NarayanganjToday

শিরোনাম

খানপুরের বিতর্কীত সেই ডা. জাহাঙ্গীরের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ


খানপুরের বিতর্কীত সেই ডা. জাহাঙ্গীরের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ খানপুর হাসপাতালের গাইনী চিকিৎসক বহু বিতর্কে বিতর্কীত ডা. জাহাঙ্গীর আলমের অবহেলায় আবারও এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৫ মে) দুপুর ১২ টার দিকে খানপুর ৩‘শ শয্যা হাসপাতালে সন্নিকটে অবস্থিত ইউনিক নামে ডায়াগনস্টিকে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পরপরই নিহত প্রসূতির পরিবারের রোষানল থেকে বাঁচতে প্রশ্রাবের কথা বলে হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়ে যায় বিতর্কীত ওই চিকিৎসক ডা. জাহাঙ্গীর। এ ঘটনার পর থেকে ইউনিক নামের ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি বন্ধ রয়েছে।

উল্লেখ, ডায়াগনস্টিক সেন্টার নাম দেয়া থাকলেও এখানে নিয়মিতই সিজার, অ্যাব্রশন করানো হয়ে থাকে। এর নেপথ্যে রয়েছেন খানপুর হাসপাতালের গাইনী বিভাগের প্রধান ডা. জাহাঙ্গীর আলম।

নিহতের পারিবারিক সুত্রে জানাযায়, সিদ্ধিরগঞ্জ সৈয়দপাড়া এলাকার রাসেল মিয়ার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী কবিতাকে (২২) শহরের খানপুর ৩’শ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের ডা. জাহাঙ্গীর ওই প্রসূতিকে দেখেই বলেন, ‘গর্ভের সন্তানের বিশাল সমস্যা। তাকে এক ঘণ্টার মধ্যে ইউনিক ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে না পাঠালে সমস্যা হবে।’

তখন সময় দুপুর সোয়া বারোটা। ডাক্তারের কথা শুনে ঘাবড়ে যান রাসেল। ফলে তিনি আর দেরী না করে ডা. জাহাঙ্গীর আলমের নিয়োজিত সহকারী (দালাল) সোহরাবের সহযোগীতায় অনেকটা বাধ্য হয়েই তিনি অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে আসেন ইউনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এখানে আসার পর প্রসূতির অপারেশনের জন্য ডা. জাহাঙ্গীর রোগীর স্বজনদের কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। দর কষাকষির এক পর্যায়ে ডা. জাহাঙ্গীরের সাথে অপারেশন বাবদ রোগীর বড় ভাই তাজুল ইসলামসহ অন্যান্য স্বজনদের সাথে ১৫ হাজার টাকা চুক্তি হয়।

নিহত প্রসূতির বড় ভাই তাজুল ইসলাম জানান, ডা. জাহাঙ্গীর আমাদের কাছে সময় নিয়েছিলো ১ ঘণ্টা। কিন্তু ১টা পেড়িয়ে ২টা এরপর তিনটা বাজলেও ডাক্তারের কোনো খবর নেই। তিনি আসেননি। পরে ওনি (ডা. জাহাঙ্গীর) ৪টা বাজে এসে সিজার শেষে ৫ মিনিটও থাকে নাই। ওনি চইলা যাওনের সাথে সাথে বললো বাচ্চা ও বাচ্চার মা ঠিক আছে। কিন্তু তার মাত্র ১ ঘণ্টা পরই সে (ডাক্তার) আমাকে বাসায় ফোন করে বলে, রোগীর জন্য রক্ত লাগবো। আমি সাথে আমার এক বন্ধুরে নিয়ে আসি। এসেই আমি সোজা ওটি রুমে গিয়ে ঢুকেই আমার বোনের হাত ধরলাম, পা ধরলাম, দেখি কোনো সাড়া শব্দ নাই। ওই জায়গাতেই ডেইড। তবে বাচ্চাটা শুধু মোটামুটি ভালো আছে।

তিনি আরও বলেন, আমি ওই দাড়িওয়ালা ডাক্তারকে বললাম ‘এতো শেষ।’ তিনি তখন বললো আইসিওতে নিতে হবে। সাইনবোর্ড প্রোঅ্যাক্টিভ মেডিক্যাল কলেজে নিন। আমি তখন খুব শক্ত করে বোনের বেডটা ধরে রাখছি, আমি যেতে চাইলাম না। কিন্তু ওখানকার সকল ডাক্তাররা দেখি অ্যাম্বুলেন্স টেম্বুলেন্স সব ভাউ কইরা ফেলছে। পরে আমাকে নামাইয়া দিয়ে গাড়িতে তুলে পাঠাইয়া দেয়।

তাজুল ইসলাম বলেন, সাইনবোর্ড প্রোঅ্যাক্টিভ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার সাথে সাথে ওখানকার ডাক্তাররে আমি হাতে পায়ে ধরে কই, ‘ডাক্তার সাব দয়া করে যা হইছে তাই কইবেন। রোগীরে কি সত্যিই আইসিওতে নিতে হবে।’ ওই হাসপাতালের ডাক্তার আমার কথা শুনে বলেন, ‘রোগী তো অনেক আগেই মারা গেছে।’ পরে ওই দাড়িওয়ালা ডাক্তার (জাহাঙ্গীর) প্রসাবের ছুতা দিয়া ভাইগ্যা যায়।

এদিকে ইউনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার দুপুরের পর থেকেই বন্ধ রয়েছে। পালিয়ে ছিলেন অভিযুক্ত ডাক্তার জাহাঙ্গীর আলম। তবে, সন্ধ্যার পর নিহতের স্বজনেরা চাষাড়া সলিমুল্লাহ রোডে অবস্থিত প্রাইম জেনারেল হাসপাতালে এসে ডাক্তার জাহাঙ্গীরকে খুঁজে পেয়ে তাকে এখানেই ঘেরাও করে। তাজুল ইসলাম বলেন, ডা. জাহাঙ্গীর আলমরে এখানে (প্রাইম হাসাপাতাল) পাইছি। আমরা সবাই তাকে জিজ্ঞাস করতাছি কেন সে আমার বোনকে হত্যা করলো?

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (রাত সাড়ে ১২টা) প্রাইম জেনারেল হাসপাতালে নিহতের স্বজনদের সাথে ডাক্তার নেতাদের সাথে হইচই হট্টগোল চলছিলো। তবে, সাংবাদিকদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে সদও মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম জানান, সাংবাদিকদের মাধ্যমেই এমন একটি খবর শুনেছি। তবে এ ব্যাপারে এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ডা. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে এর পূর্বেও নানা অভিযোগ উঠেছে। রোগীদের সাথে দুর্বব্যহার, নিজেই দালালের ভূমিকায় অবর্তীণ হয়ে রোগীদের প্রাইভেটে ভর্তি হতে উৎসাহিত এবং প্রাইভেটে দেখানোর পরামর্শ দেওয়া, অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ, একই হাসপাতালে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে কর্মরত থাকার অভিযোগসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

৫ মে, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে