NarayanganjToday

শিরোনাম

এবার খানপুর হাসপাতালে ডাক্তারের অবহেলায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ


এবার খানপুর হাসপাতালে ডাক্তারের অবহেলায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ

নগরের খানপুর হাসপাতালে ডাক্তারের ভুলে ১৯ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর দুইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর থেকেই নিজ কক্ষ তালা দিয়ে পালিয়েছে অভিযুক্ত চিকিৎসক শিশু বিশেষজ্ঞ আমিনুল ইসলাম। তবে, তার দাবি, মঙ্গলবার একটি সেমিনার থাকায় হাসপাতাল থেকে একটু আগে চলে এসেছি।

মৃত শিশুটির বাবার অভিযোগ, তার বাচ্চার অবস্থা গুরুতর বুঝতে পেরেও ডা. আমিনুল শিশুটিকে জরুরী চিকিৎসা সেবা না দিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে দেয়। আর এ কারণে মেয়েটি মারা গেছে। তবে, অভিযুক্ত চিকিৎসক দাবি করেছেন তার কোনো গাফলতি ছিল না। শিশুর মৃত্যুর জন্য তিনি দায়ী নন।

নিহত শিশুটির নাম হাফিজা। সে কাশীপুর ইউনিয়নের দেওয়ান বাড়ি এলাকার বাসিন্দা লিটন মিয়ার মেয়ে। লিটন মিয়া অটোবাইক চালক।

সিহত শিশুটির চাচা রিপন মিয়া জানান, হাফিজা ২ দিন ধরে ঠা-ায় ভুগছিলো। সোমবার সকালে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে তাকে নেওয়া হয। সেখানে ডাক্তার চিকিৎসাপত্রে কয়েকটি ওষুধের নাম লিখে সেগুলো খাওয়ানোর পরামর্শ দেন। পাশাপাশি তাকে নেবুলাইজার (গ্যাস) দিতে পরামর্শ দেওয়া হয়। পওে, ওই হাসপাতালে কিছুক্ষণ গ্যাস দিয়ে বাসায় নিয়ে আসা হয় হাফিজাকে।

তার অভিযোগ, বাসায় আসার পর বেলা দুপুর ১২ টার দিকে হাফিজার অবস্থা খারপ হলে তাকে দ্রুত খানপুর ৩‘শ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। ডাক্তার আমিনুল ইসলাম হাফিজাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি চারটি টেস্ট লিখেন। তার মধ্যে একটি ছাড়া বাকিগুলো হাসপাতালে করা সম্ভব হলেও তিনি একটি স্লিপ ধরিয়ে দিয়ে পরীক্ষার জন্য মডার্ন মেডিকেল সার্ভিসেসে পাঠিয়ে দেন। সেখানে চারটি টেস্ট করানোর পর হাফিজার অবস্থা অবনতি হয়। এক পর্যায়ে তাকে ৩‘শ শয্যা হাসপাতালে পুনরায় নেয়া হলে জরুরী বিভাগের ডাক্তার সারোয়ার হোসেন জানান দুপুর দুইটার দিকে জানান শিশুটি আগেই মারা গেছে।

এদিকে শিশুটি ঠিক শিশুটি কখন মারা গেছে এমন প্রশ্নের জবাবে ডাক্তার সারোয়ার হোসেন বলেন,  ময়নাতদন্ত ছাড়া সেটি বলা সম্ভব নয়।

অপরদিকে অভিযুক্ত চিকিৎসক শিশু বিশেষজ্ঞ আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, শিশুটি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিলো। তার অবস্থা খারাপ দেখে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করি। একই সাথে কয়েকটি টেস্ট করানোর জন্য বলি। কিন্তু শিশুটির বাবা গরীব বলায় তাকে আগের ওষুধগুলো খেতে এবং টেস্টগুলো করিয়ে আবার দেখানোর জন্য বলি। হাসপাতালের টেস্টের ব্যবস্থা থাকলেও সময় নেই দেখে তাকে বাইরে পাঠাই। এখানে আমার কোনো গাফলতি ছিল না।

এ বিষয়ে হাসপাতালের নবাগত সুপার ডাক্তার আবু জাহের জানান, এমন কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, প্রায় সময় শহরের বিভিন্ন ক্লিনিকে ডাক্তারের ভুলে রোগী মৃত্যুর নানা অভিযোগ উঠেছিলো। এবার সেই তালিকায় খানপুর ৩‘শ শয্যা বিশিষ্টি সরকারি হাসপাতালটি যুক্ত হলো।

২৯ এপ্রিল, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে