NarayanganjToday

শিরোনাম

হিন্দু ছেলেকে ভালোবাসায় তরুণীর পায়ে শিকল, গ্রেফতার বাবা-মা


হিন্দু ছেলেকে ভালোবাসায় তরুণীর পায়ে শিকল, গ্রেফতার বাবা-মা

সাদিয়া আক্তার। সে সিদ্ধেশ্বরী কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী। সে সাগর নামে এক হিন্দু ছেলেকে ভালোবাসে। ছেলেটি ধর্ম ত্যাগ করে তাকে বিয়ে করবে। বাবা-মায়ের কাছে প্রস্তাব পাঠাবে। এমনটি বলে একাধিকবার তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে। কিন্তু শেষতক ছেলেটি আর বিয়ে করে না। আর সাদিয়ার বাবা-মা বিষয়টি জেনে ফেলায় সাগরের কাছেও মেয়েটিকে যেতে দেয় না।

তবে, প্রেম কোনো বাধা মানে না। বারণ শুনে না। সাদিয়া সব বাধা উপেক্ষা করে বারবারই ছুটে যায় তার প্রেমিক সাগরের কাছে। এইটুকুই ছিলো তার অপরাধ। কিন্তু বাবা মায়ের দাবি, মেয়ে তাদের কথা শুনে না। অবাধ্য। এমন অযুহাতে এই তরুণীকে দিনের পর দিনে শিকলে বেঁধে রাখেন পিতা বশির উদ্দিন (৫৫) ও মা ফরিদা বেগম (৪১)।

এদিকে এ ঘটনায় যখন শিকল বন্দী সাদিয়া তখন সে কৌশলে ৯৯৯ এ ফোন করে সাহায্য চায়। পরে পুলিশ তরুণীটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দিয়েছে আর গ্রেফতার করেছে তার বাবা মাকে।

বুধবার (৮ মে) ভোর রাতে উপজেলার দাপা শিহাচর শাহ জাহান রোলিং মিল এলাকার লোকমান মিয়ার ভাড়াটিয়া বাড়ির ৫ম তলার ফ্ল্যাট থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত বশির উদ্দিন ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন থানার দক্ষিন ভাটামারা গ্রামের মৃত. আ. রশিদ পাটোয়ারীর ছেলে।

সাদিয়া আক্তার জানান, শিকল ছুটাতে ব্যর্থ হয়ে সাগরের কথা মতে জরুরী নাম্বার ৯৯৯ এ ফোন করি। এবং তাদেরকে জানাই ফতুল্লার ওই বাসায় আমাকে শিকল দিয়ে কিছু লোকজন বেঁধে রেখেছে। এ সংবাদ পেয়ে পুলিশ আমায় উদ্ধার করে।

ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. আসলাম হোসেন জানান, ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে ফতুল্লার দাপা শিহাচর শাহ জাহান রোলিং মিল এলাকায় পুলিশ পাঠাই। সেখানে গিয়ে একটি বাড়িতে তরুনীকে শিকল দিয়ে বাঁধা অবস্থায় আমাদের পুলিশ উদ্ধার করে। এঘটনায় ওই তরুনীর বাবা মাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এঘটনায় পুলিশের এএসআই মো. সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

তিনি আরো জানান, প্রাপ্ত বয়স্ক কন্যাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা মানে আইনগত ভাবে দন্ডবিধি আইনের ৩৪২ ধারার অপরাধ। ওই মেয়েটা আমাকে জানিয়েছে তাকে ১৪ এপ্রিল থেকে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে ছিলো তার বাবা মা। এতে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে পুলিশ তাকে চিকিৎসা দিয়েছে।

মামলার তদন্তকারী অফিসার ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মুঈনুল ইসলাম জানান, এ মামলায় ওই মেয়ের বাবা মাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তীতে আরো বিস্তারিত জানানো হবে।

৮ মে, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে