NarayanganjToday

শিরোনাম

চার্জশীটভুক্ত খুনীরা প্রকাশ্যে, দিচ্ছে হুমকি-আতঙ্কিত পরিবার


চার্জশীটভুক্ত খুনীরা প্রকাশ্যে, দিচ্ছে হুমকি-আতঙ্কিত পরিবার

২০১৬ সালে ১০ নভেম্বর ভোরে দেওভোগ নাগবাড়ী এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা নৃশংসভাবে কুঁপিয়ে হত্যা করে থানকাপর ব্যবসায়ী হৃদয় হোসেন বাবুকে। মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করার কারনেই তাকে এমন নির্মম ভাবে হত্যা করে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীরা। এ হত্যার মামলার প্রধান আসামী হাসান র‌্যাবের সাথে বন্ধুক যুদ্ধে নিহত হলেও বাকি আসামীরা এখনও রয়েছে বহাল তবিয়তে। আসামীরা বিভিন্ন সময়ে নিহত বাবুর পরিবারকে হুমকি ধ্বমকি দিচ্ছে।

বুধবার (২৯ মে) নগরীর দেওভোগ সাকিম আলী জামে মসজিদে হৃদয় হোসেন বাবু’র স্মরণে ইফতার মাহফিল ও দোয়া শেষে এমনটাই জানালেন বাবুর পরিবার।

আর আগে নিজ সন্তানের জন্য দোয়ার করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন বাবুর পিতা আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, পিতা মাতার কাঁধে সন্তানের লাশ, এর চাইতে বড় কষ্ট আর কিছু নেই। আমি এ কষ্ট সয্য করতে পারছি না। আমরা ভাবতেও পারিনি আমার ছেলেকে (হৃদয়) এভাবে হারাতে হবে। আমি আমার ছেলের সকল হত্যাকারিদের ফাঁসি চাই। তাহলেই ওর (হৃদয়) আত্মা শান্তি পাবে।

নিহত বাবুর ভাই সুজন অশ্রু ঝরা কন্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, হৃদয় হত্যা মামলার প্রধান আসামী হাসান র‌্যাবের ক্রস ফায়ারে নিহত হলেও বাকি আসামীরা বিশেষ করে র্চাটশীটভুক্ত ২য় আসামী তুহিন, শাহাদাৎ, সায়েম, শামীম ও জনীগংরা এখনো ধরাছোয়ার বাইরে। তারা এখনো দেওভোগ মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদকস্পর্ট চালাচ্ছে এবং প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, দেওভোগ মাদ্রাসার এলাকার কথিত যুবলীগ নেতা তাসলীমের সেল্টারের ওই আসামী ও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা নানা অপকর্ম সহ এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে চলছে। প্রকাশ্যে অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেফতারে ব্যর্থ হচ্ছে। আজ প্রায় আড়াই বছর পেড়িয়ে গেলেও আসামীরা গ্রেফতার না হওয়ায় বর্তমানে বাবু পরিবারের সদস্যরা হতাশার মধ্যে আছেন বলেও সাংবাদিকদের জানান তিনি।

তিনি সর্বশেষ বলেন, আমাদের বর্তমান পুলিশ সুপারের অনেক সুনাম শুনেছি। তিনি একটি সুন্দর নারায়ণগঞ্জ গড়ের লক্ষ্যে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ইতিমধ্যেই তিনি গোটা নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে ‘সিংহাম’ বলে খ্যাতি অর্জন করেছেন। তাই তার কাছে আমাদের আস্থার জায়গাটা অনেক। সেই আস্থার জায়গা থেকে আমাদের তথা এক অসহায় পরিবারের একটাই দাবি, হৃদয় হত্যা মামলার বাকি আসামীদের গ্রেফতার ও তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ যেন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। যাতে আমার মতো আর কাউকে ভাই হারাতে না হয়, আর কোন বাবা মাকে সন্তান হারা হতে না হয়।

পরে প্রয়াত হৃদয় হোসেন বাবুর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজানত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন, সাকিম আলী জামে মসজিদের খতিব আলহাজ্ব হাফেজ ফরিদ উদ্দিন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, মোহাম্মদ মাসুদ, দৌলত চৌধূরী, দুলাল মিয়া, জাকির হােসেন সেন্টু, আরমান, আলামিন, রাব্বি, রাসেল ও রিয়াদ নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
 
২৯ মে,২০১৯/এমএ/এনটি

উপরে