NarayanganjToday

শিরোনাম

কোরবানি হাটের প্রথম হিন্দু নারী ইজারাদার রূপগঞ্জের শীলা পাল


কোরবানি হাটের প্রথম হিন্দু নারী ইজারাদার রূপগঞ্জের শীলা পাল

নাম তার শীলা পাল। নামেই বোঝা যায় তিনি সনাতন ধর্মের লোক। সিঁথিতে সিঁদুর, হাতে শাখা পলা। তাকে দেখেও কারো বুঝতে কষ্ট হবার নয় তিনি একজন সনাতন নারী। তারপরও তিনি ঈদুল আযাহা উপলক্ষে আয়োজিত পশুর হাট ইজারা নিয়েছেন। এ নিয়ে সর্বত্র চলছে আলোচনা।

তবে, আলোচনায় থাকা এই নারীর ভাষ্য, এখানে হিন্দু মুসলিম বলে বিভাজন নেই। আমরা মানুষ। মানুষ হিসেবেই আমি এ হাট ইজারা নিয়েছি। উল্লেখ, এর পূর্বে দেশের কোনো অঞ্চলে কোনো হিন্দু নারীর রেকর্ড নেই কোরবানির হাট ইজারা নেওয়ার। ফলে এ নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে।

শীলা পাল রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং তিনি উপজেলার ভুলতা এলাকার তপন পালের স্ত্রী। সে এবারের উপজেলার ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের পশ্চিম পাশের আমবাগান অস্থায়ী পশুর হাটের বৈধ ইজারাদার।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, উপজেলার ১২ স্থানে অস্থায়ী পশুর হাটের দরপত্র আহ্বান করা হয়। এরমধ্যে ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের পশ্চিম পাশের আমবাগান পশুর হাটের জন্য ২ লাখ টাকা সরকারি দও আহ্বান করা হলেও এই হাটের জন্য একাধিক ব্যক্তি দরপত্র জমা দেন। এরমধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে শীলা পাল ৮ লাখ ৭৫ হাজার দর হাঁকেন। ফলে তাকে বৈধভাবে ইজারাদার হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তিনি তার ডাকমূল্যর সাথে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ আয়কর মূল্য পরিশোধ করেলে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম তাকে বৈধ ইজারাদার হিসেবে ঘোষণাপত্র তুলে দেন।

এদিকে একজন সনাতন ধর্মের নারী হয়ে কোরবানির হাট ইজারা নেওয়ার ঘটনা বাংলাদেশে এবারই প্রথম বলে অনেকেই মন্তব্য করেন। এ নিয়ে গত দুদিন ধরেই চলছে নানা আলোচনা। অনেকে এ নিয়ে বিস্ময়ও প্রকাশ করেছেন। তবে, কারো কারো মতে, এটাই প্রকৃত অসাম্প্রদায়িকতা।

এ সম্পর্কে শীলা পাল বলেন, হিন্দু-মুসলমানের মাঝে কোনো ভেদাভেদ নেই। ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ ভুইয়ার স্ত্রী শামীমা সুলতানা ঝিনুকসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতায় হাট বসানো হয়েছে। বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে এখানে পর্যাপ্ত পরিমান পশু উঠেছে। ইতিমধ্যে হাট জমে উঠেছে। পশু ক্রয় করে নিরাপদে নিয়ে যাওয়া ও পশু ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

ভুলতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল ভুইয়া বলেন, আমরা সকলেই এ হাটের দায়িত্ব পালন করছি। শুধু হাট নয়, সকল কার্যক্রমে হিন্দু-মুসলমান সকলে মিলেমিশে চালিয়ে যাচ্ছি।

উপজেলার পশুর হাটগুলো পরিদর্শন শেষে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী শীলা পালের হাট সম্পর্কে বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সেতুবন্ধনের এই দেশে আমরা সকল ধর্মের মানুষ ভালো আছি। আমরা একে অপরের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে তা প্রমাণ করে দিয়েছি। আর এ পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে তিনি নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

৭ আগস্ট, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে