NarayanganjToday

শিরোনাম

একসঙ্গে জন্মেছিলেন দু’ বোন মারাও গেলেন এক সাথে


একসঙ্গে জন্মেছিলেন দু’ বোন মারাও গেলেন এক সাথে

মা এবং বাবা দুজনই নিজেদের মতো করে দ্বিতীয় বিয়ে করে চলে যান। রেখে যান তাদের জমজ মেয়ে মিতু ও মিলাকে। তারা আড়াইহাজার উপজেলায় নানী বাড়ি থেকেই বড় হয়। বর্তমানে তাদের বয়স ১৮। দু বোন বন্দর উপজেলার মদনপুরে একটি বিস্কুট ফ্যাক্টরীতে চাকরি করছিলো। ফ্যাক্টরীর পার্শ্ববর্তী এলাকাতেই ভাড়া একটি বাসা রয়েছে তাদের।

সূত্র জানায়, দুই বোনের মধ্যে মিতুর বিয়ে হয়েছে। শুক্রবার বন্ধের দিন থাকায় বৃহস্পতিবার তারা একসঙ্গে নানী বাড়ি আড়াইহাজার উপজেলার সীতারামকান্দিতে। শুক্রবার (২৮ জুন) সকালে তাদের মামা মোস্তফা ও মামীর সাথে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন মিতু ও মিলা। এক পর্যায়ে দুই বোনকে গালমন্দ করেন মামা ও মামি। পাশাপাশি তাদের চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলেন। এমনটি জানিয়েছেন মিতু ও মিলার নানী গোলবাহার।

তিনি জানান, মামা ও মামির গালমন্দে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিমানে দুই বোন সবার অলক্ষ্যে বাড়ির পুকুর পাড়ে গিয়ে একসঙ্গে কীটনাশক পান করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার ২ টায় তারা মারা যান।

স্থানীয় ২নং ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য মোহাম্মদ আলী জানান, ১৫ বছর আগে তাদের মা রহিমা খাতুন দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্যত্র চলে যান। এর পর বাবা নাঈমও দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তবে মিতু ও মিলা নানার বাড়ি সীতারামকান্দিতে থাকতো। নাঈম স্থানীয় উচিৎপুরা ইউনিয়নের আতাদীর সীতারামকান্দী এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নানী গোলবাহার বেগম ও নানা ছালাম মিয়া অনেক আদর যতেœ তাদের লালন পালন করেছে। তারা একসঙ্গে দুই নাতনিকে হারিয়ে বারবারই মূর্ছা যাচ্ছেন। এলাকাজুড়েও শোকের ছায়া বিরাজ করছে।

আড়াইহাজার থানার ওসি নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের পর সে কারণ জানা বলা যাবে।

২৯ জুন/এসপি/এনটি

উপরে