NarayanganjToday

শিরোনাম

আমরা ঘুরি বিচারের দাবিতে খুনীরা বুক ফুলিয়ে দাপিয়ে বেড়ায় : মাসুম


আমরা ঘুরি বিচারের দাবিতে খুনীরা বুক ফুলিয়ে দাপিয়ে বেড়ায় : মাসুম

ত্বকী হত্যার পর থেকে প্রতি মাসেই এভাবে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে এই হত্যার বিচার দাবি করি। এই দাবি করতে করতে সাড়ে ৬ বছর চলে গেল কিন্তু বিচারের কোনো লক্ষণই দেখছি না। আমি হতবাক হয়ে যাই, কোনো মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবাবন্দীতে যার নামটা উঠে আসে আসে তাকে পুলিশ বা তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ তাকে আইনের আওতায় আনে।

সোমবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় ত্বকী হত্যার বিচার দাবিতে শহরের চাষাড়া শহীদ মিনারে প্রতি মাসের ধারাবিহক কর্মসূচি মোমশিখা প্রজ্জ্বলনে বক্তব্যকালে ওই কথা বলেন নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুম।

তিনি বলেন, আমরা আশ্চর্যজনক ভাবে দেখলাম যখন হাইকোর্টের নির্দেশে র‌্যাব এই হত্যার তদন্ত শুরু করলো। তখন একজন আইনের আওতায় আসলো। সে সিক্সটি ফোরে জবানবন্দি দিলো। সেখানে সে স্পষ্ট বললো যে, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে এই হত্যাকা- সংঘটিত হয়েছে। র‌্যাবের কর্মকর্তা জিয়াউল হাসান সংবাদ সম্মেলন ডেকে চার্জসিটের খসড়া কপি আমাদের গণমাধ্যকর্মীদের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, ‘১১ জনের কিলিং স্কোয়াড ত্বকীকে হত্যা করেছে’ তার নেতৃত্বে ছিলো আজমেরী ওসমান।

মাসুম বলেন, আমাদেরকে সেদিন বলা হলো খুব শিগগিরই এই চার্জসিট আদালতে দাখিল করা হবে। আসামীদের গ্রেফতার করা হবে। আমরা চার্জসিট পড়ে ত্বকী হত্যার সমস্ত বিবরণ জানলাম কীভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। সেখানে সব কিছুই বর্ণনা করা আছে চার্জসিটে। তারপরও আমরা দেখলাম অদৃশ্য রহস্যের কারণে চার্জসিট আর আদালতে জমা হলো না।

সাগর-রুনী হত্যাকা-ের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তারা ছিলেন আমাদের গণমাধ্যকর্মী। একটি নিউজকে কেন্দ্র করে তাদেরকে জবাই করে হত্যা করা হলো। আজকে পর্যন্ত এই মামলার অগ্রগতি হলো না। ধিক্কার দিই এই রাষ্ট্রকে, ধিক্কার দিই এই সরকারকে। ধিক্কার দিই এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। ধিক্কার দিই পুলিশের ওই আইজিপিকে। ধিক্কার দিই র‌্যাবের এই কর্মকর্তাকে।

সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রাণালয়কে একদিন দেশের মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে হবে মন্তব্য করে প্রেসক্লাব সভাপতি বলেন, সাগর-রুনীর হত্যার বিচার হচ্ছে না। ত্বকী হত্যার বিচার হচ্ছে না। তনু হত্যার বিচার হচ্ছে না। তনু একজন সাংস্কৃতিক কর্মী। কোথায় কীভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছিলো সব জানার পরও তার বিচার হচ্ছে না। এখন সরকারকে কাগজ কলম নিয়ে বসতে হবে, কোন হত্যার বিচার হবে? রিফাতকে হত্যা করা হয়েছে বড়গুনাতে। তার হত্যাকারীকে এনকাউন্টারে এই ঘটনাকে নসাৎ করতে চেয়েছে। এভাবে সরকার যদি বসে বসে এই প্ল্যানিং করে যে, কোনটার বিচার হবে, কোন পদ্ধতিতে, কোনটা এনকাউন্টার হবে, কোনটা হবে না, কোনটা ধরা যাবে না, কোনটা ছোঁয়া যাবে না, এই যদি সরকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অবস্থা, তাহলে একদিন আপনাদের দেশের মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

তিনি বলেন, ত্বকী কোনো অন্যায় করেনি। তার বাবা সিটি করপোরেশন নির্বাচন করেছিলো। এটাই ছিলো তার অন্যায়। এর জন্য ত্বকীকে অপহরণ করে, টর্চারসেলে হত্যা করে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেওয়ার কোনো অধিকার আপনাদের ছিলো না। তারপরও সেই খুনিরা বহাল তবিয়তে। খুনীরা আছে খুনীদের জায়গায়। বুক ফুলিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আর আমরা যারা তার অভিভাবক রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছি বিচারের দাবিতে। এই ঘোরার পরিণতিটা কিন্তু ভালো না। ইতিহাস কিন্তু তাই বলে। একদিন যখন সাগর-রুনী হত্যার মূল রহস্য বের হবে তখন কিন্তু জাতি অবাক হয়ে যাবে কি কারণে তাদের হত্যা করা হয়েছিলো। ত্বকী হত্যার বিচার হতেই হবে। যতদিন ওই খুনীদের বিচার না হবে ততদিন আমরা এই রাজপথ থেকে সরবো না। এই বিচার আমরা দেখতে চাই। সরকারকে বাধ্য করতে চাই।

নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের ব্যানারে অনুষ্ঠিতব্য মোম শিখা প্রজ্জ্বলন কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব হালিম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম প্রমূখ।

৮ জুলাই, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে