NarayanganjToday

শিরোনাম

খানপুরে আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে স্বামী-স্ত্রী আটক


খানপুরে আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে স্বামী-স্ত্রী আটক

শহরের খানপুরে ফ্ল্যাট দেওয়া প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ১০ থেকে ১২ জনের কাছ থেকে আড়াইকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা ঢাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কামাল হোসেন ও সায়মা আক্তার নামে এক দম্পতির বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (২১ মে) রাতে শহরের উত্তর খানপুর মেইন রোডে ওই দম্পতিকে দেখতে পেয়ে ভুক্তভোগিরা তাদের আটকে দেন। এ ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের আটকে রেখে ভুক্তভোগিরা থানায় অভিযোগ দায়ের করছেন।

অভিযোগ দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সদর মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম। তিনি জানান, অভিযোগ পেয়েছি। শুনেছি স্থানীয় জনগণ অভিযুক্ত স্বামী স্ত্রীকে আটকে রেখেছে। আমরা ফোর্স পাঠিয়েছি। এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র জানায়, উত্তর খানপুর মেইন রোড এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে কামাল হোসেন ও তার স্ত্রী সায়মা আক্তার মায়া তাদের তিন শতাংশের একটি জমিরি উপর বহুতল ভবন নির্মাণ করবেন। এবং ওই ভবনের ফ্ল্যাট নির্মাণের আগেই দলিল মূলে লিখে দিয়ে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে অন্তত আড়াইকোটি টাকা হাতিয়ে নেন। পরবর্তীতে ভবনের কাজ শুরু না করে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি তারা গা ঢাকা দেন।

ভুক্তভোগিদের দাবি, কামাল হোসেন ও সায়মা আক্তার মায়া মিলনের কাছ থেকে ২৬ লাখ ৫০ হাজার, সুমির কাছ থেকে ৫ লাখ তার বোন রুমির কাছ থেকে ১২ লাখ, মনি বেগমের কাছ থেকে ৭ লাখ ৬০ হাজার, মিনা বেগমের কাছ থেকে ৫১ লাখ, শাহিদা আক্তারের কাছ থেকে ২০ টাকা ও ৫ ভরি স্বর্ণ, পলির কাছ থেকে ২৫ লাখ, আজম খানের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকাসহ আরও কয়েকজনের কাছ থেকে মোট আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নেন ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা বলে। এরমধ্যে কোনো কোনো ব্যক্তিকে তারা ফ্ল্যাটের জন্য দলিলও লিখে দেন। আবার কারো কাছ থেকে লিখিত ছাড়াই টাকা নেন।

ভুক্তভোগিদের একজন মণি বেগম জানান, কামাল হোসেন তার বাবার চাচাতো ভাই হোন। তিনি ও তার স্ত্রী সায়মা আক্তার মায়া আত্মীয় স্বজনদেরকে ফ্ল্যাট লিখে দেওয়ার কথা বলে গত বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে কয়েক মেয়াদে টাকা নেন। এরমধ্যে আমার কাঁ থেকে ৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা নেন। কথা ছিলো ফ্ল্যাট লিখে দিবেন। আমি এখানে ভাড়া থাকি। তাই একটি ফ্ল্যাট কিনবো ভেবে ধার দেনা করে আমিও টাকা দিই। বড় কথা হচ্ছে তারা আমাদের আত্মীয় হোন তাই বিশ্বাস করি। কিন্তু আমাদের অনেকের কাছ থেকে এভাবে টাকা নিয়ে জানুয়ারি মাসের ২৭ কি ২৮ তারিখে তারা দুজন গা ঢাকা দেন।

এদিকে অভিযুক্ত স্বামী স্ত্রী কামাল হোসেন ও সায়মা আক্তার মায়া নিজেদের অভিযোগ স্বীকার করেছেন। তারা জানিয়েছেন, আমরা টাকা নিয়েছি। ভবনের কাজও শুরু করছি। পাইলিং করেছি। কিন্তু ব্যবসায় মার খাওয়াতে বাকী কাজ ধরতে পারি নাই।

অভিযুক্ত সায়মা আক্তার মায়া টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা লাভে টাকা নিছি। বিনিময়ে সবাইকে চেক দিছি। চেকে টাকাও ফেরৎ দিমু। যার কাছ থেকে যত নিছি তা চেকে লেখা আছে।

২১ মে, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে