NarayanganjToday

শিরোনাম

তিনি অয়ন ওসমানের সম্বন্ধি তাই ডেমকেয়ার, প্রকাশ্যে চালান তাণ্ডব


তিনি অয়ন ওসমানের সম্বন্ধি তাই ডেমকেয়ার, প্রকাশ্যে চালান তাণ্ডব

৩০ আগস্ট দিবাগত রাত তখন সোয়া ১২ টা। হঠাৎ করেই চাষাড়ার মোড় ট্রাফিক সিগন্যালের সামনে মানুষের জটলা। একজন বিশাল দেহের চাপ দাড়িওয়ালা যুবক একজন কিছুটা চিকন গড়নের যুবক। দুজন মিলে একটি সিএনজি চালককে বেধড়ক পেটাচ্ছেন। চারদিকে লোকজন জড়ো হয়ে দেখছিলেন সে দৃশ্য। কেউ এগিয়ে যাচ্ছিলেন না।

সিনেমার বখাটে মাস্তানদের মতো তারা লোহার স্টিক দিয়ে সিএনজি চালকটিকে পিটিয়েই যাচ্ছে। আর চালক বারবারই বলছিলো, ‘আমার কি দোষ, আমারে মারেন ক্যান’ এমন কথা বলার সাথে সাথে পেটানোর গতি আরও তীব্র হয়। এক পর্যায়ে যুবকদ্বয়ের পেটানিতে চালকের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তপাতও হয়। তবুও তারা থামছিলো না।

এমন দৃশ্য দেখে প্রথমে মনে হয়েছিলো সিনেমার স্যূটিং। কিন্তু না। দৃশ্যটি মোটেও সিনেমার স্যূটিং ছিলো না। ছিলো মধ্য রাতে ভগ্নিপতির ক্ষমতায় ক্ষমতা দেখানোর মহড়া। তিনি শহরের প্রভাবশালী সাংসদ শামীম ওসমানপুত্র অয়ন ওসমানের সম্বন্ধি। নাম তার ভিকি। সাথে ছিলো তার বন্ধু। এই ভিকির বাবার নাম ফয়েজউদ্দিন লাভলু।

তবে, ভিকি তার বাবার পরিচয়ের বাইরে এখন প্রভাব বিস্তার করেন ভগ্নিপতি অয়ন ওসমানের নামেই। শামীম ওসমানের ছেলের সম্বন্ধি। তাই সবাই তাকে সমিহও করেন। একের পর এক অপকর্ম করে বেড়ালেও এখনও পর্যন্ত পুলিশ তার একটি ক্যাশও স্পর্শ করতে পারেনি। ফলে দিন দিন সে আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠছে। হয়ে উঠছে অপ্রতিরুদ্ধ।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র বলছিলো, ভিআইপি সাইরেন বাজিয়ে বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসছিলো ছাই রঙের একটি প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো গ ১৩-৩২৯৬)। কারটি চাষাড়া মোড়ের ট্রাফিক সিগ্যানালে আসতেই সাইনবোর্ডমুখী একটি সিএনজির সামনে অংশে ঘেঁষে যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয় সিএনজিটি। কিন্তু প্রাইভেট কারটি মাঝ পথে থামিয়ে ড্রাইভিং সিট থেকে নেমে আসে অয়ন ওসমানের বন্ধু ভিকি। তার সাথে আরও এক যুবক। সাথে সাথেই রাস্তার উভয় দিকের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী বলছেন, গাড়ি থেকে নেমেই ভিকি ও তার সাথে থাকা অপর যুবকটি সিএনজি চালককে বের করে প্রথমে লাত্থি আর ঘুষি মারতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে ভিকি তার প্রাইভেট কারের ব্যাকডালা খুলে একটি লোহার স্টিক বের করে আনেন। সেটি দিয়ে সিএনজি চালককে প্রকাশ্যেই বেধড়ক পেটাচ্ছিলেন। তাদের উভয়ে পেটানিতে সিএনজি চালকের নাকে মুখে রক্তপাতও ঘটে। তবে, ওই সময় এই দৃশ্যটি অনেকেই দেখছিলেন। কিন্তু অয়ন ওসমানের সম্বন্ধি হওয়াতে কেউ তাকে বাধা দেওয়ার সাহস দেখাতে পারেননি।

ভিকির বেপরোয়া তা-বের শিকার সিএনজি চালক কামাল হোসেন। সে মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ি থানার পাঁচগাও গ্রামের মৃত সুলতান শেখের ছেলে। সে জানায়, চারজন যাত্রী নিয়ে সাইনবোর্ড যাচ্ছিলাম আমি। চাষাড়া মোড় দিয়ে সাইনবোর্ডের দিকে ঢুকতেই পুলিশের গাড়ির মতো হর্ণ বাজিয়ে একটি প্রাইভেট কার দ্রুত গতিতে এসে সামনে পড়ে। আমি প্রথম মনে করি এটি পুলিশের গাড়ি। তাৎক্ষণিক আমি ব্রেক কষি। তারপরও প্রাইভেট কারটির মাঝামাঝি অংশ আমার সিএনজির সামনের অংশ ঘেঁষে চলে যায়।

তিনি বলেন, আমার কোনো দোষ ছিলো না। রাস্তা ফাঁকা পেয়েই আমি মোড় দিয়ে সাইনবোর্ডের দিকে প্রবেশ করছিলাম। বরং তারা কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করেই পুলিশের মতো সাইরেন বাজিয়ে আসছিলো। এরপরই গাড়ি থেকে নেমে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে আমাকে লোহার লাঠি দিয়ে হাতে পায়ে পিঠে ইচ্ছে মতো পেটাতে থাকে। তারা আমাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। তারপরও থামছিলো না। তাছাড়া আমাকে মেরেই তারা ক্ষান্ত হননি। লোহার লাঠি দিয়ে আমার সিএনজিটিও ভেঙে দিয়েছেন তারা।

এদিকে অন্য একটি সূত্র জানায়, সাংসদ শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমানের সাথে ভিকির বোনের বিয়ে হওয়ার পর থেকেই সে অপ্রতিরূদ্ধ হয়ে উঠে। তার আচরণ এতটাই বেপরোয়া যা দেখে অনেকেই বলে উঠেন, ‘একেই বলে বার হাত কাকড়ের তের হাত বিঁচি’।

সূত্র জানায়, ভিকির বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এরমধ্যে ২৯ মার্চ জামতলায় এক প্রবাসীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে ফতুল্লা মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। এছাড়া ১৯ জুন পাটের বস্তা ছিনতাইয়ের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। পুলিশ অভিযান চালিয়ে তার হেফাজত থেকে পাটের বস্তা উদ্ধার করতে পারলেও তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এছাড়াও গাবতলীর অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী পিচ্চি মিজানকে শেল্টার দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

৩১ আগস্ট, ২০১৯/এসপি/এনটি

উপরে