NarayanganjToday

শিরোনাম

খানপুরে ফয়সাল খুন : প্রেমিকার পরিবারের হুমকিতে আতঙ্ক


খানপুরে ফয়সাল খুন : প্রেমিকার পরিবারের হুমকিতে আতঙ্ক

শহরের খানপুর এলাকার কিশোর ফয়সাল হোসেন হত্যা মামলার আসামিরা নিহতের পরিবারের লোকজনকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় নিহতের পিতা মো. নুরুজ্জামান জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শনিবার (২৪ আগস্ট) ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

ডায়েরিতে সিদ্ধিরগঞ্জের পশ্চিম এনায়েত নগর এলাকার মো. আলতাফ মিয়া (৪৫), মোশারফ হোসেন (৪০) ও নগর খানপুর এলাকার আব্দুর ফিটারসহ (৪২) অজ্ঞাত আরো ৩/৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ দিন পূর্বে উক্ত আলতাফ মিয়ার ছেলে আসফি (১৯), মোশারফ হোসেনর ছেলে রওনক হোসেন সানজি (২০) ও আব্দুর ফিটারের ছেলে মো. মিলন (১৯) একত্রিত হয়ে আমার ছেলে মো. ফয়সাল হোসেনকে (১৯) হত্যা করে। পরবর্তীতে আমি উক্ত বিবাদীগণের ছেলেদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করি। তাদের বিরুদ্ধে এই মামলা এখনো চলমান।

নুরুজ্জামান বলেন, ‘গত ২২ আগস্ট দুপুর ২ টায় ফতুল্লা থানাধীন নতুন কোর্ট এলাকায় মো. আলতাফ মিয়া, মোশারফ হোসেন ও আব্দুর ফিটারসহ আরো অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন আমার স্ত্রী শিউলি বেগমকে (৪০) দেখে তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা তুলে নিতে বলে। আমার স্ত্রী মামলা তুলবে না জানালে তারা আমার স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আমার স্ত্রী গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে মারধর করতে উদ্যত হয়। তারা বলেন তুই বা তোরা যদি মামলা তুলে না নেস তাহলে তোদেরকে জানে মেরে ফেলবো নতুবা যে কোনো মিথ্যা মামলায় ফাসাইয়া দেবো বলে হুমকি দেয়। তারা আরো বলে, যদি মামলা তুলে না নেস তাহলে আমাদের ছেলেদের তো জামিনে ছাড়িয়ে নেবোই এবং তোদের দুই ছেলে মো. সজিব (২৬) ও মো. ফাহিমকে (১২) প্রানে মেরে ফেলবো।

নিহত ফয়সালের পিতা বলেন, ‘তারা আমার ও আমার ছেলেদের ক্ষতি করতে পারে বলে আমার আশঙ্কা হচ্ছে। আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

প্রসঙ্গত, খানপুরের বরফকল এলাকার সামিয়া আক্তারের (১৪) সঙ্গে ফয়সালের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সামিয়ার একটি নষ্ট ফোন সে ফয়সালকে মেরামত করতে দিয়েছিল। বুধবার (৩১ জুলাই) সেই ফোনটি মেরামত করে সামিয়ার বাসায় দিয়ে আসতে যায়। তাকে বাড়িতে দেখে সামিয়ার ভাই আসিফ তার বন্ধুদের ডেকে এনে মারধর করে। মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের পিতা নুরুজ্জামান বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন, নিহত ফয়সালের প্রেমিকা সামিয়ার ভাই ও আলতাব মিয়ার ছেলে আসিফ (১৯), আসিফের পাঁচ বন্ধু যথাক্রমে মোশারফ হোসেনের ছেলে রওনক হোসেন সানজি (২০), একই এলাকার আব্দুর রউফের ছেলে মিলন (১৯), আলম মিয়ার ছেলে সাকিব হোসেন (১৯), সৈয়দ কাইয়ুম হোসেনের ছেলে সৈয়দ সায়ীম হোসেন (১৯), জিসান দেওনজীর ছেলে শাওন বিন দেওনজী ওরফে মিম (১৯)। আসামিরা সকলেই নগর খানপুর এলাকার বাসিন্দা। আসামিদের মধ্যে শাওন দেওনজী পলাতক রয়েছে।

২৪ আগস্ট, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে