NarayanganjToday

শিরোনাম

আদালতে বুলেটের দায় স্বীকার : ১৫-২০ জন মিলে হত্যা করে শাকিলকে


আদালতে বুলেটের দায় স্বীকার : ১৫-২০ জন মিলে হত্যা করে শাকিলকে

১৫ থেকে ২০ জন সম্মিলিত ভাবে শাকিলকে হত্যা করেছে বলে দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে গ্রেফতার বুলেট। তবে, সে আদালতের কাছে ৮ জনের নাম জানালেও অন্যদের নাম জানাতে পারেনি।

বুধবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৪ টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহম্মেদ হুমায়ূন কবীরের আদালতে ওই জবানবন্দি প্রদান করে শাকিল হত্যায় গ্রেফতার বুলেট।

এর আগে ২৭ জুলাই রাতে সজীব নামে এক যুবককে কোপাচ্ছিলো স্থানীয় সন্ত্রাসী তুহিন, চান্দু, নিক্সনসহ আরও কয়েকজন। অন্যান্য পথচারীদের সাথে শাকিলও এগিয়ে গিয়েছিলো বিপদগ্রস্থ ব্যক্তিকে রক্ষা করতে। এসময় সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনার পরদিন চান্দুকে গ্রেফতার করে পুলিশ এবং ৩০ জুলাই সকালে মুন্সিগঞ্জে অভিযান চালিয়ে বুলেটকে গ্রেফতার করে একই থানা পুলিশ।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন জবানবন্দির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শাকিল হত্যায় গ্রেফতার বুলেট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহম্মেদ হুমায়ূন কবীরের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। পরে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন।

এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজান জানন, শাকিল হত্যায় ৩০ জুলাই সকালের দিকে মুন্সিগঞ্জ থেকে বুলেটকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সে এই হত্যায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হয়।

মিজান বলেন, বুলেট জানিয়েছে, সে হাসেম বাগ এলাকার মাদক ব্যবসায়ী তুহিনের সহযোগি। তারা ইয়াবা সাপ্লাইয়ার। প্রতিদিনের মতো ২৭ জুলাই রাতেও তারা ইয়াবা সাপ্লাই করছিলো। এসময় একটি হোন্ডার হেড লাইটের আলো তাদের চোখে এসে পড়লে সেই হোন্ডারোহী সুভাষকে  তারা আটকায় এবং তর্কে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে হোন্ডারোহীকে মারধর শুরু করে তারা। এসময় হোন্ডা চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে কোপানো হয়। পরে চিৎকার চেচামেচি শুনে পাশের রিকশার গ্যারেজ থেকে শাকিল ও সজীব বেরিয়ে আসে।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের মধ্যে তুহিনকে চিনে ফেলে শাকিল। এসময় শাকিল তাকে বলে, ‘তোমরা এলাকার মধ্যে এসব কি শুরু করেছো। ছাড়ো ওরে।’ এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে তুহিনসহ তার সাথে থাকা অন্যরা। পরে তুহিনসহ অন্যরা শাকিলসহ অন্যদের এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এক পর্যায়ে শাকিল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

২৭ জুলাই রাত পৌনে ১১টার দিকে সুভাষ মোটরসাইকেলযোগে শহরের ২নং রেলগেট এলাকা থেকে বাংলাবাজার বাসায় ফেরার পথে পশ্চিম দেওভোগ হামেম বাগ এলাকায় ক্রসফায়ারে নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসী হাসান গ্রুপে সক্রিয় সদস্য মাদকের ডিলার তুহিন, নিক্সন, চান্দুর চোখে তাদের হেডলাইটের রিশ্ম পড়ে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আরোহীদের গতিরোধ করে তাদেরকে চড়-থাপ্পর দেয়। এতে তারা সন্ত্রাসীদের প্রতিবাদ করলে তাদের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতড়ি ভাবে কোপাতে থাকে। সুভাষের চিৎকার শুনে শাকিলসহ অন্যরা ছুটে আসলে সন্ত্রাসীরা তাদেরকেও এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এসময় শাকিলসহ অন্তত ৮ জন আহত হয। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে শাকিল মারা যায়।

৩১ জুলাই, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে