NarayanganjToday

শিরোনাম

যেভাবে ফাঁদে ফেলে ২০ ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে সেই লম্পট শিক্ষক


যেভাবে ফাঁদে ফেলে ২০ ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে সেই লম্পট শিক্ষক

সিদ্ধিরগঞ্জের অক্সফোর্ড স্কুলের শিক্ষক কতৃক ২০ শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনা নারায়ণগঞ্জের গন্ডি পেরিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। প্রায় প্রতিদিনই দেশের প্রভাবশালী বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে এ বিষয়টি নিয়ে নানা রকম প্রতিবেদন গুরুত্বেও সাথে প্রচার করছে। সেই সুবাদে দেশের সর্বস্তরের মানুষ ঘটনাটির খুটিনাটি জানতে পেরে ঘৃনা, ধিক্কার আর নিন্দার ঝড় তুলছেন।

তবে সবার মনে প্রশ্ন, ঘটনার মূলহোতা বিদ্যালয়ের সহকারী সিনিয়র শিক্ষক আরিফুল ইসলাম কীভাবে দিনের পর দিন এতগুলো  শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেছে? 

এই প্রশ্নের উত্তর খুজতে গিয়ে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তথ্যমতে জানা গেছে, চতুর আরিফ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাউকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে, কাউকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আবার কাউকে ব্লাকমেইল করে দিনের পর দিন তার শয্যাসঙ্গী করেছে। এরমধ্যে কারো বিয়ে হয়ে গেছে, কেউ অবিবাহিত। আবার কেউ মেয়ের সর্বনাশের বিষয়টি টের পেয়ে গোপনে মেয়েকে নিয়ে এলাকা ছেড়েছেন। আবার অনেকেই ঘটনা টের পেলেও লোক লজ্জার ভয়ে চুপ থেকেছেন। আর এই সুযোগটিই কাজে লাগিয়েছে লম্পট আরিফ। 

শুধু তাই নয়, এ ঘটনায় পাঁচ শিক্ষার্থী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। গোপনে আরিফ তাদের ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত করায়। এখানেই শেষ নয়, ঘটনা যাতে প্রকাশ না পায় এ জন্য আপত্তিকর ভিডিও এবং ছবি সংরক্ষণ করে ভুক্তভোগীকে ভয় দেখিয়ে সম্পর্ক বজায় রাখতো আরিফ।

আরিফের লালসার শিকারের কয়েকটি ঘটনার বিবরন

র‌্যাব, এলাকাবাসী, ও অভিভাবকমহলের তথ্যমতে, আরিফের প্রথম শিকার ২০১৪ সালে ৭ম শ্রেণির এক ছাত্রী। তার সঙ্গে পরিচয় হয় আরিফের। পরে ধীরে ধীরে ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়। বিভিন্ন সময়ে আরিফ ওই ছাত্রীকে তার ফ্ল্যাটে ১০ থেকে ১২ বার ডেকে নেয়। এরমধ্যে ৪ থেকে ৫ বার শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সম্পর্ক বজায় রাখে আরিফ। দুইবার ওই শিক্ষার্থীর পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যায় এবং অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে দুইবার পিল খাওয়ায় আরিফ। বর্তমানে ওই ছাত্রীর বয়স আঠারো।
আরেক ছাত্রী বর্তমানে বিবাহিত। সে আরিফের দ্বিতীয় শিকার। ২০১৫ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে আরিফ। ৯ম শ্রেণিতে পড়াকালীন তার সঙ্গে কৌশলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়। এর মধ্যে ২ থেকে ৩ বার ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে সেও অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে আরিফ বাসায় ডেকে নিয়ে ওষুধ খাইয়ে বাচ্চা নষ্ট করে ফেলে। এক পর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীর বিয়ে হয়ে গেলেও লম্পট শিক্ষক থামেনি। ব্লাাকমেইলিংয়ের মাধ্যমে বিয়ের পরও ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে সে।

তার তৃতীয় শিকার ১৭ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী। স্কুলে পড়াকালীন তাকে আরিফ ভালোবাসার ফাঁদে ফেলে দুইবার ধর্ষণ করে।
১৬ বছরের আরেক ছাত্রীকে ২০১৭ সাল থেকে বাসায় গিয়ে পড়াতো আরিফ। এরমধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে অসংখ্যবার ধর্ষণ করেছে সে। এরমধ্যে একবার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে তাকে ১৮ সালে যাত্রাবাড়ীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে তার গর্ভপাত ঘটানো হয়।

কে এই আরিফ

আরিফুল ইসলাম (৩০) মাদারীপুর সদর থানার শ্রীনদী (শিরখাড়া) এলাকার মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সে সবার বড়। সিদ্ধিরগঞ্জের পশ্চিম মিজমিজি মাদ্রাসা রোড এলাকায় বুকস গার্ডেনে ফ্ল্যাট নিয়ে বসবাস করতো। ২০০৪ সালে মাদারীপুরের হাসানকান্দি ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সি গ্রেডে (জিপিএ ২.৯৪) এসএসসি পাস করে। ২০০৬ সালে ঢাকার সরওয়ার্দী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে। ২০১২ সালে কবি নজরুল কলেজ থেকে বিবিএস ও ২০১৫ সালে গুলশানের মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ (এইচআরএম) পাস করে। তবে ২০০৯ সালে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজিতে অক্সফোর্ড হাইস্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেয়। বর্তমানে সিনিয়র সহকারী শিক্ষক।

০১ জুলাই,২০১৯/এমএ/এনটি
 

উপরে