NarayanganjToday

শিরোনাম

পরপর দুই হত্যায় কুতুবপুর জুড়ে ফের আতঙ্ক


পরপর দুই হত্যায় কুতুবপুর জুড়ে ফের আতঙ্ক

রাত পোহালেই ঈদ। তাই সকল কাজকর্ম শেষ করে ঈদের বাজার করে বাসায় ফিরছিলো রাকিব (২০)। ভোরের আলো ফুটতে আর মাত্র দুই এক ঘণ্টা বাকি। কিন্তু সেই ভোরের আলো ফুটে উঠার আগেই রাকিবের জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দিলো কয়েকজন দুর্বৃত্ত। দুর্বৃত্তরা অনেকটা ফ্লিমি স্টাইলে রাস্তার উপর প্রকাশ্যেই রাকিবকে চোর আখ্যা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে।

নির্মম এই ঘটনাটি ঘটেছে ঈদের দিন ভোর রাতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুরের পাগলা রেলস্টেশন এলাকায়।

নিহত রাকিব নয়ামাটি মুসলিমপাড়া এলাকার মজিদ হাওলাদারের বাড়ির ভাড়াটিয়া নওশেদ বেপারীর ছেলে। তার গ্রামের বাড়ি শরিয়তপুর জেলার নয়াপাড়ার নড়িয়ায়। সে ফতুল্লার নয়ামাটি এলাকায় কাদিরের ভাঙ্গারির দোকানের কর্মচারি।

হত্যাকান্ডের সময় রাকিবের সঙ্গে থাকা তার বন্ধু আব্দুল্লাহ জানান, রাত সাড়ে ৩টার সময় পাগলা বাজার থেকে কেনাকাটা করে একটি রিকশায় রাকিবের সঙ্গে বাসায় ফিরছিলেন সে। এসময় পাগলা রেলষ্টেশন এলাকায় আসলে একই এলাকার গিয়ার মানিক সহ ৪/৫ জন পথরোধ করে রিকশাটি আটকায়। তখন দুর্বৃত্তরা আব্দুল্লাহকে রিকশা থেকে নামিয়ে চোর চোর বলে ধাওয়া দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। এর কিছুক্ষণপর আব্দুল্লাহ এসে রাকিবের রক্তাক্ত মরাদেহ পড়ে থাকতে দেখে।

রাকিবের বাবা নওশেদ বেপারী জানান, তার দুই মেয়ে এক ছেলে। এদের মধ্যে রাকিবই এক মাত্র রোজগারক্ষম ছেলে। ভাঙ্গারির দোকানে কাজ করে সংসার চালাতো। কি কারনে রাকিবকে খুন করা হয়েছে তা তিনি জানেন না। তবে খুনিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

এবিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, তাৎক্ষিনক হত্যার কারন জানা যায়নি। তবে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে এর একদিন আগে জুম্মন নামে আরেক যুবককে চোর আখ্যা দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষের লোকজন। জুম্মন কুতুবপুরের রঘুনাথপুরের কাইয়ূমের ছেলে। পরপর এ দুটি হত্যাকা-ের মধ্য দিয়ে কুতুবপুরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা বলছে, একসময় সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে পরিচিত ছিলো কুতুবপুর। মাঝে কিছু সময় শান্ত থাকলেও এই দুটি হত্যাকা-ের মধ্য দিয়ে আবারও সেই পূর্বের অবস্থানে ফিরে যাচ্ছে এই অঞ্চলটি। একটা সময় এখানে প্রায় প্রতিদিনই রক্তপাত হতো।

অনেকের ধারণা, কুতুবপুরে মাদকের ব্যবসা অন্য যে কোনো এলাকার থেকেও বেশি। তাই ধারণা করা হচ্ছে পরপর ওই দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা মাদক ব্যবসার আধিপত্যকে কেন্দ্র করেই সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে।

১৩ আগস্ট/এসপি/এনটি

উপরে