আসে। জানানো হয় ফাহাদকে অপহরণ করা হয়েছে। ফেরৎ চাইলে মুক্তিপণ হিসেবে দিতে হবে ৬০ লাখ টাকা। এ ঘটনা পুলিশকে জানানো যাবে না। জানালেই ছেলের লাশ পাঠানো হবে বাড়িতে।

এদিকে এ ঘটনার পরপরই ব্যবসায়ী মনির হোসেনের বড় ছেলে মাসুম জামিল তার ছোট ভাই মারুফ জামিলসহ ছুটে যান সদর মডেল থানা পুলিশের কাছে। তারা ছোট ভাই ফাহাদ জামিল অপহরণের ঘটনা জানিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মাসুম। কিন্তু কে জানতো ছোট ভাইকে অপহরণকারীদের একজন থানায় অভিযোগ করার সময় খোদ উপস্থিত!

না কেউই জানতেন না। কারো সন্দেহ হবার কথাও নয়। ভাই কি করে ভাইকে অপহরণ করবেন! আর অপহরণ যদি করবেই তাহলে থানায় সে কেন যাবে অপহরণের অভিযোগ এনে অভিযোগ দায়ের করার সময়। তাই কারো এ নিয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না।

সদর মডেল থানা পুলিশ অপহরণের অভিযোগটি হালকা ভাবে না নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমানকে। তিনি র‌্যাব-১১ এর সহযোগিতা প্রত্যাশা করলে র‌্যাবও এতে সাড়া দেন। পরে যে নম্বর থেকে ৬০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিলো সেটি ট্র্যাকিং করে র‌্যাব-১১ এক্সপার্ট দল। এতে ওই নম্বরটির প্রথম লোকেশন ধরা পড়ে সদর উপজেলার ফতুল্লার লালপুর এলাকা। এখান থেকে ওই নম্বরটির অস্থিত্ব পাওয়া যায় পার্শ্ববর্তী মুন্সিগঞ্জ জেলা। পরবর্তীতে অপহরণকারীদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অত্যন্ত গোপনে সদর মডেল থানা পুলিশ ও র‌্যাব-১১ বৃহস্পতিবার সন্ধার পর যৌথভাবে অভিযান চালায় মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাট এলাকায়।

পুলিশ জানায়, মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘট এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত ফাহাদ জামিলকে উদ্ধার করা হয়। একই সাথে আটক করা হয় তিন অপহরণকারীকে। এদের মধ্যে অপহরণের মূল হোতাই হচ্ছে অপহৃত ফাহাদ জামিলের মেঝ ভাই মারুফ জামিল! পুলিশও কিছুটা হতবাক। কেননা, এই মারুফ জামিল নিজেই ভাই অপহরণের অভিযোগ করতে বড় ভাই মাসুম জামিলের সাথে থানায় এসেছিলেন। তখন সে ছিলো একদমই স্বাভাবিক। সন্দেহ করারও কোনো উপায় ছিলনা।

সদর মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, অপহৃত স্কুল ছাত্র ফাহাদ জামিলকে উদ্ধার করাসহ এর সাথে সংশ্লিষ্ট তিন অপহরণকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন, অপহৃতের মেঝ ভাই মারুফ জামিল (৩০) এবং তার দুই বন্ধু সোহান (২৬) ও জিসানক (৩০)।

তবে, ভাই হয়ে নিজের ভাইকে কেন অপহরণ করেছে সে ব্যাপারে এখন নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। কারণ জানার জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, মারুফ জামিল পেশায় হোসিয়ারী ব্যবসায়ী। সে কী কারণে তার আপন ছোট ভাইকে অপহরণ করলো তা জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

১৯ এপ্রিল, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে