NarayanganjToday

শিরোনাম

রাতে এসে বলবেন ‘ও দলের লোক ওকে ছেড়ে দাও’ সেটা হবে না : এসপি


রাতে এসে বলবেন ‘ও দলের লোক ওকে ছেড়ে দাও’ সেটা হবে না : এসপি

“আমরা এই নারায়ণগঞ্জের মানুষকে শান্তিতে রাখতে, স্বস্তি দিতেই কাজ করে যাচ্ছি। আমরা সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতেই কিছু স্টেপ নিয়েছি। এই স্টেপগুলো নেওয়ার কারণই হচ্ছে আপনারা সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীরা যাতে শান্তিতে থাকতে পারেন, ব্যবসা করতে পারেন।”

সোমবার (২৯ এপ্রিল) রাতে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের নির্মাণাধীন নিউ সমবায় মার্কেটে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ ওই কথা বলেন। আসন্ন রমজান এর পবিত্রতা রক্ষা, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, জঙ্গিবাদ ও নাশকতা প্রতিরোধে জাতীয় ও জেলাভিত্তিক ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী সংগঠনের উদ্যোগে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, “আমরা ইতোমধ্যেই বলে দিয়েছি, কোনো ব্যবসায়ীকে অহেতুক হয়রানি করা যাবে না। এবং যদি কোনো কারণে ব্যবসায়ীকে কেউ হয়রানি করে সে পাবলিক হোক বা পুলিশ সদস্য হোক, আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, আপনাদের জন্য আমার দরজা খোলা রইলো। আপনারা ভালো থাকবেন। সে লক্ষ্যেই আমি কাজ করছি। গাজীপুরেও আমি কাজ করেছি। আপনারা মাদকের ব্যাপারে একটু সতর্ক থাকবেন। মাদকের জন্য আজকে দেশ ধ্বংস হচ্ছে।

তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ রেখে বলেন, “আপনারা একটু সতর্ক থাকবেন। আপনারা অনেক ব্যবসায়ীই আছেন যারা স্থানীয় পর্যায়ে অনেক সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছেন। আপনারা একটু আপনাদের বাড়ির আশপাশে খেয়াল রাখবেন। মাদকের বিরুদ্ধে এবং আশপাশের মাদরাসাগুলোতেও খেয়াল রাখবেন। সেসব জায়গায় কেউ কোনো বিশৃঙ্খলা, সমাজ বিরোধী কাজে লিপ্ত রয়েছে কিনা।”

হারুন অর রশীদ বলেন, “দেশ কিন্তু আজ এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়ণের জোয়ার বইছে দেশে। আপনারা ব্যবসায়ীরা যেমন ভালো আছেন। সাধারণ মানুষও শান্তিতে আছে। আজকে দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পিছনে আপনারা যারা ব্যবসায়ী রয়েছেন, তাদের কৃতিত্ব রয়েছে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সঠিক রয়েছে। সাধারণ মানুষও শান্তিতে রয়েছে।”

তিনি ব্যবসায়ীদের বলেন, “অনেকেই অনেক গুজব ছড়াতে পারে। আপনারা কোনো গুজবে কান দিবেন না। প্রয়োজনে আমার দরজা খোলা আছে। আপনারা আমার কাছে চলে আসবেন। সরাসরি আমাকে বলবেন। আমার কোনো পুলিশ সদস্য যদি কোনো ব্যবসায়ীকে হয়রানি করে, মাদকের সাথে জড়িত থাকে, কোনো সাধারণ মানুষকে যদি হয়রানির সাথে যুক্ত থাকে তবে, সেই পুলিশ সদস্য নারায়ণগঞ্জে থাকতে পারবে না।”

তিনি আরও বলেন, “আমি সাধারণ মানুষের সেবা করার জন্য অপ্রাণ চেষ্টা করছি। আমি কোনো সন্ত্রাসীকে ছাড় দিচ্ছি না। আপনি দলের সাথে জড়িত দেখে সাধারণ মানুষের জমি দখল করবেন, মাদক ব্যবসা করবেন, কারো পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দিবেন- আমি সেই চাকরি করি না। এসব দলের কলঙ্ক, সমাজের কলঙ্ক, আপনাদের কলঙ্ক। এরা যদি ব্যবসাও করে এদের দিকে একটু নজর রাখতে হবে। আমি মনে করি এরা কোনো ব্যবসায়ীই না।”

পুলিশ সুপার বলেন, “সাধারণ ব্যবসায়ীরা যেমন ব্যবসা করছে, তেমন ব্যবসা করবে। আপনারা কাউকে চাঁদা দেবেন না। সে পুলিশই হোক বা কোনো দলেরই হোক। চাাঁদাবাজ যে দলেরই হোক সে চাঁদাবাজ। তাকে আপনারা কোনো পাত্তা দিবেন না। যে সন্ত্রাসী সে কোনো দলের নয়। যে মাদক ব্যবসায়ী সে কোনো দলের নয়।

তিনি বলেন, “দিনের বেলায় বলবেন সন্ত্রাসী হয়রানি করছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলবেন। আমরা ব্যবস্থা নেব। আর রাতের আঁধারে এসে বলবেন, ‘ও আমার দলের লোক, ওকে ছেড়ে দাও।’ সেটা হবে না। আমি আপনাদের গ্যারান্টি দিতে চাই, কোনো সাধারণ ব্যবসায়ীকে, কোনো সাধারণ মানুষকে কোনো পুলিশ সদস্য হয়রানি করবে না। যদি করে সে পুলিশ সদস্য নারায়ণগঞ্জে থাকতে পারবে না।”

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সেলিম রেজা, সাবেক সাংসদ ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলী, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সাংসদ হোসনে আরা বেগম বাবলী, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক প্রবীর কুমার সাহা, বিকেএমইএ’র সহ সভাপতি মনসুর আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সভাপতি এম সোলায়মান প্রমূখ।

২৯ এপ্রিল, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে