NarayanganjToday

শিরোনাম

কাউন্সিলর সাদরিলের বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন, এলাকাজুড়ে ক্ষোভ


কাউন্সিলর সাদরিলের বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন, এলাকাজুড়ে ক্ষোভ

অবশেষে কুমিল্লার সংরক্ষিত মহিলা এমপি সেলিনা ইসলামের গাড়ি ভাঙচুর মামলার আসামী বানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে কাউন্সিলর গোলাম মুহাম্মদ সাদরিলকে। তার বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে সিদ্ধিরগঞ্জ পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে প্রিজন ভ্যানে করে সাদরিলসহ আটক ১০ জনকে আদালতে আনা হয়। ১৭ জুলাই রাতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৫ নং ওয়ার্ডের ওমরপুর এলাকার কালু মিয়ার বাড়ির নিচতলা থেকে সাদরিলকে আটক করে পুলিশ।

সাদরিলের বিরুদ্ধে এমপির গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয় বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে। সংরক্ষিত মহিলা এমপি সেলিনা ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারি সোহেল বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।

এদিকে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কাউন্সিলর সাদরিলসহ আটক ১০ জনকে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে আদালত সূত্র নিশ্চিত করেছে। আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান হাবিব জানিয়েছেন, পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে তাদেরকে পাঠালে শুনানির দিন ধার্য রেখে তাদেরকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, ৫ নং ওয়ার্ডের ওমরপুর কালুর বাড়ির চারতলায় ভাড়া থাকেন সেলিনা ইসলামের বোন সালমা বেগম এবং বোন জামাই হাফেজ মোহাম্মদ। কিন্তু তাদের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিলো না দীর্ঘদিন ধরেই। এদিন রাতেও তারা দুজন মারামারি করেন। মূলত তাদের মধ্যে মিটামটাম করার জন্যই এমপি সেলিনা ইসলাম এখানে আসেন। তিনি এসেই উঠে যান বোনের ফ্ল্যাটে। তবে ফ্ল্যাটের ভেতর কি হয়েছে না হয়েছে সেটি এলাকাবাসীর জানা নেই।

এলাকাবাসী জানান, হঠাৎ করেই কালুর বাড়ির চারতলা থেকে ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ শব্দে চিৎকার ভেসে আসে। এ চিৎকারে এলাকাবাসী জড়ো হয় বাড়িটির নিচে। ঠিক ওই সময় হন্তদন্ত হয়ে নিচে নেমে আসছিলেন সেলিনা ইসলাম। উত্তেজিত হয়ে উঠে এলাকাসী। তাদের ধারণা ছিলো তিনি হয়তো কোনো ধরণের ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। এরমধ্যে বাইরে উত্তেজনা শুরু হয়। শোনা যায় সেলিনার পিএস অস্ত্র বের করে এলাকাবাসীকে ভয় দেখান। এতে করে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালিয়ে সেলিনাকে বহন করা গাড়ির কাঁচ ভাঙচুল চালায়। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় কাউন্সিলর গোলাম মুহাম্মদ সাদরিলও ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। ঘটনাটা কি সে জানতে তিনি নিচতলায় দাঁড়িয়ে কথা বলেন সেলিনা ইসলামের সাথে।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসির নেতৃত্বে একদল পুলিশ। আটক করা হয় কাউন্সিলর সাদরিলসহ দশজনকে। এলাকাবাসীর আপত্তি থাকা স্বত্বেও সাদরিলকে নিয়ে যাওয়া হয় থানায়। এনিয়ে এলাকজুড়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা বলছেন, কাউন্সিলর সাদরিলের ওই ঘটনার সাথে কোনো রকম সম্পৃক্ততা ছিলো না। বরং কোনো ধরণের ঝামেলা যাতে না হয় সে জন্যই কাউন্সিলর ছুটে গিয়েছিলেন। তারপরও এমপির মন খুশি করতে তাকে আটক করা হয়। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত নানা দেনরবার। মামলা দেওয়া না দেওয়া নিয়ে চলে নানা কৌশল।

তবে, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মীর শাহিন শাহ পারভেজ জানিয়েছিলেন, মামলার প্রস্তুতি চললামন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। ঘটনাস্থলে কাউন্সিলর সাদরিলকে পাওয়া গেছে। তাই তাকে আটক করা হয়েছে।

মামলার বাদী কে হচ্ছেন জানতে চাইলে ওসি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। শুধু এটুকু বললেন, এমপি সাহেবের ব্যক্তিগত সহকারি মামলার বাদী হতে পারেন।

এদিকে এলাকাবাসী বলছেন, একজন কাউন্সিলর হিসেবে সাদরিল হইচই শুনে গিয়েছিলেন। তিনি যেতেই পারেন। তাই বলে বিনা অপরাধে তাকে আটক করে নিয়ে যাবে! তাহলে তো কোনো জনপ্রতিনিধিই নিজ এলাকায় কোনো ঝামেলা হলে এগিয়ে যাবেন না। এটা ভীষণ অন্যায়।

এছাড়াও তারা বলেন, তিনি একজন এমপি হতে পারেন। তাতে কি? আইন তো সবার জন্যই সমান। তিনি এক এলাকার  হয়ে আরেক এলাকায় এসেছেন এবং কোনো সিকিউরিটিও ছিল না তার সাথে। এ অবস্থাতে তিনি যেভাবে প্রভাব বিস্তার করেছেন তা কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। মূলত এমপি নিজেই অন্যায় করেছেন। কেননা, তিনি আরেকটি অঞ্চল থেকে এখানে এসেছেন। আসার পূর্বে তিনি কেন স্থানীয় থানা পুলিশকে জানিয়ে তাদের থেকে সিকিউরিটি নিয়ে আসলেন না? তাছাড়া তার পিএস কেন পিস্তল উঁচিয়ে এলাকাবাসীকে ভয় দেখাতে গেলেন? এমন আরও নানা প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর মধ্যে।

১৮ জুলাই, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে