NarayanganjToday

শিরোনাম

ফতুল্লায় নিজ স্কুলেই শিক্ষক দ্বারা যৌন-হয়রানির শিকার ছাত্রী


ফতুল্লায় নিজ স্কুলেই শিক্ষক দ্বারা যৌন-হয়রানির শিকার ছাত্রী

ফতুল্লার নবীনগর শাহওয়ার আলী উচ্চবিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে যৌন-হয়রানির অভিযোগ উঠেছে একই স্কুলের শিক্ষক আরমান হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হয়রানির শিকার ছাত্রীর অভিভাবক স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির কাছে অভিযোগ দিয়েছেন।

এদিকে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে, এই কমিটিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের বড় ভাই কোরবান আলী প্রধান ওরফে দ্বিতানও রয়েছেন। কিমিটির অন্য সদস্যরা হলেন নাসির উদ্দিন এবং শ্রেণি শিক্ষিকা শারমিন সুলতানা। স্কুলটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ভিকারুননিসা নূন স্কুলের অধ্যক্ষ হামিদা আলী।

 অভিযোগ উঠেছে, তারা ছাত্রীকে যৌন হয়রানির ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার তৎপরতা করছে। ‘পুরো বিষয়টি মিথ্যা’ এমনটাই এই কমিটি প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে তারা। আর তা না হলে অভিযুক্ত শিক্ষক আরমান হোসেনের ভাই এই তদন্ত কমিটিতে কীভাবে থাকেন?

সূত্র জানায়, ২০ আগস্ট দুপুরের দিকে নবীনগর শাহওয়ার আলী উচ্চবিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক শিক্ষিকাই লাঞ্চে ছিলেন। একমাত্র আরমান হোসেনই স্কুলটির অফিস রুমে বসা ছিলেন। এসময় এই স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী অফিসরুমে পানি পানের জন্য গেলে ওই শিক্ষক তাকে জড়িয়ে ধরেন এবং স্পর্শকাতর স্থান হাত বুলিয়ে যৌন-হয়রানি করেন। এ বিষয়টি শিক্ষার্থী তার পরিবারকে জানালে ২২ আগস্ট তারা লিখিত ভাবে পুরো ঘটনাটি প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশিদের কাছে জানান। পরবর্তীতে এ নিয়ে ২৪ আগস্ট স্কুল কমিটি জরুরী সভা ডাকেন এবং এদিনই তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশিদ এর সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়ে আমাদের সভাপতিকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে তিনি মিটিং কল করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেন।’

তিনি বলেন, ‘স্কুল কমিটির চার সদস্যের মধ্যে দুজন হজে ছিলেন। ফলে অবশিষ্ট যে দুজন ছিলেন তাদেরসহ ওই ছাত্রীর শ্রেণি শিক্ষিকাকে নিয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে তারা তদন্ত রিপোর্ট জমা দিবেন। এরপর রিপোর্ট মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

তদন্ত কমটিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের ভাই। সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হবে। এমন অভিযোগ রয়েছে, এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হারুনুর রশিদ বলেন, ‘একজন না হয় তার ভাই। শিক্ষিকা আছেন। ব্যাহত হবে বলে মনে হয় না। তারপরও যদি ছাত্রীর অভিভাবক অভিযোগ দেন তখন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষক আরমান হোসেনের দাবি, তার পরিবারকে সবাই চিনে। তারা কেমন মানুষ তা সবাই জানে। তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। সুষ্ঠু তদন্ত হলে আসল সত্য বেরিয়ে আসবে।

অপরদিকে এ ঘটনার পর ভুক্তভোগি শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের মাঝে একটা চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, অভিযুক্ত শিক্ষক আরমান হোসেনকে বাঁচানোর জন্যই এমন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির দ্বারা সুষ্ঠু তদন্ত কোনো ভাবেই পাওয়া যাবে না।

২৯ আগস্ট, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে